অটোমোবাইল ডেস্ক
৩০ অক্টোবর ২০২৬, ১০:০০ এএম
প্রতিদিন অফিসে যাতায়াত হোক কিংবা পরিবারের নানা কাজে, কম খরচে বেশি পথ পাড়ি দিতে পারেন এমন মোটরবাইকই ক্রেতাদের পছন্দ। বিশেষ করে এই মৌসুমে নতুন বাইক কেনার পরিকল্পনা থাকলে বাজারে একাধিক সাশ্রয়ী বিকল্প পাওয়া যায়। বাজাজ প্লাটিনা ১০০ থেকে শুরু করে হিরো স্প্লেন্ডার প্লাসের মতো মডেলগুলো বাজারে ব্যাপক জনপ্রিয়। এই তালিকার কিছু বাইক এক লিটার পেট্রোলে ৭০ থেকে ৭৫ কিলোমিটার পর্যন্ত যেতে পারে বলে দাবি করা হয়। তবে বাস্তবে এর পারফরম্যান্স নির্ভর করে রাস্তার পরিস্থিতি, ট্রাফিক, বাইকের সঠিক দেখভাল এবং চালকের অভ্যাসের ওপর।
বাজাজ প্লাটিনা ১০০
বাজাজ প্লাটিনা ১০০ মূলত আরামদায়ক দৈনন্দিন যাতায়াতের কথা মাথায় রেখে তৈরি করা হয়েছে। এর নকশা সাধারণ হলেও এতে যুক্ত করা হয়েছে আকর্ষণীয় হেডল্যাম্প ভিজর, স্লিক গ্রাফিক্স এবং বেশ লম্বা ও আরামদায়ক আসন। সেই সঙ্গে রয়েছে এলইডি দিনের বেলা জ্বলা আলো বা ডে-টাইম রানিং লাইট এবং অ্যানালগ মিটার। বাইকটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ১০২ সিসির ফোর-স্ট্রোক ডিটিএস-আই একক-সিলিন্ডার ইঞ্জিন, যা ৭.৯ পিএস শক্তি এবং ৮.৩৪ নিউটন-মিটার টর্ক উৎপন্ন করতে পারে। সুরক্ষার জন্য এতে রয়েছে কম্বাইন্ড ব্রেকিং সিস্টেম এবং ভালো গ্রিপের টায়ার। এর কমফোরটেক সাসপেনশন খারাপ রাস্তাতেও রাইডকে বেশ আরামদায়ক রাখে। ভারতের বাজারে এর এক্স-শোরুম দাম শুরু হয়েছে ৭০,৫১১ রুপি থেকে এবং এটি প্রতি লিটারে প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ কিলোমিটার পর্যন্ত মাইলেজ দিয়ে থাকে।
টিভিএস রেডিয়ন
ধ্রুপদী রেট্রো লুক এবং মজবুত গঠনের কারণে টিভিএস রেডিয়ন সবার নজর কাড়ে। বাইকটিতে রয়েছে ক্রোম অ্যাকসেন্ট, জ্বালানি ট্যাঙ্কের প্যাড এবং ডিজিটাল-অ্যানালগ মিটারের ছোঁয়া। পাশাপাশি ইউএসবি চার্জিং পোর্ট এবং সাইড-স্ট্যান্ড ব্যবহারের সতর্কতামূলক শব্দের মতো সুবিধাও যুক্ত করা হয়েছে। এটি চালিত হয় ১০৯.৭ সিসির ডিউরালাইফ ইঞ্জিনের শক্তিতে, যা ৮.১৯ পিএস শক্তি এবং ৮.৭ নিউটন-মিটার টর্ক তৈরি করে। এর ব্রেকিং ব্যবস্থায় রয়েছে সিংক্রোনাইজড ব্রেকিং টেকনোলজি। গ্রাহকের পছন্দ অনুযায়ী এতে ড্রাম ও ডিস্ক ব্রেকের পৃথক সংস্করণ বেছে নেওয়া যায়। বাইকটির এক্স-শোরুম দাম শুরু হয়েছে ৫৯,৯৫০ রুপি থেকে এবং এটি প্রতি লিটারে প্রায় ৬৫ থেকে ৭৩ কিলোমিটার মাইলেজ প্রদান করে।
_20261030_095924187.jpeg)
হিরো এইচএফ ডিল্যাক্স
কম খরচে দৈনন্দিন যাতায়াতের জন্য হিরো এইচএফ ডিল্যাক্স অত্যন্ত বিশ্বস্ত একটি নাম। ওজনে হালকা ও সরু হওয়ায় শহরের জ্যামে কিংবা গ্রামের কাঁচা রাস্তায় এটি চালানো বেশ সহজ। বাইকটিতে অ্যানালগ মিটার কনসোল, নান্দনিক বডি গ্রাফিক্সের পাশাপাশি স্বয়ংক্রিয় স্টার্ট সুবিধা এবং অ্যালয় চাকার সুবিধাও রয়েছে। এতে দেওয়া হয়েছে ৯৭.২ সিসির বাতাস দিয়ে ঠান্ডা হওয়া বা এয়ার-কুলড ফোর-স্ট্রোক ইঞ্জিন, যা ৮.০২ পিএস শক্তি এবং ৮.০৫ নিউটন-মিটার টর্ক উৎপন্ন করে। নিরাপদ থামানোর জন্য যুক্ত রয়েছে হিরোর ইন্টিগ্রেটেড ব্রেকিং সিস্টেম। নির্দিষ্ট কিছু সংস্করণে তাদের নিজস্ব আই-থ্রি-এস বা আইডল স্টপ-স্টার্ট প্রযুক্তি রয়েছে, যা ট্রাফিকে বাইক থামা অবস্থায় অপ্রয়োজনীয় জ্বালানি খরচ রোধ করে। ভারতের বাজারে এর এক্স-শোরুম দাম শুরু হয়েছে ৫৯,৯৯৯ রুপি থেকে এবং এটি প্রতি লিটারে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ কিলোমিটার যায়।
হোন্ডা শাইন ১০০
হোন্ডা শাইন ১০০ বাইকটিতে সাধারণ যাতায়াতের সুবিধার পাশাপাশি কিছুটা প্রিমিয়াম ছোঁয়াও রাখা হয়েছে। এতে রয়েছে লম্বা আসন, পুরোপুরি কালো অ্যালয় চাকা, টুইন-পড অ্যানালগ মিটার এবং ৯ লিটারের জ্বালানি ধারণক্ষমতা সম্পন্ন ট্যাঙ্ক। বাইকটিতে ৯৮.৯৮ সিসির বিশেষ ওবিডি-২ মানসম্পন্ন ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে, যা ৭.৩৮ পিএস শক্তি এবং ৮.০৫ নিউটন-মিটার টর্ক উৎপন্ন করতে পারে। রাইডারের নিরাপত্তার জন্য দেওয়া হয়েছে সমতা বজায় রাখা কম্বি ব্রেক সিস্টেম এবং সাইড-স্ট্যান্ড ফেলা থাকলে ইঞ্জিন নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রযুক্তি। এই বাইকটির এক্স-শোরুম দাম শুরু হয়েছে ৬৫,৬৪২ রুপি থেকে এবং এটি প্রতি লিটারে প্রায় ৬৫ কিলোমিটারের কাছাকাছি মাইলেজ প্রদান করে।
আরও পড়ুন: নতুন রূপে আসছে বাজাজ পালসার ২২০এফ মডেলের মোটরসাইকেল
হিরো স্প্লেন্ডার প্লাস
ভারতের সবচেয়ে জনপ্রিয় কমিউটার বাইকগুলোর তালিকায় হিরো স্প্লেন্ডার প্লাস অন্যতম। এর পরিচিত চারকোনা নকশা, সহজ মেরামত সুবিধা এবং সহনশীলতার কারণে এটি ব্যাপক সমাদৃত। এর আধুনিক এক্সটেক সংস্করণে ডিজিটাল মিটার, ব্লুটুথ সংযোগ এবং ফোনে আসা কল বা বার্তার সতর্কবার্তা পাওয়ার সুবিধা যুক্ত করা হয়েছে। বাইকটিতে রয়েছে ৯৭.২ সিসির একক-সিলিন্ডার ইঞ্জিন, যা ৮.০২ পিএস শক্তি এবং ৮.০৫ নিউটন-মিটার টর্ক উৎপন্ন করে। সুরক্ষায় রয়েছে ইন্টিগ্রেটেড ব্রেকিং সিস্টেম, টিউবলেস টায়ার এবং নির্দিষ্ট মডেলে আই-থ্রি-এস প্রযুক্তি। ভারতের বাজারে এর এক্স-শোরুম দাম ৭৮,৪৭৪ রুপি থেকে শুরু হয় এবং এটি প্রতি লিটারে প্রায় ৬৫ থেকে ৭০ কিলোমিটার যেতে পারে।
এজেড