অটোমোবাইল ডেস্ক
১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০০ এএম
১২৫ সিসির কমিউটার মোটরসাইকেলের বাজারে নিরাপত্তা আরও বাড়াতে নতুন ভ্যারিয়েন্ট বাজারে আনল হিরো মোটোকর্প। গ্ল্যামার এক্স ১২৫-এর নতুন সিঙ্গেল-চ্যানেল এবিএস ভ্যারিয়েন্ট লঞ্চ হয়েছে ভারতে। দাম ১ লাখ ১ হাজার রুপি। এর মাধ্যমে এটিই এখন গ্ল্যামার এক্স ১২৫ রেঞ্জের সবচেয়ে দামি ভ্যারিয়েন্ট হিসেবে আত্মপ্রকাশ করল।
নতুন এই ভ্যারিয়েন্টে অ্যান্টি-লক ব্রেকিং সিস্টেম বা এবিএসের পাশাপাশি কম্বাইন্ড ব্রেকিং সিস্টেমও রাখা হয়েছে। ফলে সামনের ও পিছনের চাকার ব্রেকিং ফোর্সের সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখতে অত্যন্ত কার্যকর ভূমিকা রাখবে এই প্রযুক্তি।
গ্ল্যামার এক্স ১২৫-এর নতুন দামের তালিকা
নতুন এবিএস ভ্যারিয়েন্টের দাম আগের ডিস্ক ব্রেক ভ্যারিয়েন্টের তুলনায় প্রায় ৪,০০০ টাকা বেশি রাখা হয়েছে। বাইকটির বিভিন্ন ভ্যারিয়েন্টের এক্স-শোরুম দাম নিচে দেওয়া হলো:
ড্রাম ব্রেক: ৮৮,৫১৭ রুপি
ডিস্ক ব্রেক: ৯৬,৮৩৬ রুপি
সিঙ্গল-চ্যানেল এবিএস: ১ লাখ ১ হাজার রুপি
নতুন এই মডেলে সিঙ্গল-চ্যানেল এবিএস যুক্ত হওয়ায় দ্রুত গতিতে চলার সময় সজোরে ব্রেক কষলেও চাকা লক হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা অনেকটাই কমে যায়। বিশেষ করে ভেজা পিচ্ছিল রাস্তা কিংবা হঠাৎ বিপদ এড়াতে আচমকা ব্রেক কষার পরিস্থিতিতে এই প্রযুক্তি বাইকের সুরক্ষা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

নতুন রঙে মিলবে এই ভ্যারিয়েন্ট
উন্নত নিরাপত্তা প্রযুক্তির পাশাপাশি এই নতুন মডেলে দুটি চমৎকার নতুন রঙ যুক্ত করেছে হিরো মোটোকর্প। রঙের এই বিকল্পগুলো হলো—গান মেটাল গ্রে এবং ম্যাট অ্যাক্সিস গ্রে। এর বাইরেও আগের ভ্যারিয়েন্টগুলোতে থাকা জনপ্রিয় ব্ল্যাক পার্ল রেড এবং ব্ল্যাক টিল ব্লু রঙেও নতুন এবিএস ভ্যারিয়েন্টটি কিনতে পারবেন গ্রাহকরা। অর্থাৎ, এই সংস্করণে মূলত এবিএস ও নতুন রঙই মূল সংযোজন, তবে এর ডিজাইন বা যান্ত্রিক গঠনে বড় কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।
১২৪.৭ সিসি ইঞ্জিন ও ৫-স্পিড গিয়ারবক্স
হিরো গ্ল্যামার এক্স ১২৫ বাইকে পূর্বের মতো ১২৪.৭ সিসির এয়ার-কুলড সিঙ্গল-সিলিন্ডার ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়েছে। এই ইঞ্জিন থেকে সর্বোচ্চ ১১.৫৫ পিএস শক্তি এবং ১০.৫ এনএম টর্ক উৎপন্ন হতে পারে। ইঞ্জিনের সঙ্গে পারফরম্যান্সের সুসমঞ্জস্য বজায় রাখতে রয়েছে ৫-স্পিড গিয়ারবক্স। গতি বা পারফরম্যান্সের দিক থেকে এবিএস ভ্যারিয়েন্টে কোনো পরিবর্তন না আসলেও, নতুন মডেলটির মূল আকর্ষণ হিসেবে থাকছে উন্নত নিরাপত্তা ও বাড়তি কিছু আধুনিক ফিচার।
আরও পড়ুন: মাইলেজে সেরা, দামে কম এই ৩ মোটরসাইকেল
আধুনিক ফিচারে সমৃদ্ধ গ্ল্যামার এক্স ১২৫
১২৫ সিসির কমিউটার ঘরানার বাইক হওয়া সত্ত্বেও গ্ল্যামার এক্স ১২৫ মডেলে বেশ কিছু দারুণ ও আধুনিক ফিচার যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে তিনটি রাইডিং মোড এবং ক্রুজ কন্ট্রোল রাইডারকে বাড়তি সুবিধা দেবে। তাছাড়া বাইকটিতে ৪.২ ইঞ্চির একটি আধুনিক এলসিডি কনসোল রাখা হয়েছে, যার মাধ্যমে কল অ্যালার্ট ও টার্ন-বাই-টার্ন নেভিগেশনের সুবিধা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি এতে প্যানিক ব্রেক অ্যালার্টের মতো জরুরি ফিচারও রয়েছে। সবমিলিয়ে, নতুন এবিএস ভ্যারিয়েন্ট যুক্ত হওয়ার পর গ্ল্যামার এক্স ১২৫-এর প্রযুক্তি ও নিরাপত্তার প্যাকেজটি আরও বেশি নিখুঁত ও সম্পূর্ণ রূপ নিয়েছে।
প্রতিযোগিতায় কতটা এগিয়ে থাকবে?
বাজারে আসার পর থেকেই গ্ল্যামার এক্স ১২৫-এর অন্যতম প্রধান ঘাটতি ছিল সিঙ্গল-চ্যানেল এবিএসের অনুপস্থিতি। এতদিন প্রিমিয়াম ফিচার থাকা সত্ত্বেও এই নিরাপত্তা প্রযুক্তির অভাব বাইকটিকে কিছুটা পিছিয়ে রাখলেও, নতুন সিঙ্গল-চ্যানেল এবিএস ভ্যারিয়েন্ট আসার ফলে সেই দূরত্ব ঘুচে গেল। মাত্র চার হাজার টাকার মতো অতিরিক্ত খরচে রাইডাররা যে বাড়তি নিরাপত্তা পাচ্ছেন, তা এই বাইকের ক্ষেত্রে অত্যন্ত যুক্তিযুক্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।
১২৫ সিসির এই সেগমেন্টে হোন্ডা এসপি ১২৫ এবং নতুন বাজাজ পালসার ১২৫-এর মতো জনপ্রিয় মডেলগুলোর সঙ্গে সরাসরি প্রতিযোগিতায় নামতে হবে গ্ল্যামার এক্স ১২৫-কে। তবে এবিএসের সংযুক্তি হিরোর এই মডেলটিকে প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় কিছুটা হলেও এগিয়ে রাখবে। অন্যদিকে, প্রায় কাছাকাছি দামের মধ্যে আরও কিছুটা স্পোর্টি কমিউটার বাইক হিসেবে হিরো এক্সট্রিম ১২৫আর এবং টিভিএস রাইডারের মতো দারুণ বিকল্পও ক্রেতাদের সামনে খোলা রয়েছে।
সবমিলিয়ে, নতুন সিঙ্গল-চ্যানেল এবিএস ভ্যারিয়েন্টের সুবাদে হিরো গ্ল্যামার এক্স ১২৫ এখন বাজারের একটি অত্যন্ত পরিণত এবং আকর্ষণীয় প্যাকেজ। বিশেষ করে যারা ১২৫ সিসির কমিউটার বাইকে আধুনিক সব ফিচারের পাশাপাশি সর্বোচ্চ ব্রেকিং সেফটি বা নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে চান, তাদের কাছে নতুন এই ভ্যারিয়েন্টটি আগের তুলনায় বহুগুণ বেশি পছন্দসই হয়ে উঠবে।
এজেড