এভিয়েশন ডেস্ক
০৯ অক্টোবর ২০২৬, ১১:২৯ এএম
চলন্ত বিমানে হঠাৎ বজ্রপাতের আঘাত এবং তার জেরে বড় ধরনের দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা পাওয়ার ঘটনা যে কারও মনেই শঙ্কা জাগাতে পারে। সম্প্রতি ভারতের পাটনা থেকে আহমেদাবাদগামী ইন্ডিগোর একটি ফ্লাইটে ঘটা এমন একটি রোমাঞ্চকর ও ভীতিপ্রদ ঘটনাই প্রমাণ করে যে আধুনিক বিমান চলাচল প্রযুক্তির নিরাপত্তা ব্যবস্থা কতটা নিখুঁত ও শক্তিশালী।
১৭ হাজার ফুট উঁচুতে বজ্রপাতের প্রচণ্ড ধাক্কায় বিমানের সামনের অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হলেও ১১০ জন যাত্রীর সবাই অক্ষত অবস্থায় লখনউয়ে নিরাপদে অবতরণ করেছেন। মূলত বিমানের অসাধারণ ইঞ্জিনিয়ারিং এবং বিজ্ঞানসম্মত নকশাই এই যাত্রীদের নিশ্চিত বিপদের হাত থেকে রক্ষা করেছে।
আরও পড়ুন: বিমানে বজ্রপাত হলে যেভাবে নিরাপদ থাকেন যাত্রীরা
ফ্যারাডে কেজ ও বিমানের বাইরের কাঠামো
সাধারণ মানুষের মনে প্রশ্ন আসতেই পারে যে, এত শক্তিশালী বজ্রপাত সরাসরি বিমানের গায়ে পড়ার পরও ভেতরের যাত্রীদের কেন কিছু হয় না? এর মূল রহস্য লুকিয়ে রয়েছে ‘ফ্যারাডে কেজ’ (Faraday Cage) নীতির ওপর। বাণিজ্যিক বিমানগুলোর বাইরের অবয়ব বা ফিউজলাজ মূলত পরিবাহী ধাতু দিয়ে তৈরি করা হয়। যখনই কোনো বজ্রপাত বিমানের গায়ে আঘাত করে, তখন সেই বিপুল পরিমাণ বৈদ্যুতিক চার্জ বিমানের ভেতরের অংশে প্রবেশ না করে বাইরের ধাতব কাঠামো বেয়েই অন্য প্রান্ত দিয়ে মাটিতে বা বাতাসে মিলিয়ে যায়। ফলে যাত্রীরা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকেন, যদিও তীব্র আলো ও বিকট শব্দ তাদের আতঙ্কিত করে তুলতে পারে।

নিরাপত্তা প্রোটোকল ও পরবর্তী পরীক্ষা-নিরীক্ষা
বজ্রপাতের কবলে পড়ার পর বিমানটি নিরাপদে অবতরণ করলেই সঙ্গে সঙ্গে সেটিকে পুনরায় উড্ডয়নের অনুমতি দেওয়া হয় না। বরং স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রোটোকল মেনে দক্ষ ইঞ্জিনিয়াররা বিমানের সামনের ক্ষতিগ্রস্ত রেডোম, রাডার, ডানা এবং ভেতরের বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করেন। প্রয়োজনীয় মেরামত ও ছাড়পত্র পাওয়ার পরই কেবল বিমানটিকে আবার যাত্রী পরিবহনের জন্য আকাশে ওড়ানো হয়। সুতরাং, বাইরে থেকে দেখতে ভয়ংকর মনে হলেও আধুনিক বিজ্ঞানের কল্যাণে এ ধরনের পরিস্থিতিতেও যাত্রীদের নিরাপত্তা শতভাগ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।
তথ্যসূত্র: নিউজ ১৮