Dhaka Mail Logo

অটোমোবাইল

হিরো প্যাশন প্লাস বনাম বাজাজ প্লাটিনা ১১০: কমিউটার বাইকে কোনটি সেরা?

অটোমোবাইল ডেস্ক

১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৩৩ এএম

ভারতের কমিউটার মোটরসাইকেলের বাজারে হিরো প্যাশন প্লাস এবং বাজাজ প্লাটিনা ১১০, দুটোই অত্যন্ত পরিচিত এবং জনপ্রিয় নাম। প্রতিদিন অফিস যাতায়াত, বাজার করা কিংবা শহরের ব্যস্ত রাস্তায় নিয়মিত চলাচলের জন্য কম খরচে নির্ভরযোগ্য বাইক খুঁজলে এই দুই মডেলই ক্রেতাদের তালিকার শীর্ষে থাকে। তবে বাইক দুটির চরিত্র কিছুটা আলাদা; হিরো প্যাশন প্লাসে রয়েছে তুলনামূলক আধুনিক ডিজাইন, বেশি ফিচার এবং ১০০ সিসির ইঞ্জিন, অন্যদিকে বাজাজ প্লাটিনা ১১০-এ মিলবে বড় ইঞ্জিন, বেশি পাওয়ার ও টর্ক এবং তুলনামূলক সাশ্রয়ী দাম। দাম, ডিজাইন, কমফোর্ট, ফিচার এবং পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে বাইক দুটির বিস্তারিত তুলনা নিচে আলোচনা করা হলো।

দাম ও ভ্যারিয়েন্ট

দিল্লির এক্স-শোরুম দাম অনুযায়ী ড্রাম ভ্যারিয়েন্টে বাজাজ প্লাটিনা ১১০-এর তুলনায় হিরো প্যাশন প্লাসের দাম প্রায় ৪,৫৪১ রুপি বেশি। ড্রাম ভ্যারিয়েন্টে হিরো প্যাশন প্লাসের দাম ৮০,৩২৮ রুপি এবং বাজাজ প্লাটিনা ১১০-এর দাম ৭৫,৭৮৭ রুপি। তবে হিরো প্যাশন প্লাসে অতিরিক্ত হিসেবে সামনের ডিস্ক ব্রেকের বিকল্পও পেয়ে যাবেন, যার দাম ৮৪,১২৮ রুপি। ওয়ারেন্টির ক্ষেত্রে উভয় বাইকেই পাঁচ বছরের কভারেজ মিললেও, প্লাটিনা ১১০-এ সর্বোচ্চ ৭৫,০০০ কিলোমিটার এবং প্যাশন প্লাসে ৭০,০০০ কিলোমিটার পর্যন্ত ওয়ারেন্টি পাওয়া যায়।

ডিজাইন ও আকারে কে এগিয়ে?

দৈর্ঘ্য, প্রস্থ ও উচ্চতার দিক থেকে বিচার করলে হিরো প্যাশন প্লাসের দৈর্ঘ্য ১,৯৮২ মিমি, প্রস্থ ৭৭০ মিমি এবং উচ্চতা ১,০৮৭ মিমি। পক্ষান্তরে বাজাজ প্লাটিনা ১১০-এর দৈর্ঘ্য ২,০০৬ মিমি, প্রস্থ ৭২৯ মিমি এবং উচ্চতা ১,১০০ মিমি। দেখতে দুটো বাইকের আকার কাছাকাছি হলেও প্যাশন প্লাস তুলনামূলক যুবকসুলভ ও শার্প ডিজাইনের, যেখানে ফ্লোয়িং বডি প্যানেল এবং স্পোর্টি ডুয়াল-টোন গ্রাফিক্স বাইকটিকে আধুনিক চেহারা দিয়েছে। অন্যদিকে বাজাজ প্লাটিনা ১১০-এর ডিজাইন অনেক বেশি সরল এবং দীর্ঘ সিটসহ ব্যবহারিক কমিউটার স্টাইলের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে। ৭৯০ মিমির সিট হাইটের কারণে প্যাশন প্লাস খাটো উচ্চতার রাইডারদের জন্য বেশি আরামদায়ক হলেও, খারাপ রাস্তা বা স্পিড ব্রেকারের ক্ষেত্রে ২০০ মিমি গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্সের সুবাদে প্লাটিনা এগিয়ে রয়েছে। উভয় বাইকেই ১১ লিটারের ফুয়েল ট্যাংক এবং চারটি করে রঙের বিকল্প রয়েছে।

আরও পড়ুন: হিরো গ্ল্যামার এক্স ১২৫ এলো সিঙ্গেল-চ্যানেল এবিএস ভার্সনে, দাম ১ লাখ

রাইড ও হ্যান্ডলিং

হিরো প্যাশন প্লাসে ডাবল-ক্রেডল ফ্রেম ব্যবহার করা হয়েছে যা ব্রেকিং এবং বেশি লোডের সময় স্থিতিশীলতা বাড়ায়, আর প্লাটিনা ১১০-এ রয়েছে সিঙ্গল ডাউন টিউব এবং স্প্লিট ক্রেডল ফ্রেম। দুই বাইকের সামনে টেলিস্কোপিক ফর্ক থাকলেও পেছনের সাসপেনশনে প্লাটিনা ১১০ কিছুটা এগিয়ে রয়েছে, কারণ এতে নাইট্রক্স ক্যানিস্টার-সহ গ্যাস-চার্জড রিয়ার শক অ্যাবজর্বার থাকায় ভাঙাচোরা রাস্তায় বাড়তি আরাম পাওয়া যায়। প্যাশন প্লাসে ১৮ ইঞ্চির বড় চাকা এবং প্লাটিনায় ১৭ ইঞ্চির চাকা ব্যবহার করা হয়েছে। এছাড়া প্যাশন প্লাসের পিছনের ১৩০ মিমি ড্রাম ব্রেক প্লাটিনার ১১০ মিমি ড্রামের তুলনায় আকারে বড়।

ফিচারে এগিয়ে প্যাশন প্লাস

ফিচারের দিক থেকে হিরো প্যাশন প্লাস স্পষ্টভাবে এগিয়ে রয়েছে। এতে এলইডি প্রজেক্টর হেডল্যাম্প, ডিজি-অ্যানালগ ইন্সট্রুমেন্ট ক্লাস্টার এবং ইউএসবি চার্জিং পোর্ট দেওয়া হয়েছে। এছাড়া শহরের ট্রাফিকে জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য এতে আই৩এস প্রযুক্তি এবং ডিস্ক ভ্যারিয়েন্টে সাইড-স্ট্যান্ড ইঞ্জিন কাট-অফের মতো জরুরি নিরাপত্তা ফিচার রয়েছে। অন্যদিকে প্লাটিনা ১১০ মূলত দীর্ঘ সিট এবং চওড়া ফুটপেগের মাধ্যমে রাইডারের দৈনন্দিন আরামের বিষয়টিতে বেশি গুরুত্ব দিয়েছে।

ইঞ্জিন ও পারফরম্যান্স

পারফরম্যান্সের বিচারে বাজাজ প্লাটিনা ১১০-এর ১১৫.০৬ সিসির ইঞ্জিন থেকে ৯.৫ পিএস শক্তি এবং ৯.৯ এনএম টর্ক পাওয়া যায়, যা প্যাশন প্লাসের ৯৭.২ সিসির ইঞ্জিন থেকে উৎপন্ন ৮ পিএস শক্তি এবং ৮.০৫ এনএম টর্কের তুলনায় অনেকটাই বেশি। তাছাড়া প্লাটিনার সর্বোচ্চ টর্ক কম আরপিএমে পাওয়ায় শহরের রাস্তায় এটি অনেক বেশি দ্রুত ও শক্তিশালী অনুভূতি দেয়। দুটি বাইকেই ৪-স্পিড গিয়ারবক্স থাকলেও হিরোতে অল-আপ শিফটিং প্যাটার্ন এবং বাজাজে অল-ডাউন শিফটিং প্যাটার্ন ব্যবহার করা হয়েছে।

কোন বাইকটি আপনার জন্য উপযুক্ত?

আপনি যদি আধুনিক ও স্পোর্টি ডিজাইন, এলইডি প্রজেক্টর হেডল্যাম্প, ইউএসবি চার্জিং এবং বেশি ফিচারযুক্ত বাইক চান, তবে হিরো প্যাশন প্লাস আপনার জন্য সেরা পছন্দ। পক্ষান্তরে, কম দামে বড় ইঞ্জিন, বেশি পাওয়ার ও টর্ক, খারাপ রাস্তার জন্য বেশি গ্রাউন্ড ক্লিয়ারেন্স এবং উন্নত পিছনের সাসপেনশন যদি আপনার প্রধান অগ্রাধিকার হয়, তবে বাজাজ প্লাটিনা ১১০ কেনাটাই বেশি যুক্তিযুক্ত হবে।

এজেড