images

সারাদেশ

চট্টগ্রামে পশুর হাটে ক্রেতার ভিড়, বেড়েছে বিক্রি

জেলা প্রতিনিধি

২৮ জুন ২০২৩, ০১:৩৪ পিএম

পবিত্র ঈদুল আজহা আগামীকাল বৃহস্পতিবার (২৯ জুন)। তাই কোরবানির পশুর হাটের শেষ দিনে চট্টগ্রামের সবকয়টি পশুর হাটে ভিড় করছেন কোরবানিদাতারা। তবে বৃষ্টির কারণে কাদা-পানিতে দুর্ভোগে কিছুটা ছন্দপতন ঘটছে হাটে। এরপরও পছন্দের পশু কিনে খুশি ক্রেতা। কাঙ্ক্ষিত দাম পেয়ে খুশি বেপারিরাও। আর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন হাটের ইজারাদাররাও।

বুধবার (২৮ জুন) সকালে নগরীর কয়েকটি পশুর হাটের কোরবানিদাতা, বেপারি ও ইজারাদারদের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় এবার স্থায়ী-অস্থায়ী ১২টি পশুর হাট বসে। এরমধ্যে সকালে বিবিরহাট বাজারে গিয়ে দেখা গেছে বৃষ্টির পানিতে সৃষ্ট কাদায় বেকায়দায় পড়ছেন ক্রেতা-বিক্রেতারা। তবুও এর মধ্যে পশু কিনতে আসা লোকজন পছন্দের গরু কিনে বাড়ি ফিরছেন।

বিবিরহাটে হাসিল আদায়ের কাজে নিয়োজিত কর্মচারী নুর মোহাম্মদ জানান, মঙ্গলবার বৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি না হলে বাজার আরো জমজমাট হতো। কারণ, মঙ্গলবার হচ্ছে বিবিরহাটের নির্ধারিত বাজারের দিন। কোরবান উপলক্ষে টানা ১০ দিন পশু বিক্রি হলেও সাপ্তাহিক বাজারবার হিসেবে শনি ও মঙ্গলবার এ বাজারে বিক্রি হয় বেশি। এ দুদিন বাজারের আশেপাশের এলাকা থেকে প্রচুর গরু নিয়ে আসা হয়। মূল বাজারে জায়গা না হলে রাস্তায়ও রাখা হতো। কিন্তু বৃষ্টি হওয়ায় মূল বাজারের বাইরে গরুর সংখ্যা তুলনামূলক অনেক কম ছিল। কারণ, মূল বাজারে ত্রিপল থাকলেও বাইরে সে সুবিধা নেই। এরপরও মঙ্গলবার বাজারটিতে অন্যদিনের চেয়ে বেচাকেনা বেশি হয়েছে।

মুসলিমাবাদ রোডের সিআইপি জসিমের খালি মাঠে বসা বাজারের ইজারাদার হারুনুর রশিদ বলেন, কোরবানির পশুতে ঠাসা বাজার কিন্তু বিক্রি কম। তবে গতকাল মঙ্গলবার বিকেল থেকে বিক্রি বেড়েছে। আজ পশু বিক্রি জমে উঠেছে।

পতেঙ্গা টি কে গ্রুপের মাঠে বসা হাটের ইজারাদার ওয়াদি চৌধুরী জানান, আজ সকাল থেকে আমাদের বাজারে প্রচুর বেচাকেনা হচ্ছে। এর আগে বেচাকেনা কম হওয়ায় ইজারার টাকা নিয়ে বেশ চিন্তিত ছিলাম। এখন একটু স্বস্তি পাচ্ছি।

চট্টগ্রামের স্থায়ী হাটগুলো হচ্ছে— সাগরিকা পশুর বাজার, বিবিরহাট গরুর হাট ও পোস্তারপাড় ছাগলের বাজার। অন্যদিকে চট্টগ্রাম মহানগরে অস্থায়ী পশুর হাটগুলো বসেছে কর্ণফুলী নূর নগর হাউজিং এস্টেটে, ৪১নং দক্ষিণ পতেঙ্গা ওয়ার্ডের বাটারফ্লাই পার্কের দক্ষিণে টি কে গ্রুপের খালি মাঠ, ৪০নং উত্তর পতেঙ্গা ওয়ার্ডের পূর্ব হোসেন আহম্মদ পাড়া সাইলো রোডের পাশে টিএসপি মাঠে, একই ওয়ার্ডের মুসলিমাবাদ রোডের সিআইপি জসিমের খালি মাঠে, ২৬নং ওয়ার্ডের বড়পোল সংলগ্ন গোডাউনের পরিত্যক্ত মাঠে এবং ৩নং পাঁচলাইশ ওয়ার্ডের ওয়াজেদিয়া মোড়ে।

সাগরিকা পশুর হাটে আলাপকালে কয়েকজন বেপারি জানান, বাজার শুরুর পর থেকে আজ বিক্রি হয়েছে বেশি।

খাগড়াছড়ি থেকে ২০টি গরু নিয়ে আসা এক বেপারি জানান, এ পর্যন্ত তিনটি বিক্রি হয়েছে। সবগুলোই বিক্রি হয়েছে আজ সকালে।

রয়েছে ভিন্ন চিত্রও। একই হাটে দিনাজপুর থেকে ১৩টি বড় সাইজের গরু নিয়ে আসা কবির হোসেন বেপারি বলেন, একটিও বিক্রিও হয়নি। তবে শেষ পর্যন্ত অল্প লাভ পেলে বিক্রি করে দিব।

বুধবার সকালে সাগরিকা বাজার থেকে ১ লাখ ৫৫ হাজার টাকায় একটি কালো রঙের ষাঁড় কিনে বাড়ি ফিরছিলেন নাইম নামের এক ব্যবসায়ী। তিনি বলেন, মঙ্গলবারও বাজারে এসেছিলাম। সেদিন ঘুরেফিরে আইডিয়া করেছিলাম। যেহেতু আর সময় নেই, তাই কিনেই ফেললাম। এর আগে বাজার ঘুরে অভিজ্ঞতার আলোকে আজ কেনা গরুটির দাম কিছুটা কম হয়েছে বলে জানান তিনি।

চট্টগ্রাম জেলা প্রাণিসম্পদ অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, এবার চট্টগ্রামে কোরবানির পশুর সম্ভাব্য চাহিদা ৮ লাখ ৭৯ হাজার ৭১৩টি। এর বিপরীতে স্থানীয় ৮ হাজার ২২০টি খামারে উৎপাদন হয়েছে ৮ লাখ ৪২ হাজার ১৬৫টি। অর্থাৎ চাহিদার বিপরীতে স্থানীয় উৎপাদন অনুসারে ৩৭ হাজার ৫৪৮টি কোরবানির পশু সংকট থাকার কথা। তাই শঙ্কা ছিল এবার পশুর দাম হবে বেশ চড়া। বাজারের প্রথম দিকেও তেমন ইঙ্গিত মিলে। তবে শেষ পর্যন্ত দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা কোরবানির পশুতে ভরে যায় হাটগুলো। বিশেষ করে বাজারগুলোতে কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহ, মাগুরা, সাতক্ষীরা, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, রাজশাহী, চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুমিল্লা, নাটোরসহ অন্যান্য এলাকা থেকে গরু এনেছেন বেপারিরা। এতে দূর হয় সংকট। আর গতকাল মঙ্গলবার বিকেল থেকে গরুর দাম কমতে থাকায় জমে উঠেছে হাট।

প্রতিনিধি/এমএইচটি