জেলা প্রতিনিধি
৩১ জানুয়ারি ২০২৪, ০১:৪২ পিএম
ইজতেমার নিরাপত্তায় ৭ স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন র্যাবের মহাপরিচালক এম খুরশীদ হোসেন।
বুধবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে ইজতেমা ময়দানে র্যাবের কন্ট্রোল রুমে আয়োজিত এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ইজতেমায় হামলা বা জঙ্গি হামলার কোনো আশঙ্কা নাই। আমরা এব্যাপারে সজাগ রয়েছি। আমরা আমাদের গোয়েন্দা নজরদারি ও সাইবার পেট্টোলিংয়ের মাধ্যমে এ তথ্যগুলো সংগ্রহ করেছি।
র্যাব মহাপরিচালক বলেন, টঙ্গীর বিশ্ব ইজতেমায় বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মুসল্লিদের আগমন ঘটে। এ বছরও প্রায় দুই ধাপে তিন দিন করে মোট ৬ দিন ইজতেমা অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, সুষ্ঠু ও নির্বিঘ্ন বিশ্ব ইজতেমার নিশ্চিত করার মাধ্যমে দেশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে র্যাব ফোর্সেস অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করে সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে। ইজতেমা এলাকাসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় নিয়মিত টহল জোরদার ও সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি করতে পর্যাপ্ত সংখ্যক র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। সামগ্রিকভাবে আসন্ন বিশ্ব ইজতেমায় নিরাপত্তা নিশ্চিতে র্যাব ফোর্সেস সদর দপ্তর র্যাব-১সহ অন্যান্য পাঁচটি ব্যাটালিয়ান দায়িত্বরত থাকবে। ইজতেমা এলাকায় সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা মনিটরিং করতে কন্টোল রুম স্থাপন করা হয়েছে। এছাড়া সদর দপ্তরে সেন্ট্রাল কন্টোল রুম থেকেও বিশ্ব ইজতেমা মনিটরিং করা হচ্ছে। ইজতেমাস্থলসহ পার্শ্ববর্তী এলাকায় সাদা পোশাকে গোয়েন্দা নজরদারি বৃদ্ধি ও ইউনিফর্মে টহল বৃদ্ধি করে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। পাশাপাশি তল্লাশি কার্যক্রম করা হচ্ছে। যেকোন উদ্ভুত পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য র্যাবের স্পেশাল টিম, বোম ডিসপোজাল ইউনিট এবং পর্যাপ্ত স্ট্রাইকিং রিজার্ভ ফোর্স সার্বক্ষণিকভাবে প্রস্তত রাখা হয়েছে। এছাড়াও র্যাবের হেলিকপ্টার পেট্টোল প্রদান করা হবে। বিশ্বইজতেমায় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সমগ্র ইজতেমা ময়দান ঘিরে র্যাবের অবজারভেশন পোস্ট স্থাপন করা হয়েছে পর্যাপ্ত সংখ্যক সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছেম যাতে সার্বক্ষণিক ইজতেমা এলাকা পর্যবেক্ষণ করা যায়। যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনারোধ কল্পে দুই ধাপে আয়োজিত ইজতেমায় কঠোর সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। ইজতেমা এলাকায় আশপাশে উচ্ছঙ্খৃলতা, মাদকাসক্ততা, ছিনতাই, পকেটারমার ও মলম পার্টির দৌরাত্ম কমাতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
বিমানবন্দরে বিদেশি মেহমানদের হয়রানি নিয়ে তিনি বলেন, গত বছর বিমান বন্দরে টানা হেঁচরা হয়েছে। এটা অন্তত দুঃখজনক ও লজ্জার বিষয়। গাজীপুর মেট্টোপলিটন পুলিশের কমিশনারও বিষয়টি উল্লেখ করেছেন। এবার এমনটা হওয়ার সুযোগ নেই।
বিদেশি মুসল্লিদের নিরাপত্তা নিয়ে তিনি বলেন, বিদেশি মুসল্লিদের বিদেশি খিত্তা এলাকায় অবৈধ অনুপ্রবেশ রোধকল্পে সতর্ক দৃষ্টি ও নজরদারি রাখা হয়েছে। ইজতেমামুখী যানবাহন ও যাত্রীদের তল্লাশির জন্য চেরাগআলী বাসস্ট্যান্ড, টঙ্গী-কালীগঞ্জ রোড, উত্তরা নর্থ টাওয়ারের সামনে ও আশুলিয়া কামারপাড়া এলাকায় নিয়মিত চেকপোস্ট স্থাপন করে তল্লাশি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়াও ইজতেমা এলাকায় র্যাবের চিকিৎসা কেন্দ্র সার্বক্ষণিকভাবে সকলের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। র্যাবের পর্যাপ্ত সংখ্যক মেডিকেল টিম, অ্যাম্বুলেন্সসহ ইজতেমায় আগত মুসল্লিদের চিকিৎসা প্রদানে নিয়োজিত থাকবে, এছাড়াও বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থা র্যাবের পক্ষ থেকে করা হয়েছে। বিশ্ব ইজতেমায় আখেরী মোনাজাতের দিনের মুসল্লিরা যাতে হয়রানির শিকার না হয় সেজন্য র্যাবের নিছিদ্র নিরাপত্তা রাখা হয়েছে।
র্যাব মহাপরিচালক বলেন, বিশ্ব ইজতেমাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রাষ্ট্র, ধর্ম নিয়ে অপপ্রচার, গুজব রোধে র্যাবের সাইবার উইং টিম অনলাইনে নজরদারি অব্যাহত রেখেছে। আসন্ন ইজতেমাকে কেন্দ্র করে আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিনষ্ট করতে কোনো ব্যক্তি স্বার্থ গোষ্ঠী মহলের অপচেষ্টা, অপপ্রচার কঠোর হাতে দমন করা হবে। আসন্ন বিশ্ব ইজতেমা সফল শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে র্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে বিশ্ব ইজতেমায় আগত মুসল্লিসহ দেশের সকরের আন্তরিক সহযোগিতা একান্তভাবে কামনা করছি।
টিবি