অটোমোবাইল ডেস্ক
২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৩৫ এএম
ভক্সওয়াগেনের পুনর্গঠন পরিকল্পনা নিয়ে স্টেকহোল্ডারদের সমর্থন মিললেও সংস্থার সিইও অলিভার ব্লুমের সামনে এখনও বেশ কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত রয়েছে। জার্মানিতে কর্মী ছাঁটাই, একাধিক কারখানা বন্ধের সম্ভাবনা এবং আমেরিকার বাজারে নতুন কৌশল নিয়ে সংস্থাকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নিতে হবে। একই সঙ্গে চীনের বাজারে বিক্রি কমে যাওয়ায় সেখানেও উৎপাদন ক্ষমতা কমানোর পথে হাঁটছে জার্মান গাড়ি নির্মাতা।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভক্সওয়াগেনের সুপারভাইজরি বোর্ডের বৈঠকে পুনর্গঠনের বিভিন্ন বিষয় এবং আমেরিকার কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। মার্কিন শুল্কের কারণে সংস্থাটি ইতিমধ্যেই কয়েক বিলিয়ন ইউরোর ক্ষতির মুখে পড়েছে। ফলে কোন মডেল কোথায় উৎপাদন করা হবে এবং কোন সেগমেন্টে বিনিয়োগ বাড়ানো হবে, তা পুনর্গঠনের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
ভক্সওয়াগেনের সামনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হল আমেরিকার বাজারে তাদের ভবিষ্যৎ কৌশল। সংস্থাটি মার্কিন বাজারে তুলনামূলক বেশি লাভজনক পিকআপ ট্রাক এবং বড় এসইউভি সেগমেন্টে আরও জোর দিতে চাইছে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল প্রিমিয়াম ব্র্যান্ড অডির জন্য আমেরিকায় আলাদা উৎপাদন কেন্দ্র তৈরি করা হবে কি না। এই সিদ্ধান্তের জন্য ভক্সওয়াগেনের সংশ্লিষ্ট কমিটির অনুমোদন প্রয়োজন।
ভক্সওয়াগেনের সমস্যা শুধু আমেরিকা বা ইউরোপে সীমাবদ্ধ নয়। চীনের বাজারেও সংস্থাটি চাপের মুখে রয়েছে। ২০২৬ সালে চীনের যাত্রীবাহী গাড়ির বাজার প্রায় ২০ শতাংশ কমতে পারে বলে ভক্সওয়াগেনের চীনা বিভাগের প্রধান জানিয়েছেন। আগস্ট পর্যন্ত চীনের অভ্যন্তরীণ গাড়ি বিক্রি টানা ১১ মাস কমেছে। এই পরিস্থিতিতে চীনে ভক্সওয়াগেনের কর্মী সংখ্যা ৯০,০০০ থেকে কমিয়ে প্রায় ৭০,০০০ করা হয়েছে এবং আরও কর্মী কমানোর সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে চীনে প্রায় ৫ লক্ষ গাড়ির সমপরিমাণ উৎপাদন ক্ষমতা কমানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

ভক্সওয়াগেনের পুনর্গঠনের সবচেয়ে সংবেদনশীল অংশ হলো জার্মানিতে কর্মী ছাঁটাই। সংস্থার অতিরিক্ত ৫০,০০০ কর্মী কমানোর পরিকল্পনার প্রায় অর্ধেক জার্মানিতে হতে পারে। আইজি মেটাল, ভক্সওয়াগেন এবং ওয়ার্কস কাউন্সিলের প্রতিনিধিদের হ্যানোভারে বৈঠকে বসার কথা রয়েছে। শ্রমিক সংগঠনটি পুনর্গঠন পরিকল্পনা ২০২৪ সালের চুক্তির শর্ত ভাঙছে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ জানাতে পারে। জার্মানির সবচেয়ে বড় শিল্প শ্রমিক সংগঠনটি ১ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত ধর্মঘট না করার চুক্তির মধ্যে থাকায় আপাতত আলোচনার মাধ্যমে চাপ তৈরি করার চেষ্টা চলছে।
ইউরোপের উৎপাদন ব্যবস্থা নতুন করে সাজানোর পরিকল্পনা করছে ভক্সওয়াগেন। দীর্ঘদিনের কম চাহিদার কারণে সংস্থাটি ৫ লক্ষের বেশি গাড়ির সমপরিমাণ উৎপাদন ক্ষমতা কমাতে চাইছে। এই পরিকল্পনার মধ্যে জার্মানির এমডেন, জুইকাউ, হ্যানোভার এবং নেকারজুল্ম কারখানার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, এই কারখানাগুলি ২০৩১ থেকে ২০৩৪ সালের মধ্যে ধাপে ধাপে বন্ধ হতে পারে। তবে এর বিকল্প হিসেবে কিছু কারখানাকে প্রতিরক্ষা শিল্পের কাজে ব্যবহার করা বা চীনা সংস্থার সঙ্গে অংশীদারিত্বের মতো সম্ভাবনাও আলোচনায় রয়েছে।
আরও পড়ুন: পুরনো লুকে মিলবে নতুন স্পিড, ল্যান্ড রোভার আনল নতুন ডিফেন্ডার গাড়ি
কর্মী ছাঁটাই কমানোর ক্ষেত্রে কাজের সময় নিয়েও আলোচনা হতে পারে। ২০২৪ সালের শ্রম চুক্তিতে এমন একটি ব্যবস্থা রয়েছে, যার মাধ্যমে ভক্সওয়াগেন আর্থিক সমস্যায় পড়লে দুই পক্ষের সম্মতিতে কর্মীদের চার দিনের কর্মসপ্তাহ চালু করা যেতে পারে। সাম্প্রতিক সময়ে ভক্সওয়াগেন ২০২৬ সালের লাভের পূর্বাভাসও সর্বোচ্চ ১ শতাংশে নামিয়ে এনেছে। ফলে অলিভার ব্লুমের সামনে পরবর্তী পর্যায়ের সিদ্ধান্তগুলো আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে এবং এই প্রশ্নগুলির উত্তরই ভক্সওয়াগেনের পরবর্তী পুনর্গঠনের দিক নির্ধারণ করবে।
এজেড