অটোমোবাইল ডেস্ক
৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০০ পিএম
১২৫ সিসি থেকে ২৫০ সিসি মোটরসাইকেলের বাজারে নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে সম্পূর্ণ নতুন দুটি ব্র্যান্ড আনার পরিকল্পনা করেছে বাজাজ অটো (Bajaj Auto)। ২০২৭ অর্থবর্ষের মধ্যেই এই দুটি নতুন প্রোডাক্ট লাইন বাজারে আনার লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে সংস্থাটি। ভারতের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেই বিক্রি করা হবে এই মোটরসাইকেলগুলো।
বাজাজ অটোর যুগ্ম ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাকেশ শর্মা সংস্থার দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকের আর্থিক ফল প্রকাশের পরই এই ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা জানান। তার মতে, নতুন এই দুটি ব্র্যান্ড জনপ্রিয় পালসার (Pulsar) সিরিজের পরিপূরক হিসেবে কাজ করবে এবং ১২৫ থেকে ২৫০ সিসি সেগমেন্টের বৈচিত্র্যময় ক্রেতাদের চাহিদা পূরণ করতে সক্ষম হবে।

পালসার ছাড়াও নতুন ব্র্যান্ডের প্রস্তুতি
রাকেশ শর্মা জানান, নতুন দুটি ব্র্যান্ডের মাধ্যমে ১২৫ সিসি থেকে ২৫০ সিসি ক্যাটাগরির নির্দিষ্ট কিছু সাব-সেগমেন্টকে লক্ষ্য করা হচ্ছে। তবে প্রতিটি ব্র্যান্ডই যে পুরো ১২৫-২৫০ সিসি রেঞ্জের বাইক আনবে, বিষয়টি এমন নয়; বরং দুটি ব্র্যান্ডের পণ্যের পজিশনিং ও লক্ষ্য ক্রেতাদের মধ্যে ভিন্নতা থাকবে। এর ফলে একই শ্রেণির গ্রাহকদের জন্য একাধিক বিকল্প তৈরি করতে পারবে বাজাজ।
এর আগে ২০২৭ অর্থবর্ষের প্রথম ত্রৈমাসিকের আর্থিক ফল প্রকাশের সময়েও সংস্থাটি দুটি নতুন ব্র্যান্ড আনার ইঙ্গিত দিয়েছিল। সেই সময় মূলত ১২৫ সিসি সেগমেন্টে জোর দেওয়ার পাশাপাশি ১০০ সিসি বাইক ব্যবহারকারীদের আরও শক্তিশালী ইঞ্জিনের মোটরসাইকেলে উন্নীত করার পরিকল্পনা ছিল। নতুন এই মডেলগুলোর মাধ্যমে মূলত পালসার সিরিজের বাইরের ক্রেতাদের আকর্ষণ করতে চাইছে সংস্থাটি।

বাজারের অংশীদারিত্ব ধরে রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ
গত অর্থবর্ষে ১২৫ সিসি এবং ১৫০ সিসির বেশি ক্ষমতার মোটরসাইকেলের বাজারে বাজাজের মার্কেট শেয়ার কিছুটা কমেছিল। সংস্থার মতে, পুরনো কয়েকটি মডেলের জীবনচক্র শেষের দিকে পৌঁছে যাওয়াই এর অন্যতম প্রধান কারণ। এই পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে প্রথমে ১৫০ সিসির বেশি ক্ষমতার সেগমেন্টে নতুন করে মনোযোগ দেয় তারা। শর্মার ব্যাখ্যা অনুযায়ী, ১৫০ সিসি সেগমেন্টের বাইক একটি ব্র্যান্ডের পরিচিতি ও ভাবমূর্তি দৃঢ় করতে সাহায্য করে, যার ইতিবাচক প্রভাব পড়ে কম ক্ষমতার ইঞ্জিনের মডেলগুলোর চাহিদাতেও।
বর্তমানে পালসার এনএস (Pulsar NS) এবং এন (N) সিরিজের বাইকগুলো ১৫০ সিসির বেশি ক্ষমতার বাজারে সামগ্রিক প্রবৃদ্ধির তুলনায় দ্রুত এগিয়ে চলেছে। তবে ক্লাসিক পালসার মডেল এবং ১০০ সিসি সেগমেন্টের তুলনামূলক দুর্বল পারফরম্যান্স সংস্থার সামগ্রিক বাজার দখলে কিছুটা চাপ সৃষ্টি করেছে। পুরনো পালসার মডেলগুলোতে রিফ্রেশ আনার মূল উদ্দেশ্যই ছিল বাজারের অংশীদারিত্বের স্থবিরতা কাটানো।
১০০ সিসি বাইকে কম দামের প্রতিযোগিতায় নারাজ বাজাজ
এন্ট্রি-লেভেল ১০০ সিসি সেগমেন্টে লাভের মার্জিন বজায় রাখতে দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাজাজ। এর ফলে বিক্রির পরিমাণ কিছুটা কমলেও সংস্থা আগ্রাসীভাবে দাম কমিয়ে বাজার দখল করার পথে হাঁটতে নারাজ। বরং তাদের সমস্ত ভবিষ্যৎ বিনিয়োগের বড় অংশ ১২৫ সিসি বা তার বেশি ক্ষমতার মোটরসাইকেলের দিকে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।

গত কয়েক সপ্তাহে এই কৌশলের অংশ হিসেবে একাধিক নতুন মডেল ও আপডেটেড বাইক বাজারে এনেছে বাজাজ। তালিকায় রয়েছে নতুন পালসার ১২৫ ও পালসার ১৫০, এবং আপডেটেড পালসার এন১৬০ এস, এন১৬০ এসএস, এনএস৪০০জেড, এন২৫০এসএস ও এনএস২০০। সংস্থার দাবি, নতুন এই মডেলগুলোর অবদান বাজাজের ১২৫ সিসির বেশি ক্ষমতার পোর্টফোলিওতে দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে। গত আগস্টে এই মডেলগুলোর অবদান ছিল ৭ শতাংশ, যা সেপ্টেম্বরে বেড়ে দাঁড়ায় ২৬ শতাংশে এবং উৎসবের মরশুমের প্রথম ১৬ দিনে তা ৩৩ শতাংশে পৌঁছেছে।
আন্তর্জাতিক বাজারেও বাড়ছে রফতানি
ভারতের বাজারের পাশাপাশি বিদেশের বাজারেও নিজেদের ব্যবসা সফলভাবে প্রসারিত করছে বাজাজ অটো। ২০২৭ অর্থবর্ষের দ্বিতীয় ত্রৈমাসিকে সংস্থার মোট রপ্তানি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৪১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৭.৮ লক্ষ গাড়িতে দাঁড়িয়েছে। আফ্রিকা এবং লাতিন আমেরিকা অঞ্চলে মোটরসাইকেলের চাহিদা ছিল বিশেষভাবে শক্তিশালী। আফ্রিকায় রফতানি বেড়েছে ৮৩ শতাংশ এবং ব্রাজিলসহ লাতিন আমেরিকার দেশগুলোতে প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৪৪ শতাংশ। আগামী দিনে বিদেশের বাজারে গ্রাহকভিত্তি আরও প্রসারিত করা এবং কেটিএম (KTM)-এর সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে রফতানি আরও বাড়াতে চায় বাজাজ।
আরও পড়ুন: এক লিটার পেট্রোলে ৭৫ কিলোমিটার চলে এসব মোটরসাইকেল
উল্লেখ্য, নতুন দুই ব্র্যান্ডের নাম, নির্দিষ্ট মডেলের বিবরণ, ইঞ্জিন স্পেসিফিকেশন এবং দাম এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি। তবে এই পরিকল্পনা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হলে পালসারের পাশাপাশি ১২৫-২৫০ সিসি বাজারে বাজাজের পণ্যের পরিধি আরও বহুগুণ প্রসারিত হবে।
এজেড