জেলা প্রতিনিধি
২০ জুন ২০২৩, ০৮:৪৪ পিএম
দুই সন্তান রেখে পালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রবাসীর স্ত্রীর বিরুদ্ধে। ঘটনা মাসখানেক আগের হলেও গতকাল সোমবার (১৯ জুন) সংবাদ সম্মেলন করার পর এ বিষটি আলোচনায় আসে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, প্রায় ১২ বছর আগে কুলাউড়া উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের আরব আমিরাত প্রবাসী জুনাব আলীর সাথে একই ইউনিয়নের ট্রাট্রউলি গ্রামের লতিফ মিয়ার মেয়ে দিলার বেগমের (৩৫) বিয়ে হয়। তাদের সংসারে আল আমিন (১০) ও আমিনুল (৭) নামের দুই সন্তান রয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেছিল প্রবাসীর পরিবার। তাদের দাবি, আত্মগোপনে থেকে অপহরণ কিংবা গুম নাটক করে যাতে হয়রানি না করতে পারে সে জন্যই এই সংবাদ সম্মেলন। এ ঘটনায় এলাকায় তোলপাড় চলছে।
সংবাদ সম্মেলনে প্রবাসীর ভাই মো. আইয়ুব আলী অভিযোগ করে জানান, ভাই বিদেশে থাকার সুযোগে তার স্ত্রী দিলারা বেগম পরকীয়ায় লিপ্ত হয়। বিষয়টি নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে ঝগড়া বিবাদ চলছিল। এরমধ্যে স্ত্রীর কিছু অশ্লীল ভিডিও পান স্বামী। জুনাব আলী প্রবাস থেকে গত ২৪ মে স্ত্রী দিলারা বেগমকে তালাক প্রদান করেন। গত ২৫ মে রাতে দিলারা বেগম তার ২ সন্তানকে ঘুমে রেখে উধাও হন।
দিলারা বেগমের বড় ছেলে আল আমিন জানায়, ওইদিন রাতে তার মামা কুটন মিয়া তাদের বাড়িতে আসেন। মামা ও তার মা অন্যরুমে কথা বলার সময় তারা দুই ভাই ঘুমিয়ে পড়ে। পর দিন সকালে ঘুম থেকে উঠে তার মাকে না পেয়ে বিষয়টি চাচা ও ফুফুদের জানায়।
প্রবাসীর বোন ফজিরুন বেগম ও ভাগ্না ইসমাইল আলী জানান, দিলারা বেগমকে অপহরণ করা হয়েছে উল্লেখ করে তার ভাই কুটন মিয়া এলাকায় প্রচারণা এবং প্রবাসীর পরিবারকে হয়রানির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। পুলিশ দিয়ে গ্রেফতারের ভয় দেখাচ্ছে।
এ বিষয়ে দিলারা বেগমের ভাই কুটন মিয়ার সাথে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করলে তাকে পাওয়া যায়নি। মোবাইল ফোনে কল দিলে তার স্ত্রী জানান, তিনি ফোন রেখে কাজে গেছেন। আমি এসব বিষয়ে কিছু বলতে পারব না।
কর্মধা ইউনিয়নের সংরক্ষিত আসনের মহিলা সদস্য মাহমুদা আক্তার জানান, আমি এ ধরনের একটি ঘটনা শুনেছি। তবে তাদের পরিবারের পক্ষ থেকে কেউ কিছু জানায়নি।
এ ব্যাপারে কুলাউড়া থানার অফিসার ইনচার্জ মো. আব্দুছ ছালেক জানান, প্রবাসীর স্ত্রী অপহরণ বা নিরুদ্দেশ এমন কোনো ঘটনা লিখিত বা মৌখিকভাবে আমাকে কেউ অবগত করেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।
প্রতিনিধি/একেবি