অটোমোবাইল ডেস্ক
২৪ অক্টোবর ২০২৬, ১১:১১ এএম
ভারতের চার মিটারের কম দৈর্ঘ্যের এসইউভি বাজারে প্রতিযোগিতা আরও বাড়াতে নতুন মডেল আনার প্রস্তুতি নিচ্ছে মাহিন্দ্রা। ২০২৫ সালে প্রথম দেখানো ‘ভিশন এস’ ধারণাগত মডেলটির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হতে চলা এই গাড়িটিকে সম্প্রতি ফের পরীক্ষামূলক অবস্থায় রাস্তায় চলতে দেখা গেছে। এবার যে নতুন ছবিগুলো সামনে এসেছে, তাতে গাড়িটির বাইরের ডিজাইনের পাশাপাশি ভেতরের বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ অংশও স্পষ্ট ধরা পড়েছে। ফলে মূল উৎপাদন মডেলটি কেমন হতে পারে, তা নিয়ে গাড়িপ্রেমীদের মধ্যে নতুন করে কৌতুহল তৈরি হয়েছে।
বক্সি নকশা ও আধুনিক আলোর ঝলক
সামনে আসা নতুন ছবিতে গাড়িটির সামনের অংশের চওড়া ও শক্তপোক্ত বাম্পারের সঙ্গে বক্সি বা চারকোনা নকশা সবার নজর কাড়ছে। সামনের গ্রিলে রয়েছে সোজা দাগের নকশা এবং তার সঙ্গে যুক্ত করা হয়েছে আধুনিক এলইডি হেডল্যাম্প। সামগ্রিক বিচারে গাড়িটিতে আধুনিক এসইউভির পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী অফ-রোড বা খানা-খন্দকের পথ চলার গাড়ির ছাপ ধরে রাখা হয়েছে। পাশ থেকে চাকার ওপরের বিশেষ আবরণ এবং ওঠার জন্য বাড়তি ধাপ চোখে পড়ে। এছাড়া বাইরের আয়নায় ক্যামেরার উপস্থিতি দেখে মনে করা হচ্ছে, গাড়িটিতে ৩৬০-ডিগ্রি ক্যামেরা ব্যবস্থা থাকতে পারে।

জোড়া পর্দা ও আধুনিক অভ্যন্তরীণ নকশা
গাড়িটির ভেতরের কেবিনের ছবিই এবার নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। মূল ড্যাশবোর্ডের নকশায় আগের ধারণাগত মডেলের স্পষ্ট ছাপ দেখা যাচ্ছে। চালকের সামনে রয়েছে দুইটি আলাদা পর্দার ডিজিটাল সেটআপ এবং ত্রিভুজাকৃতির এসি ভেন্ট। তিন-স্পোকের স্টিয়ারিং হুইলে ডিজিটাল যন্ত্রাংশ ও গান বা বিনোদন নিয়ন্ত্রণের জন্য বোতাম রয়েছে। কেবিনে ওঠার সুবিধায় একটি বিশেষ হাতল যুক্ত করা হয়েছে, যা মাহিন্দ্রার পুরোনো থার মডেলের কথা মনে করিয়ে দেয়। গাড়ির ভেতরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের প্যানেলে স্পর্শকাতর টাচ-নিয়ন্ত্রণ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স ও যান্ত্রিক হ্যান্ডব্রেক
পরীক্ষামূলক গাড়িটিতে হাত দিয়ে চালনা করার ম্যানুয়াল গিয়ারবক্স এবং যান্ত্রিক হ্যান্ডব্রেক দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি অপেক্ষাকৃত কম ফিচারযুক্ত কোনো প্রাথমিক বা সাধারণ সংস্করণ হতে পারে। স্টিয়ারিং হুইলের ডান দিকে ট্র্যাকশন কন্ট্রোল চালু বা বন্ধ করার বোতাম, আলোর সমতা ঠিক করার লেভেলার এবং সামনের পার্কিং সেন্সর বন্ধ করার সুবিধা রয়েছে। অফ-রোডিং বা শক্ত পথে চলচল করার জন্য এই ফিচারগুলো বেশ সহায়ক হবে।

পেট্রোল ও ডিজেল ইঞ্জিনের পাশাপাশি বিদ্যুতের সম্ভাবনা
মাহিন্দ্রা এখনো এই গাড়িটির চূড়ান্ত ইঞ্জিনের কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে এটি সংস্থার বিশেষ ‘এনইউ-আইকিউ’ কাঠামোর ওপর ভিত্তি করে তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। শুরুতে পেট্রোল ও ডিজেল ইঞ্জিনের বিকল্প থাকলেও ভবিষ্যতে এটি সম্পূর্ণ বিদ্যুৎচালিত রূপেও আসতে পারে। এমনকি এক্সইউভি ৩এক্সও মডেলের ১.২ লিটার টার্বো-পেট্রোল ও ১.৫ লিটার ডিজেল ইঞ্জিন এতে ব্যবহারের সম্ভাবনা রয়েছে। এই মডেলে ৪×৪ চালিকাশক্তি বা চার চাকায় ক্ষমতা সরবরাহের ব্যবস্থা থাকলে এটি বাজারে অন্য সব সাধারণ চার মিটারের ছোট গাড়ির চেয়ে অনেক এগিয়ে থাকবে।
আরও পড়ুন: প্রাইভেট কারের ছাদে ছোট পাখনার মতো এই জিনিসটা কী?
বাজারে সম্ভাব্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা
গাড়ির আকার ও সার্বিক অবস্থান অনুযায়ী মাহিন্দ্রার এই নতুন মডেলটি মারুতি সুজুকি ব্রেজা, হাইওন্দাই ভেন্যু, কিয়া সোনেট এবং টাটা নেক্সনের মতো জনপ্রিয় গাড়িগুলোর সাথে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। তবে এর ভিন্নধর্মী চারকোনা ছাঁচ ও অফ-রোডিং ক্ষমতা এটিকে মারুতি সুজুকি জিমনি এবং মাহিন্দ্রা থারের বিকল্প হিসেবেও ক্রেতাদের কাছে আকর্ষণীয় করে তুলতে পারে। আগামী ২০২৭ সালের মধ্যে গাড়িটির মূল উৎপাদন সংস্করণ বাজারে আসার জোরালো আশা করা হচ্ছে।
এজেড