অটোমোবাইল ডেস্ক
০৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১২ পিএম
বাংলাদেশের মোটরসাইকেল বাজারে নির্ভরযোগ্যতা, স্থায়িত্ব এবং অসাধারণ মাইলেজের কথা উঠলে সবার আগে যে বাইকটির নাম মাথায় আসে, সেটি হলো হিরো স্প্লেন্ডার (Hero Splendor)। মধ্যবিত্ত ও দৈনন্দিন যাতায়াতকারী রাইডারদের কথা মাথায় রেখে বিশ্বখ্যাত টু-হুইলার নির্মাতা প্রতিষ্ঠান হিরো মটোকর্প বাজারে নিয়ে এসেছে এই কিংবদন্তি বাইকটির আরও আধুনিক ও স্মার্ট সংস্করণ—হিরো স্প্লেন্ডার প্লাস এক্সটেক (Hero Splendor Plus XTEC)। অসাধারণ মাইলেজ এবং নিত্যনতুন প্রযুক্তির চমৎকার সমন্বয়ে তৈরি এই বাইকটি বর্তমানে দেশের বাইকারদের মাঝে দারুণ জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে।
আকর্ষণীয় ডিজাইন ও আধুনিক লুক
বাইকটির মূল কাঠামো ঐতিহ্যবাহী স্প্লেন্ডারের মতোই সরল ও মজবুত রাখা হলেও, এর এক্সটেক মডেলে যোগ করা হয়েছে সম্পূর্ণ নতুন ও আধুনিক ফ্লেভার। বাইকটির সামনে দেওয়া হয়েছে স্টাইলিশ এলইডি ডিআরএল (DRL) এবং উজ্জ্বল হেডলাইট, যা রাতের অন্ধকারে রাইডিংকে করে তোলে আরও নিরাপদ ও সহজ। এ ছাড়া এর বডি গ্রাফিক্সে আনা হয়েছে প্রিমিয়াম ছোঁয়া, যা সাধারণ স্প্লেন্ডারের চেয়ে একে অনেক বেশি আকর্ষণীয় ও স্পোর্টি লুক দেয়।

স্মার্ট ফিচার এবং ডিজিটাল কনসোল
স্প্লেন্ডার প্লাস এক্সটেকের সবচেয়ে বড় চমক হলো এর সম্পূর্ণ নতুন ফুল ডিজিটাল ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টার। এই মিটার কনসোলে ব্লুটুথ কানেক্টিভিটির সুবিধা রয়েছে, যার ফলে রাইডার বাইক চালানোর সময় স্মার্টফোনের কল ও এসএমএস অ্যালার্ট সরাসরি স্ক্রিনেই দেখতে পান। এ ছাড়াও এই মিটারে রিয়েল-টাইম মাইলেজ ইন্ডিকেটর, ফুয়েল গেজ, ওডোমিটার এবং ট্রিপ মিটারের মতো দরকারি সব তথ্য খুব সুন্দরভাবে ফুটে ওঠে। রাইডারদের সুবিধার্থে বাইকের ভেতরে একটি ইউএসবি (USB) চার্জিং পোর্টও যুক্ত করা হয়েছে, যাতে চলাচলের সময় সহজেই মোবাইল ফোন চার্জ করা সম্ভব হয়।

ইঞ্জিন পারফরম্যান্স ও দুর্দান্ত মাইলেজ
হিরো স্প্লেন্ডার প্লাস এক্সটেক মডেলে ব্যবহার করা হয়েছে অত্যন্ত নির্ভরযোগ্য ৯৭.২ সিসির এয়ার-কুলড, ফোর-স্ট্রোক সিঙ্গেল সিলিন্ডার ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিনটি থেকে সর্বোচ্চ ৭.৯ বিএইচপি শক্তি এবং ৮.০৫ এনএম টর্ক পাওয়া যায়, যা শহরের ট্রাফিক জ্যাম কিংবা গ্রামের মেঠোপথ—সব জায়গাতেই দারুণ পারফরম্যান্স দিতে সক্ষম। এই বাইকটির সবচেয়ে বড় প্লাস পয়েন্ট হলো এর অবিশ্বাস্য মাইলেজ। হিরোর নিজস্ব আধুনিক আই থ্রি এস (i3S - Idle Stop-Start System) প্রযুক্তির কল্যাণে ট্রাফিক সিগন্যালে বাইক বন্ধ করলেই নিজে থেকে ইঞ্জিন বন্ধ হয়ে যায় এবং ক্লাচ চাপলেই স্টার্ট হয়ে যায়, যা জ্বালানি সাশ্রয়ে অভাবনীয় ভূমিকা রাখে। সাধারণ অবস্থায় এই বাইকটি লিটারে অনায়াসে ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটারের বেশি মাইলেজ প্রদান করতে সক্ষম, যা মধ্যবিত্ত পরিবারের জ্বালানি খরচ অনেকটাই কমিয়ে দেয়।
আরও পড়ুন: এক চার্জে ২৪৩ কিমি চলে এই ইলেকট্রিক স্কুটার, দাম হাতের নাগালে

নিরাপত্তা ও ব্রেকিং সিস্টেম
রাইডারদের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে এই বাইকে হিরোর নিজস্ব আইবিএস (IBS - Integrated Braking System) বা কম্বি ব্রেকিং টেকনোলজি ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে সামনের ও পেছনের চাকার ব্রেক একই সঙ্গে সুষমভাবে কাজ করে, যা যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে বাইকটিকে দ্রুত ও নিরাপদে নিয়ন্ত্রণ করতে সাহায্য করে। এ ছাড়া এর সিটিং পজিশন অত্যন্ত আরামদায়ক হওয়ায় দীর্ঘ সময় রাইড করলেও পিঠে বা কোমরে কোনো ক্লান্তি বা ব্যথা অনুভূত হয় না।

সামগ্রিকভাবে বলতে গেলে, যারা কম খরচে প্রতিদিনের অফিস যাতায়াত, টিউশনি বা ছোটখাটো ব্যবসায়িক কাজের জন্য একটি বিশ্বস্ত ও টেকসই বাহন খুঁজছেন, তাদের জন্য হিরো স্প্লেন্ডার প্লাস এক্সটেক হলো অন্যতম সেরা একটি পছন্দ। সাশ্রয়ী দাম, আধুনিক স্মার্ট ফিচার এবং কিংবদন্তি মাইলেজের জাদুকরি মিশ্রণে এই বাইকটি বর্তমান বাজারে তার শ্রেষ্ঠত্ব বজায় রেখেছে।
বাংলাদেশের বাজারে এই মোটরসাইকেলের দাম শুরু হয়েছে ১ লাখ ৩৩ হাজার টাকা থেকে।
এজেড