images

সারাদেশ

ফরিদপুরের ভুবনেশ্বর নদ থেকে কুমির উদ্ধার

জেলা প্রতিনিধি

১৭ অক্টোবর ২০২৩, ০৭:৪১ পিএম

ফরিদপুর সদর উপজেলার গজারিয়া এলাকায় ভুবনেশ্বর নদ থেকে বিলুপ্ত প্রায় মিঠাপানিতে বাসকারী একটি কুমির উদ্ধার করা হয়েছে। বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের খুলনা অঞ্চলের একটি উদ্ধারকারী দল। তিন ঘণ্টা চেষ্টার পর স্থানীয়দের সহায়তায় কুমিরটি বড় জালে আটকে উদ্ধার করে বন বিভাগ।

মঙ্গলবার (১৭ অক্টোবর) বেলা সাড়ে ১১টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গজারিয়া এলাকার ভুবনেশ্বর নদ হতে কুমিরটি উদ্ধার করা হয়। কুমিরটি নিয়ে বিকাল ৩টার দিকে উদ্ধারকারী দলটি সড়কপথে সুন্দরবনের করমজল বণ্যপ্রাণী উদ্ধার কেন্দ্রের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। উদ্ধারকৃত কুমিরটি প্রায় ৭ ফুট লম্বা।

গত বুধবার বিকেলে জেলার চরভদ্রাসন উপজেলার গাজীরটেক ইউনিয়নের শিকদার ডাঙ্গী গ্রামের ভুবনেশ্বর নদে প্রথম কুমিরটি দেখা যায়। পরদিন বৃহস্পতিবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টার মধ্যে কয়েকবার কুমিরটি ভেসে ওঠে। এতে স্থানীয় লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরে এলাকাগুলোর মসজিদ থেকে মাইকিং করে এলাকাবাসীদের সতর্ক  করা হয়।

এরপর কুমিরটি ওই স্থান থেকে দুই কিলোমিটার দূরে সদর উপজেলার আলিয়াবাদ ইউনিয়নের গজারিয়ায় দেখা যায় রোববার।

রোববার দুপুরে খুলনা বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মৎস্য বিশেষজ্ঞ মফিজুর রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি দল কুমিরটি উদ্ধারে ফরিদপুর সদর উপজেলার পাটপাশা এলাকায় পরিদর্শনে আসেন। কুমিরটি আবার দেখা গেলে তাদের কে জানাতে বলেন।

তবে সেখানে কুমিরের কোন খোঁজ না পাওয়ায় তারা ফিরে যান। আজ মঙ্গলবার সকালে গজারিয়া ব্রিজের নিকট ভুবনেশ্বর নদে কুমিরটি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা তাদের খবর দিলে পুনরায় বন বিভাগের বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মৎস্য বিশেষজ্ঞ মফিজুর রহমানের নেতৃত্বে একটি দল আসেন। স্থানীয় জেলে ও সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় তিন ঘন্টা চেষ্টার পর উদ্ধার করা হয় কুমিরটি।

আলিয়াবাদ ইউনিয়ন পরিষদের সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সদস্য মো: বকলুকার রহমান জানান, তিন দিন চেষ্টার পর আজ কুমিরটি উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয় জেলে ও জনসাধারনের সহায়তায় বন বিভাগের কর্মকর্তাবৃন্দ কুমিরটি উদ্ধার করেন।

ইউপি সদস্য আরো জানান, স্থানীয় মানুষ স্বস্তির নি:শ^াস ফেলেছে। ভয়ে কেউ নদে নামতে পারছিল না। এখন সবাই নদে নামতে পারবে।

বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মৎস্য বিশেষজ্ঞ মফিজুর রহমান চৌধুরী জানান, নদীতে দেখা কিছুটা ভাসমান অবস্থায় তোলা ছবি দেখে ভেবেছিলাম এটি নোনা পানির কুমির। কিন্তু আজ উদ্ধারের পর দেখা গেলো এটি মিঠাপানির কুমির। কুমিরটি প্রথমে সুন্দরবনের করমজল বণ্যপ্রাণী উদ্ধার কেন্দ্রে নেয়া হবে। পরে উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে পরামর্শ করে এব্যাপারে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রসঙ্গত, এর আগে ২০২১ সালের ৯ আগস্ট ফরিদপুর সদরের নর্থ চ্যানেল ইউনিয়নে পদ্মা নদীর সাথে সংযুক্ত একটি খাঁড়ি বা খালে মিঠা পানির একটি কুমির পাওয়া গিয়েছিল। কুমিরটি সাত দিন ধরে ওই জলাধারে অবস্থান করেছিল। পরে সেটিকে ধরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব সাফারি পার্কে পাঠায় বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ।

প্রতিনিধি/ এজে