অটোমোবাইল ডেস্ক
১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:১৪ এএম
ভারতীয় বাজারে নতুন প্রজন্মের বাজাজ পালসার ১২৫ নিয়ে হাজির হয়েছে বিখ্যাত অটোমোবাইল প্রস্তুতকারক সংস্থা বাজাজ অটো। আগের মডেলের তুলনায় এই বাইকে একাধিক বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। নতুন ইঞ্জিন, আপডেটেড চ্যাসিস, মোনোশক সাসপেনশন এবং আধুনিক সব ফিচারের পাশাপাশি এর ডিজাইনেও আনা হয়েছে স্পোর্টি ছোঁয়া। ভারতের দিল্লিতে এই নতুন মডেলের এক্স-শোরুম দাম শুরু হয়েছে ৯২,৯০০ রুপি থেকে।
আরও শার্প ও আকর্ষণীয় ডিজাইন
২০২৬ সালের বাজাজ পালসার ১২৫-এর ডিজাইন আগের প্রজন্মের তুলনায় অনেক বেশি ধারালো। সামনের নতুন ডিআরএল বাইকটির লুককে করেছে আরও আধুনিক। পাশাপাশি পেশিবহুল ফুয়েল ট্যাংকের ডিজাইনও আগের চেয়ে স্পষ্ট। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন এসেছে পেছনের অংশে। আগের টুইন রিয়ার শক অ্যাবজর্বারের পরিবর্তে নতুন মডেলে মনোশক যুক্ত করা হয়েছে, যা বাইকটির পেছনের অংশকে আরও স্পোর্টি লুক দিয়েছে। বাইকটি মোট পাঁচটি আকর্ষণীয় রঙে পাওয়া যাচ্ছে।

চার ধরনের ভ্যারিয়েন্ট ও আধুনিক ডিসপ্লে
নতুন পালসার ১২৫ মোট চারটি আলাদা কনফিগারেশনে বাজারে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে সিঙ্গল-পিস সিটের সঙ্গে কালার এলসিডি কনসোল, সিঙ্গল সিটের সঙ্গে টিএফটি কনসোল, স্প্লিট সিটের সঙ্গে টিএফটি কনসোল এবং টপ ভ্যারিয়েন্টে স্প্লিট সিট, টিএফটি কনসোল, ওয়াই-ফাই ও গুগল ম্যাপস মিররিং সুবিধা। বেস ভ্যারিয়েন্ট ছাড়া বাকি মডেলগুলিতে ৫ ইঞ্চি টিএফটি ডিসপ্লে দেওয়া হয়েছে, যা তীব্র রোদেও বেশ পরিষ্কার দেখায়।
কানেক্টিভিটি ও রাইডিং মোড
নতুন এই বাইকের প্রায় সব ভ্যারিয়েন্টেই ব্লুটুথ কানেক্টিভিটি, টার্ন-বাই-টার্ন নেভিগেশন এবং কল ও মেসেজ অ্যালার্টের মতো আধুনিক ফিচার রয়েছে। ট্রাফিক জ্যামের জন্য এতে ক্রল ফিচার যুক্ত করা হয়েছে, যা কম গতিতে ক্লাচ নিয়ন্ত্রণের ঝামেলা কমায়। এছাড়া রোড, রেন এবং স্পোর্ট—এই তিনটি রাইডিং মোড থাকায় রাইডাররা নিজেদের পছন্দমতো বাইক চালানোর অভিজ্ঞতা উপভোগ করতে পারবেন।

শক্তিশালী ইঞ্জিন ও মসৃণ পারফরম্যান্স
নতুন পালসার ১২৫-এ সম্পূর্ণ নতুন ও পরিশীলিত এয়ার-কুলড ১২৪.৫৮ সিসি ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। এই ইঞ্জিনটি সর্বোচ্চ ১২.১ পিএস শক্তি এবং ১১.৪ নিউটন মিটার টর্ক উৎপন্ন করে। কম ও মাঝারি আরপিএম-এ এটি অত্যন্ত মসৃণভাবে কাজ করে। শহরের রাস্তায় হালকা ক্লাচ ও নতুন গিয়ারবক্সের কারণে বাইক চালানো অনেকটাই সহজ হয়েছে। এছাড়া হাইওয়েতেও এটি ৮০ থেকে ৮৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে অনায়াসে ছুটতে পারে।
আরও পড়ুন: হিরো প্যাশন প্লাস বনাম বাজাজ প্লাটিনা ১১০: কমিউটার বাইকে কোনটি সেরা?
মাইলেজ ও উন্নত হ্যান্ডলিং
পারফরম্যান্সের পাশাপাশি মাইলেজের দিক থেকেও এটি বেশ নজর কেড়েছে। বাস্তব পরীক্ষায় এই বাইকটিতে প্রতি লিটারে প্রায় ৪৯ কিলোমিটার মাইলেজ পাওয়া গেছে। নতুন ডায়মন্ড টিউবুলার ফ্রেম এবং ১৩১ কেজি ওজনের কারণে শহরের ভিড়ের মধ্যে বাইকটি অত্যন্ত সহজে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। সামনে টেলিস্কোপিক ফর্ক এবং পিছনে মোনোশক সাসপেনশন থাকায় রাইডিং আরও আরামদায়ক হয়েছে। এর ৭৯৫ মিমি সিট হাইট এবং ১৮৪ মিমি গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স রাস্তার জন্য দারুণ উপযোগী।
এজেড