images

সারাদেশ

পর্যটক এক্সপ্রেসেও চট্টগ্রামের ভাগ্যে জুটছে ২ বগি

নিজস্ব প্রতিবেদক

০৩ জানুয়ারি ২০২৪, ১০:২২ এএম

ঢাকা-কক্সবাজার রুটে নতুন ট্রেন পর্যটক এক্সপ্রেসেও চট্টগ্রামবাসীর ভাগ্যে জুটেছে দুটি বগি। যার একটি এসি ও একটি শোভন চেয়ার। যেখানে আসন রয়েছে মাত্র ১১৫টি।

আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে ট্রেনটি চলাচল শুরু করবে এই রুটে। এর আগে চালু হওয়া কক্সবাজার এক্সপ্রেস ট্রেনেও এমন দুটি বগি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রামের জন্য। যা নিয়ে ক্ষুব্ধ চট্টগ্রামবাসী।

ক্ষুব্ধ যাত্রীরা বলছেন, চট্টগ্রামের অসংখ্য যাত্রী রয়েছে, যারা উন্মুখ হয়ে আছে কখন ট্রেনে চড়ে কক্সবাজার যাবেন। চট্টগ্রামের মানুষের আশা ছিল, আলাদা ট্রেন পাওয়া। কিন্তু রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ তা না করে উল্টো নামেমাত্র কয়েকটি বগি বরাদ্দ করেছে। যার সিংহভাগ টিকিটই কালোবাজারির হাতে।

চট্টগ্রামের পাহাড়তলি এলাকার বাসিন্দা আজমল হোসাইন বলেন, কক্সবাজার এক্সপ্রেসে যাত্রীদের চাহিদা থাকার পরেও চট্টগ্রামবাসীকে প্রাধান্য দেওয়া হয়নি। এবারও নতুন ট্রেন পর্যটক এক্সপ্রেসেও দেওয়া হয়েছে কেবল মাত্র দুটি বগি। যেখানে আসন রয়েছে মাত্র ১১৫টি। ফলে আসন সংকট থেকেই যাচ্ছে। এ সুযোগে কালোবাজারিদের কারণে টিকিট পাওয়া নিয়েও অনিশ্চয়তায় থাকতে হবে চট্টগ্রামের যাত্রীদের।

এ বিষয়ে জানতে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত মহাব্যবস্থাপক ও প্রধান বাণিজ্যিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ নাজমুল ইসলামের মুঠোফোনে একাধিকারবার ফোন করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।

তবে রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চট্টগ্রামবাসীর হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই। ফেব্রুয়ারি নাগাদ ১২টি কোচ নিয়ে এই রুটে চট্টগ্রামবাসীর জন্য আলাদা একটি ট্রেন চলাচল শুরু হবে। ট্রেনটি দিনে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চারবার চলাচল করবে।

এদিকে, রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ঢাকা কক্সবাজার রুটে নতুন চালু হওয়া পর্যটক এক্সপ্রেস কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে ভোর ৬টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে বিমানবন্দর স্টেশনে পৌঁছবে ভোর ৬টা ৩৮ মিনিটে। সেখানে পাঁচ মিনিট বিরতি দিয়ে ভোর ৬টা ৪৩ মিনিটে ছেড়ে বিরতহীনভাবে চট্টগ্রাম পৌঁছবে সকাল ১১টা ২০ মিনিটে। সেখানে ২০ মিনিট বিরতি দিয়ে সকাল ১১টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে কক্সবাজার স্টেশনে পৌঁছবে বিকেল ৩টায়।

অন্যদিকে, কক্সাবাজার থেকে চট্টগ্রামে এসে পৌঁছবে রাত ১০টা ৫০ মিনিটে। ২৫ মিনিট বিরতির পর রাত ১১টা ১৫ মিনিটে ছেড়ে ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে পৌঁছবে রাত ৩টা ৫০ মিনিটে। ওই স্টেশনে তিন মিনিট বিরতি দিয়ে রাত ৩টা ৫৩ মিনিটে ছেড়ে ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছবে রাত সাড়ে ৪টায়।

এর আগে সদ্য বিদায়ী বছরের ১ ডিসেম্বর এ রুটে প্রথম যাত্রীবাহী ট্রেন কক্সবাজার এক্সপ্রেস চালু হয়। ঢাকা কমলাপুর রেল স্টেশন থেকে ট্রেনটি নিয়মিত ২৪ ঘণ্টায় দুবার যাতায়াত করছে।

কক্সবাজার এক্সপ্রেসও ঢাকা থেকে রাত ১০টা ৩০ মিনিটে ছেড়ে ঢাকা বিমানবন্দর ও চট্টগ্রাম স্টেশনে যাত্রাবিরতি দিয়ে কক্সবাজারে পৌঁছে ভোর ৬টা ৪০ মিনিটে। আর কক্সবাজার থেকে দুপুর ১২টা ৪০ মিনিটে ছেড়ে চট্টগ্রাম ও ঢাকা বিমানবন্দর স্টেশনে যাত্রাবিরতি দিয়ে ঢাকা (কমলাপুর) রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছে রাত ৯টা ১০ মিনিটে।

এই রুটে ট্রেনের শোভন চেয়ার (নন-এসি সিট) শ্রেণিতে প্রতিটি সিটের ভাড়া ৫০০ টাকা ও এবং স্নিগ্ধা (এসি সিট) শ্রেণিতে প্রতিটি সিটের ভাড়া ৯৬১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

এছাড়া প্রথম শ্রেণি চেয়ার ৬৭০ টাকা, প্রথম শ্রেণির বার্থ/সিট ১ হাজার ১৫০ টাকা এবং এসি বার্থের টিকিটের দাম জনপ্রতি ১ হাজার ৭২৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়।

তবে ননস্টপ ট্রেনের ক্ষেত্রে শোভন চেয়ার ৫০ টাকা এবং স্নিগ্ধা, প্রথম শ্রেণি, এসি বার্থের ভাড়া ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে।

টিবি