এভিয়েশন ডেস্ক
২৭ এপ্রিল ২০২৬, ০৩:২০ পিএম
টার্কিশ এয়ারলাইন্স ২০২৬ সালের উত্তর গোলার্ধের গ্রীষ্মকালীন সময়সূচীতে তাদের বৈশ্বিক নেটওয়ার্কে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে। এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে আফ্রিকা, ইউরোপ এবং এশিয়ার ১৮টি আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ফ্লাইট পরিচালনা স্থগিত করা হচ্ছে। মূলত ইস্তাম্বুল বিমানবন্দরকে কেন্দ্র করে নিজেদের সক্ষমতা এবং রুটগুলোর পারফরম্যান্স যাচাই করে এই নতুন সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রুট স্থগিতের সময়সীমা ও বিস্তৃতি
মে ও জুন মাস থেকে শুরু হতে যাওয়া এই স্থগিতাদেশের প্রভাব পড়বে মধ্যপ্রাচ্য, মধ্য এশিয়া এবং ইউরোপের বিভিন্ন শহরে। এর মধ্যে আকাবা, বিলুন্ড, বিসাউ, ফ্রিটাউন এবং হাভানার মতো গন্তব্যগুলো রয়েছে। এছাড়া আফ্রিকার লুয়ান্ডা, কিনশাসা, লিব্রেভিল এবং লুসাকার মতো শহরগুলোতেও পরিষেবা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে। কিছু কিছু রুটে এই স্থগিতাদেশ ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বহাল থাকবে, আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে তা ২০২৭ সালের মার্চ মাস পর্যন্ত দীর্ঘায়িত হতে পারে।
আঞ্চলিক ফ্লাইট ও সংযোগ পুনর্গঠন
এয়ারলাইনসটি তাদের বেশ কিছু মাল্টি-সেক্টর রুট বা বহুপাক্ষিক রুটগুলো সহজ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বিশেষ করে পশ্চিম ও মধ্য আফ্রিকার শহরগুলোর ক্ষেত্রে ইস্তাম্বুল থেকে সরাসরি প্রধান শহর যেমন আকরা বা ডাকার পর্যন্ত ফ্লাইট চালু থাকলেও, সেখান থেকে অন্য শহরে যাওয়ার সংযোগকারী ফ্লাইটগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। এছাড়া হারগাদা, নাজাফ এবং কিরকুকের মতো গুরুত্বপূর্ণ রুটগুলোও বর্তমান গ্রীষ্মকালীন সূচী থেকে বাদ পড়েছে।
ইরান রুটের বর্তমান অবস্থা
ইরানের বেশ কিছু শহরেও টার্কিশ এয়ারলাইন্স তাদের কার্যক্রম স্থগিত রেখেছে। ইসফাহান, মাশহাদ, শিরাজ এবং তাবরিজগামী ফ্লাইটগুলো অন্তত ২০২৬ সালের অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ থাকবে বলে জানানো হয়েছে। তবে তেহরান রুটে ফ্লাইটের তালিকা থাকলেও আঞ্চলিক পরিস্থিতি এবং অপারেশনাল কন্ডিশনের ওপর ভিত্তি করে যেকোনো সময় তা পরিবর্তন হতে পারে।
ভবিষ্যৎ লক্ষ্য ও দক্ষতা বৃদ্ধি
এই পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো বাজারের চাহিদার সাথে সামঞ্জস্য রেখে বিমানের সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা। টার্কিশ এয়ারলাইন্স বর্তমানে যেসব রুটে যাত্রী চাহিদা অনেক বেশি, সেখানে সক্ষমতা বাড়িয়ে দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর জোর দিচ্ছে। বৈশ্বিক এভিয়েশন খাতের পরিবর্তিত পরিস্থিতির সাথে খাপ খাইয়ে নিতেই এই রুট ম্যাপ সংশোধন করা হয়েছে।
এজেড