Dhaka Mail Logo

সারাদেশ

কানসাটে আমের মণ ৫৪ কেজিতে!

জেলা প্রতিনিধি

১৭ জুন ২০২৩, ০২:৪৭ এএম

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ উপজেলার কানসাট আমবাজারে ৫২ থেকে ৫৪ কেজিতে এক মণ ধরে আম কিনছেন আড়তদাররা। এমনকি টাকা দেওয়ার সময় ৫০-২০০ টাকা পর্যন্ত জোর করে  কম দিচ্ছেন চাষিদের। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছে আম চাষিরা। 

সংশ্লিটরা বলছেন, রাজশাহী বিভাগের সব আম বাজারে এই প্রথা চালু থাকায় কানসাট বাজারে ওজন নির্ধারণ করা যাচ্ছে না।  

শুক্রবার  (১৬ জুন) সকালে  কানসাট আম বাজারে গিয়ে দেখা যায়, গত তিন বছর আগে কানসাটে আম বিক্রি হত ৪৫ কেজিতে মণ ধরে। তবে আড়তদাররা দিন দিন এই ওজন বাড়াচ্ছেন। ২০২১ সালে ৫০ কেজি মণ নিয়েছেন। আর গত বছর থেকে শুরু হয়েছে ৫২ কেজিতে মণ। এড়াছাও অনেক সময় ৫৪ কেজিতেও নেওয়া হয়।  

mangoকানসাট বাজারে দুই ভ্যান আম বিক্রি করতে এসেছিলেন মহোদী  এলাকার আম চাষি রাকিবুল ইসলাম । তিনি অভিযোগ করে বলেন, কানসাট বাজারে আড়তদাদের কছে জিম্মি আম ব্যবসায়ীরা। সুযোগে ৫২-৫৪ কেজিতে আমের মণ নিচ্ছে আড়তদাররা। আমরা কোন কিছুই বলতে পারি না। পরিমাপের সময় পরিপূর্ণ কেজির পর ৭০০-৮০০ গ্রাম বেশি নেবেই। ঝামেলা করলে অর্ধেকের বেশি আম বেছে নেবে। ওজনের পরে খাওয়ার জন্য ফের দুই থেকে তিন কেজি চাইবে। না দিলে টাকা দিবে না। টাকা দেওয়ার সময় ফের ৫০-২০০ টাকা পর্যন্ত কম দিচ্ছে।

কানসাট বাজারে আম বিক্রির জন্য এসেছিলেন শিবগঞ্জ উপজেলার মোনাকষা ইউনিয়নের সাইফুল ইসলাম । তিনি বলেন, আমি ২০০০ সাল থেকে কানসাট বাজারে আম বিক্রি করি। কাঁচা আমের জন্য প্রথম থেকেই ১-২ কেজি বেশি নিত। কিন্তু গত তিন বছর থেকে শুরু হয়েছে ডাকাতি। একমণে ১২-১৪ কেজি বেশি নিচ্ছেন আড়তদাররা। আমরা সংশ্লিট অনেক কর্মকর্তার সঙ্গেও যোগযোগ করেছি। কিন্তু কোন সুফল মেলিনি।

তিনি আরও বলেন, আম ব্যবসায়ীদের সমিতি রয়েছে। আম চাষিদের তো আর সমিতি নেই। তারা অনেক স্থানে টাকা দিয়ে এই কর্যক্রয় বজায় রাখছেন। কিন্তু আমরা কোথায় যাব। একমনে কি ১২-১৪ কেজি বেশি দেওয়া যায় আপনি বলেন?

মোবারকপুর ইউনিয়নের   মো. আমিনুল  ইসলাম বলেন, আম হচ্ছে কাঁচা পণ্য। তাই আগে আমরা আমরা ৪৫ কেজিতে এক মণ ধরে আম বিক্রি করতাম। তবে গত তিন বছর থেকে হঠাৎ আড়তদাররা ৫০-৫৪ কেজিতে মণ নেওয়া শুরু করে। এছাড়াও আমাদের সঙ্গে অনেক খারাপ ব্যবহারও করে থাকে তারা। এতে আমরা তাদের কাছে জিম্মি হয়ে গেছি।

কানসাট আম আড়তদার ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক ওমর ফারুক টিপু বলেন, আমের মণ ৫২ থেকে ৫৪ কেজিতে ওজন নেওয়া এক ধরনের নৈরাজ্য। রাজশাহী বিভাগের সব আম বাজারে একই মাপে আম ওজন দেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনকে সিদ্ধান্ত নেওয়া দরকার। তবেই নিয়ন্ত্রণ আসবে ওজন নিয়ে নৈরাজ্য।

mangoশিবগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবুল হায়াত বলেন, জেলার সব উপজেলার আমরা একটি ওজনে আম ক্রয় বিক্রয় করাতে চাই। কিন্তু তা করতে পারছি না। কারণ রাজশাহী বিভাগের প্রতিটি আম বাজারে ভিন্ন ভিন্ন ওজন ধরে আম বিক্রি হয়। আমি যদি শুধু কানসাট আম বাজারে ৪০ কেজিতে মণ ধরে আম কেনার নিয়ম করি তখন বাইরের যে ক্রেতাগুলো কানসাটে আসে। তারা আর আসবে না। এতে ক্ষতিগ্রস্থ হবে আম চাষিরা। তাই আমরা রাজশাহীর বিভাগীয় উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেব।  

বর্তমানে এই বাজারে, কোয়ালিটি অনুযায়ী খিরসাপাত বিক্রি হচ্ছে ২৫০০ থেকে ৩৫০০ টাকায়, ল্যাংড়া বিক্রি হচ্ছে ১৫০০ থেকে ২০০০ টাকায়, লক্ষণভোগ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১০০০ টাকায়। বিভিন্ন জাতের গুটি আম বিক্রি হচ্ছে ৮৫০ থেকে ১৫০০ টাকার মধ্যে।

জেলায় এবার ৩৭ হাজার ৮৫৫ হেক্টর জমিতে আমবাগান রয়েছে। এবছর উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ২৫ হাজার মেট্রিক টন।

প্রতিনিধি/এজেড