Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

আয়তন বাড়ছে সিএমপির, হচ্ছে নতুন ৮ থানা

নিজস্ব প্রতিবেদক

২১ জানুয়ারি ২০২৪, ১০:৫৮ এএম

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) আয়তন বাড়িয়ে নতুন আরও ৮টি থানা গঠন করা হচ্ছে। এ সংক্রান্ত পৃথক দুটি প্রস্তাব বর্তমানে বিবেচনায় রয়েছে।

রোববার (২১ জানুয়ারি) সকালে এমন তথ্য জানিয়েছেন সিএমপির উপকমিশনার (ডিসি–এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) এসএম মোস্তাইন হোসাইন।

তিনি বলেন, বর্তমানে সিএমপির আয়তন ৩০৪ দশমিক ৬৬ বর্গকিলোমিটার। আওতাধীন থানার সংখ্যা হচ্ছে ১৬টি। সেটি বাড়ানোর জন্য দুটি প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রথম প্রস্তাবনায় কর্ণফুলী, আকবরশাহ ও চান্দগাঁও থানা ভেঙে নতুন চারটি থানার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ চারটি থানা হলো বঙ্গবন্ধু টানেলের দুই প্রান্তে দুটি থানা, মোহরা থানা ও কাট্টলী থানা। এ প্রস্তাবটি কেবিনেট সেক্রেটারির দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।

দ্বিতীয় প্রস্তাবনায় চট্টগ্রাম মহানগর ও হাটহাজারী, সীতাকুণ্ড, পটিয়া থানার মধ্যবর্তী অংশ ভেঙে চারটি থানা গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে একটি প্রস্তাব বিভাগীয় কমিশনারের মাধ্যমে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।

নতুনভাবে আটটি থানা সৃষ্টির ক্ষেত্রে পুলিশ সদর দপ্তরের সবুজ সংকেত পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছেন সিএমপির এই কর্মকর্তা।

সিএমপির কর্মকর্তারা জানান, চট্টগ্রাম মহানগরীর নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও সুরক্ষিত করতে হলে পুলিশের সংখ্যা আরও চার থেকে পাঁচ হাজার বাড়ানো প্রয়োজন। এই বিবেচনায় নগরীর সঙ্গে জেলার কিছু এলাকা যুক্ত করে নতুন চারটি থানা বাড়িয়ে সিএমপির আয়তন বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়েছে।

জেলার অংশ সংযুক্ত করে প্রস্তাবিত নতুন চারটি থানা হলো হাটহাজারী থানাধীন ১৩ নম্বর দক্ষিণ মাদার্শা, ১৪ নম্বর শিকারপুর, ১৫ নম্বর বুড়িশ্চর ইউনিয়ন নিয়ে নতুন মদুনাঘাট থানা। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ১ নম্বর দক্ষিণ পাহাড়তলী ওয়ার্ড, ১১ নম্বর ফতেপুর ও ১২ নম্বর চিকনদন্ডী ইউনিয়ন নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থানা। সীতাকুণ্ড মডেল থানা এলাকার ৮ নম্বর সোনাছড়ি, ৯ নম্বর ভাটিয়ারী ও ১০ নম্বর সলিমপুর ইউনিয়নের আংশিক এলাকা নিয়ে ফৌজদারহাট থানা। পটিয়া থানাধীন ৪ নম্বর কোলাগাঁও, ৫ নম্বর হাবিলাসদ্বীপ, ৬ নম্বর কুসুমপুরা ও ৭ নম্বর জিরি ইউনিয়ন নিয়ে কালারপোল থানা।

সিএমপির তথ্যমতে, ১৯৭৮ সালে প্রায় ২০৭ বর্গকিলোমিটার আয়তনের ছয়টি থানা নিয়ে চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের যাত্রা শুরু হয়। ২২ বছর পর ২০০০ সালের ২৭ মে সিএমপিতে নতুন আরও ছয়টি থানা যুক্ত হয়। এগুলো হচ্ছে খুলশী, বায়েজিদ বোস্তামী, পতেঙ্গা, বাকলিয়া, হালিশহর ও কর্ণফুলী থানা।

এর ১৩ বছর পর ২০১৩ সালের ৩০ মে নতুন আরও চার থানা গঠন করা হয়। এগুলো হচ্ছে আকবরশাহ, সদরঘাট, চকবাজার ও ইপিজেড। এ নিয়ে বর্তমানে সিএমপির আওতাধীন থানার সংখ্যা হচ্ছে ১৬টি। আয়তন ৩০৪ দশমিক ৬৬ বর্গকিলোমিটার।

সূত্র জানায়, ২০১৫ সালের অক্টোবরে তৎকালীন পুলিশ কমিশনার মোহা. আব্দুল জলিল মন্ডল চারটি নতুন থানা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। এগুলো হচ্ছে— কুয়াইশ, ফতেয়াবাদ, ভাটিয়ারী ও শিকলবাহা। ওই বছরের ১৫ ডিসেম্বর জেলার বিভিন্ন এলাকা নতুন থানায় যুক্ত করা নিয়ে মতামত জানতে সিএমপি জেলা পুলিশ সুপারকে একটি চিঠি দিয়েছিল।

২০১৬ সালের ৮ জুন ওই চিঠির জবাবে তৎকালীন জেলা পুলিশ সুপার একেএম হাফিজ আক্তারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, জেলা পুলিশ নিজেরাই থানা সম্প্রসারণে আগ্রহী হওয়ায় সিএমপির প্রস্তাবে তাদের আপত্তি আছে। এর ফলে চার থানা বাড়ানোর বিষয়ে সিএমপির উদ্যোগ ভেস্তে যায়। পরে সিএমপি কমিশনার ইকবাল বাহারের সময় থেকে বর্তমান কমিশনার কৃষ্ণপদ রায়ের সময়কালীন সিএমপিতে নতুন থানা বৃদ্ধির প্রস্তাব দুটি ধাপে ধাপে আলোর মুখ দেখতে শুরু করেছে।

টিবি