ঢাকা মেইল ডেস্ক
১৪ জুলাই ২০২৩, ০৮:১৭ পিএম
কক্সবাজারে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারীর সংখ্যা প্রতিনিয়তই বাড়ছে। ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসের কারণে একদিকে ধ্বংস হচ্ছে পাহাড়, অন্যদিকে মারা যাচ্ছে মানুষ। গত ১২ বছরে পাহাড় ধসে মারা গেছেন ৩১৪ জন। তারপরও বর্তমানে ঝুঁকিতে বসবাস করছেন প্রায় ৩ লাখ মানুষ। প্রায় ১৮ হাজার হেক্টর পাহাড় দখল করে বসবাস করছেন এসব মানুষ, যা কক্সবাজারের মোট বনভূমির এক তৃতীয়াংশ।
রোহিঙ্গারা এর বাইরে দখল করেছে ৪ হাজার ৮৫৮ হেক্টর পাহাড়। সেখানে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করছেন প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা। ভারি বর্ষণের আগে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের চিহ্নিত করে সমতলভূমিতে স্থানান্তর করা না গেলে ব্যাপক প্রাণহানিসহ মারাত্মক বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন পরিবেশবাদীরা।
রোহিঙ্গা ছাড়াও স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতা, চিহ্নিত অপরাধী, এমনকি আরও প্রায় ১ লাখ পুরাতন ও নতুন রোহিঙ্গা ক্যাম্প ছেড়ে পাহাড় দখল করে বসতি গড়ছে। শুধু তাই নয়, তারা বিক্রি করছে সরকারি পাহাড়। বসতি স্থাপনের জন্য কক্সবাজার অঞ্চলে নির্বিচারে পাহাড় কাটা হয়। বিশেষ করে বর্ষা এলেই শুরু হয় পাহাড় কাটার উৎসব। পাহাড়ি এলাকা সমতল করে ঝুঁকিপূর্ণ বসতি স্থাপন করা যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। তাই এসব কারণে ঘটছে পাহাড় ধসের ঘটনা।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১২ বছরে পাহাড় ধসে ৩১৪ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পাহাড় ধস হয় ২০১০ সালের ১৫ জুন। এদিন রামু উপজেলার হিমছড়ি এলাকার ১৭ ইসিবি সেনা ক্যাম্পের ৬ সেনাসদস্যসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসে প্রায় ৬২ জন প্রাণ হারায়।
কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান মো. সরওয়ার আলম বলেন, জেলায় মোট বনভূমির পরিমাণ ২ লাখ একর। এর মধ্যে অবৈধ দখলে রয়েছে ৯ হাজার ৬৫৭ হেক্টর। পাহাড়ি জমিতে বসবাস করছে ১৯ হাজার ৮২৬টি পরিবারের ৩ লাখ মানুষ। এর মধ্যে প্রায় আড়াই লাখ মানুষ পাহাড় ধসের ঝুঁকিতে রয়েছে।
সরওয়ার আলম বলেন, ঘূর্ণিঝড় মোখা'র সময় আমরা পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সরিয়ে নিয়ে এসেছিলাম। সামনে ভারি বর্ষণের আগে শহর এবং বিভিন্ন উপজেলায় ঝুঁকিতে বসবাসকারীদের সরিয়ে আনা হবে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৮ সালের ৪ ও ৬ জুলাই টেকনাফের ফকিরামুরা ও টুন্যার পাহাড় ধসে একই পরিবারের ৪ জনসহ ১৩ জন, ২০০৯ সালে চকরিয়া, উখিয়া ও রামুতে ৫ জন, ২০১২ সালের ২৬ ও ২৭ জুন পাহাড় ধসের ঘটনায় ২৯ জন নিহতের ঘটনা ঘটে, ২০১৫ সালে কক্সবাজার শহরে রাডারের পাহাড় ধসে ৫ জন, ২০১৬ সালে ১৭ জন, ২০১৭ সালে ২৬ জন, ২০১৮ সালের ২৫ জুলাই শহরের দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়ার বাঁচামিয়ার ঘোনা এলাকায় ২৮ জন, ২০১৯ সালে ২২ জন, ২০২০ সালে ১৫ জন, একই বছরের ২৭, ২৮ জুলাই ২ দিনে ১৪ জন, ২০২২ সালে ২৫ জন মারা যায়। চলতি বছর বর্ষার আগেই রামু, টেকনাফ ও সদরে পাহাড় ধসে মারা যায় ৬ জন। কক্সবাজার জেলা প্রশাসনের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত ১২ বছরে পাহাড় ধসে ৩১৪ জন মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ পাহাড় ধস হয় ২০১০ সালের ১৫ জুন। এদিন রামু উপজেলার হিমছড়ি এলাকার ১৭ ইসিবি সেনা ক্যাম্পের ৬ সেনাসদস্যসহ জেলার বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ধসে প্রায় ৬২ জন প্রাণ হারায়।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০০৮ সালের ৪ ও ৬ জুলাই টেকনাফের ফকিরামুরা ও টুন্যার পাহাড় ধসে একই পরিবারের ৪ জনসহ ১৩ জন, ২০০৯ সালে চকরিয়া, উখিয়া ও রামুতে ৫ জন, ২০১২ সালের ২৬ ও ২৭ জুন পাহাড় ধসের ঘটনায় ২৯ জন নিহতের ঘটনা ঘটে, ২০১৫ সালে কক্সবাজার শহরে রাডারের পাহাড় ধসে ৫ জন, ২০১৬ সালে ১৭ জন, ২০১৭ সালে ২৬ জন, ২০১৮ সালের ২৫ জুলাই শহরের দক্ষিণ রুমালিয়ারছড়ার বাঁচামিয়ার ঘোনা এলাকায় ২৮ জন, ২০১৯ সালে ২২ জন, ২০২০ সালে ১৫ জন, একই বছরের ২৭, ২৮ জুলাই ২ দিনে ১৪ জন, ২০২২ সালে ২৫ জন মারা যায়। চলতি বছর বর্ষার আগেই রামু, টেকনাফ ও সদরে পাহাড় ধসে মারা যায় ৬ জন।
রোহিঙ্গা ক্যাম্পে এখন পর্যন্ত পাহাড় ধসে মারা যায় ২৮ জন।
এ বিষয়ে কক্সবাজার দক্ষিণ বন বিভাগের সদর রেঞ্জ কর্মকর্তা সমীর রঞ্জন সাহা বলেন, প্রতিবছর বর্ষার আগে প্রশাসন ও বন বিভাগ যৌথভাবে পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণ বসবাসকারীদের সরিয়ে নেয়। এতে কিছুদিন সহনীয় পর্যায়ে থাকলেও লোকজন পুনরায় সেই স্থানে বসবাস শুরু করে। এতে করে একদিকে যেমন পাহাড়ের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে প্রাণহানির মতো ঘটনাও ঘটছে।
কক্সবাজার শহর ও শহরতলির লাইট হাউস, সৈকত পাড়া, সার্কিট হাউস সংলগ্ন, মোহাজের পাড়া, দক্ষিণ ঘোনারপাড়া, বাদশাঘোনা, বৈদ্যঘোনা, মধ্যম ঘোনারপাড়া, পাহাড়তলি, কলাতলী আদর্শগ্রাম, ঝরিঝরিকুয়া, সদর উপজেলা অফিস সংলগ্ন, লিংকরোড পাহাড়ি এলাকায় হাজার হাজার পরিবার ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করছে।
পরিবেশবিজ্ঞানী ড. আনছারুল করিম বলেন, প্রতিবছর কক্সবাজার জেলায় পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটলেও ঝুঁকি নিয়ে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার কাজ শুধু বর্ষা এলে করা হয়। বর্ষা চলে গেলে থেমে যায় সবকিছু। এর ফলে অনেকটা বাধাহীনভাবে চলছে কক্সবাজারের পাহাড় নিধন।
বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) কক্সবাজারের সভাপতি ফজলুল কাদের চৌধুরী বলেন, পাহাড়ি অঞ্চল হিসেবে কক্সবাজার খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। প্রতিবছর পাহাড় ধসে কক্সবাজারে মৃত্যুর ঘটনা ঘটে থাকে। ভারি বর্ষণ হলেই সংশ্লিষ্ট প্রশাসন তৎপর হয়ে ওঠেন। এছাড়া কোনো খবর থাকে না। একদিকে পাহাড় ধসে মৃত্যু যেমন হচ্ছে, অন্যদিকে পাহাড়ে বসবাসের কারণে পাহাড় কেটে পরিবেশ ধ্বংস করা হচ্ছে।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মুহম্মদ শাহীন ইমরান জানান, পাহাড়ে বসবাসকারীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার জন্য প্রশাসন নিরলসভাবে কাজ করছে। প্রতিবছর বর্ষা মৌসুম এলে জেলা প্রশাসন পাহাড়ে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাস করা লোকজনকে নিরাপদ আশ্রয়ে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়। মাইকিং করে সতর্কমূলক প্রচারণা করা হয়। এ সময় কিছু মানুষ সরে এলেও পরে আবার এসে আগের জায়গায় বসবাস শুরু করে।
প্রতিনিধি/এমএইচটি