জেলা প্রতিনিধি
১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ০৭:৩৬ এএম
কক্সবাজার সমুদ্র উপকূলে ভেসে আসছে একের পর এক মৃত ডলফিন। চলতি বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৬টি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছে।
সর্বশেষ শুক্রবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে উখিয়ার সোনারপাড়া সৈকতে ও ইনানী সৈকতে দুটি মৃত ডলফিন ভেসে আসে। শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহের পর মৃত ডলফিন দুটিকে সৈকতের বালিয়াড়িতে মাটি চাপা দেওয়া হয়। সোনারপাড়া সৈকতে পাওয়া মৃত ডলফিনটি ইরাবতি প্রজাতির। এর দৈর্ঘ্য ছিল ৪ ফুট ৩ ইঞ্চি। ইনানী সৈকতে পাওয়া ডলফিনটি ইন্দো প্যাসিফিক হ্যাম্পব্যাক প্রজাতির। এই ধরনের স্তন্যপায়ী ডলফিনের শরীরে একটি কুঁজ এবং একটি দীর্ঘ সরু চঞ্চু থাকে।
জানা যায়, গত চার বছরে ২৩টি মৃত ডলফিন পাওয়া যায় কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকাগুলো থেকে। ২০২৩ সালে পাওয়া যায় ৪টি মৃত ডলফিন। ২০২২ সালে ৩টি এবং ২০২১ ও ২০২০ সালে উপকূলীয় অঞ্চল থেকে উদ্ধার করা হয় ১০টি মৃত ডলফিন।
বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউট সূত্রে জানা গেছে, কক্সবাজারের সেন্টমার্টিন, সোনাদিয়া উপকূল, টেকনাফ, ইনানী, হিমছড়ি ও নাজিরারটেক এলাকায় ডলফিনের বিচরণ সবচেয়ে বেশি। এসব ডলফিন জেলেদের জালে আটকা পড়ে অথবা সামুদ্রিক জলযানে আঘাত প্রাপ্ত হয়ে মারা যায়। বিভিন্ন সময় যেসব মৃত ডলফিন পাওয়া যায় তাদের অনেকের শরীরে জাল প্যাচানো অবস্থায় পাওয়া যায়। ডলফিনের শরীরে মাংসের চেয়ে চর্বির পরিমাণ বেশি, তাই এসব প্রাণী অল্প আঘাতে মারা যেতে পারে।
বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা তরিকুল ইসলাম জানান, বিভিন্ন সময় কক্সবাজারের উপকূলীয় এলাকা থেকে মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়েছে। গত চার বছরে অন্তত ২৩টি মৃত ডলফিন উদ্ধার করা হয়। এসব প্রাণী মারা যাওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে বাসস্থানের ক্ষতি, জল দূষণ, উপকূলীয় এলাকায় উন্নয়ন, অতিরিক্ত মাছ ধরা এবং এর স্তরের মধ্যে সামুদ্রিক যানবাহনের বৃদ্ধির কারণে হুমকির সম্মুখীন ডলফিন। ধারণা করা হচ্ছে, আবাসস্থলের অবক্ষয় এবং মাছ ধরতে যাওয়া ট্রলার-জাহাজ বা জেলেদের জালে দুর্ঘটনা জনিতভাবে আটকা পড়ে আহত হয়ে বা আঘাতপ্রাপ্ত হয়ে এসব প্রাণী মারা যাচ্ছে।
সাংবাদিক আহমদ গিয়াস বলেন, ডলফিন ২০১২ সালের বন্যপ্রাণী (সংরক্ষণ ও নিরাপত্তা) আইনে সংরক্ষিত প্রজাতি হিসেবে চিহ্নিত। কিন্তু গত কয়েকদিনে উপকূলে একাধিক মৃত ডলফিন ভেসে এসেছে। ডলফিন আমাদের পরিবেশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রাণী। এছাড়া এসব প্রাণী ইকোসিস্টেমের জন্যেও গুরুত্ব বহন করে। ডলফিন কি কারণে মারা যাচ্ছে বিষয়টি ফরেনসিক তদন্তের মাধ্যমে উদঘাটন করা জরুরি। কেন বা কীভাবে সমুদ্রের গুরুত্বপূর্ণ এই প্রাণী বারবার মারা যাচ্ছে সেসব বিষয়ে সঠিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে ফলাফল বের করা উচিত।
বাংলাদেশ সমুদ্র গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বোরি) মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. তৌহিদা রশীদ বলেন, প্রাণীগুলোর মৃত্যুর কারণ অনুসন্ধানে নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। নানা কারণে সাগরে এসব প্রাণীর মৃত্যু ঘটতে পারে। তবে প্রাণীগুলোর আবাসস্থলে কোনো বড় ধরনের সমস্যা হয়েছে কি না, তা অনুসন্ধানে বিজ্ঞানীরা কাজ করছেন। সম্ভাব্য কারণ খুঁজে বের করে সামুদ্রিক প্রাণী সংরক্ষণে জনসচেতনতা বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হবে।
প্রতিনিধি/টিবি