images

ককপিট

যাত্রীবাহী বিমানে হঠাৎ কাঠের বাক্স ভেঙে বেরিয়ে এলো ভাল্লুক

এভিয়েশন ডেস্ক

০৮ আগস্ট ২০২৩, ০৪:৩২ পিএম

যাত্রীরা বিমানে উঠে বসেছেন তাদের নিজ নিজ আসনে। পাইলট ও ক্রুরাও তৈরি। খানিকবাদেই আকাশে উড়বে বিমান। কিন্তু এরই মাঝে ঘোষণা এলো দ্রুত যাত্রীদের বিমান থেকে নেমে যাওয়ার। কিন্তু কেন? তবে কি বিমানে যান্ত্রিক ত্রুটি ধরা পড়েছে। 

আসলে যাত্রীদের সঙ্গে ওই বিমানে সওয়ারি হয়েছিল একটি জ্যান্ত ভাল্লুক। আর তাতেই বাধে বিপত্তি। বন্য এই প্রাণী হঠাৎই বাক্স ভেঙে বেরিয়ে পড়ে। অদ্ভুত এই ঘটনার সাক্ষী হলেন ইরাকি এয়ারওয়েজের এক বিমানের যাত্রীরা।

AIRএমন ঘটনা সত্যিই বিরল। এর ফলে বিমানটি যাড়তে দেরিই শুধু হয়নি, ঝড় উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়ায়। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে গত সপ্তাহে, দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘটনার একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে। সেই ভিডিও ক্লিপের শুরুতে দেখা যাচ্ছে, মালপত্র রাখার জায়গা থেকে মুখ বের করে আছে ভাল্লুকটি। এক ব্যক্তিকে দেখা যায়, মাথায় হাত বুলিয়ে তাকে শান্ত করার চেষ্টা করতে। পরের অংশে দেখা গিয়েছে যাত্রীরা ফের বিমানে নিজ নিজ আসনে বসে আছেন। 

টেকঅফে দেরি হওয়ার জন্য, বিমানের চালক যাত্রীদের কাছে ক্ষমা চাইছেন। দেরির কারণ হিসেবে তিনি জানান, মালপত্র রাখার জায়গায় একটি কাঠের বাক্সে ভাল্লুকটি রাখা ছিল। বিমানটি ছাড়ার ঠিক আগে সেটি ওই কাঠের বাক্স ভেঙে বেরিয়ে আসে। 

iraq air bdওই বিমানের এক যাত্রী জানিয়েছেন, বিমানটি দুবাই থেকে ইরাকের বাগদাদে ফিরছিল। ভাল্লুক কাণ্ডের জন্য নির্ধারিত সময়ের থেকে এক ঘণ্টার বেশি পিছিয়ে যায় বিমানটি। ভাল্লুকটি বাক্স মুক্ত হওয়ার পর, ওই অবস্থাতেই যদি বিমানটি উড়ে যেত, তাহলে বড় বিপদ ঘটতে পারত।

এই ঘটনায় প্রশ্নের মুখে পড়েছে ইরাকি এয়ারওয়েজ। তবে তারা দাবি করেছে, ভাল্লুকটি নিরাপদে পরিবহনের ক্ষেত্রে তাদের কোনও ত্রুটি ছিল না। ভাল্লুক পরিবহনের যে নিয়ম বেঁধে দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশন, সেই নিয়ম মেনেই ভাল্লুকটুকে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল বাগদাদে। ভাল্লুকটি কাঠের বাক্স থেকে বেরিয়ে পড়ার পরই, তারা সংযুক্ত আরব আমিরাতের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল। তাদের সঙ্গে সবরকম সহযোগিতা করা হয়েছে। আমিররাত কর্তৃপক্ষ অবিলম্বে বিশেষজ্ঞদের পাঠিয়েছিল এবং বিমান থেকে প্রাণীটিকে নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। দুবাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পক্ষ থেকে এই ঘটনা সম্পর্কে কোনও মন্তব্য করা হয়নি।

প্রশ্ন উঠেছে ভাল্লুকটিকে কোথায় কী উদ্দেশ্যে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল? ইরাকি এয়ারওয়েজের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, ভাল্লুকটিকে বাগদাদে নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। বাগদাদের এক ধনি ব্যক্তি পুষবেন বলে ওই ভাল্লুকটিকে নিয়ে আসছিলেন। তবে ওই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করতে চাননি, ইরাকি এয়ারওয়েজের কর্মকর্তারা। আসলে বাগদাদের ধনীরা ইদানিং বাঘ-সিংহ-ভাল্লুকের মতো বন্য প্রাণীদের পোষ্য হিসেবে বাড়িতে রাখা প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, ইরাক সরকার বন্য প্রাণীদের সুরক্ষায় নতুন আইন তৈরির কথা ভাবছে। অনেক সময় ধনীদের বাড়ির ব্যক্তিগত চিড়িয়াখানা থেকে শহরের রাস্তায় বেরিয়ে যাচ্ছে বন্য প্রাণীগুলো। আবার অনেক সময়, বিভিন্ন রেস্তোরাঁয় ভাড়া হিসেবে নিয়ে আসা হয় বন্য প্রাণীদের। 

এই ধরনের ঘটনা রোধ করতে, নাগরিকদেরকে এই ধরনের প্রাণীদের দেখলেই তাদের খবর দিতে বলেছে বাগদাদ পুলিশ। বিমানে ভাল্লুক মুক্ত হয়ে যাওয়ার এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন ইরাকের প্রধানমন্ত্রী।

সূত্র: টিভি৯

এজেড