Dhaka Mail Logo

অটোমোবাইল

ইলেকট্রিক স্কুটার ও বাইক নিয়ে পাহাড়ে ঘুরতে যাওয়া সম্ভব?

অটোমোবাইল ডেস্ক

২৬ আগস্ট ২০২৬, ১১:৩১ এএম

অনেকে ভাবেন, পাহাড়ে ইলেকট্রিক স্কুটার বা বাইক নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। আসলে এই তথ্যটি একেবারেই ঠিক নয়। ই-স্কুটার বা ই-বাইক নিয়ে পাহাড়ে যাওয়া যায় খুবই সহজে।

দেশে ইদানিং ইলেকট্রিক গাড়ির চাহিদা দ্রুত গতিতে বাড়ছে। এর সবচেয়ে বড় কারণ হল, ইলেকট্রিক স্কুটার ও বাইকের ক্রমবর্ধমান মার্কেট। তবে ইদানিং একটি প্রশ্ন খুবই চর্চায় রয়েছে—পাহাড়ি এলাকায় ইলেকট্রিক স্কুটার ও বাইক কতটা সফল? আজকের এই প্রতিবেদনে আমরা এই বিষয়েই বিস্তারিত আলোচনা করব। ইলেকট্রিক দু-চাকা নিয়ে কি পাহাড়ের কঠিন রাস্তায় নিরাপদে রাইড করা সম্ভব?

পাহাড়ের রাস্তায় ইভি কতটা কার্যকর?

আধুনিক প্রযুক্তির ইলেকট্রিক স্কুটার ও বাইক পাহাড়ের জন্য পুরোপুরি উপযুক্ত এবং অনেক দিক থেকেই পেট্রোল চালিত দু-চাকার গাড়ির চেয়েও ভালো পারফর্ম করছে। তবে সমতল ভূমি এবং পাহাড়ে ইভি (EV) চালানোর অঙ্কে আকাশ-পাতাল তফাৎ রয়েছে। আপনি যদি কোনও পাহাড়ি এলাকায় থাকেন বা পাহাড়ে রাইড করার কথা ভাবেন, তবে শোরুমে যাওয়ার আগে এর সুবিধা, অসুবিধা এবং প্রয়োজনীয় ফিচারগুলো ভালোভাবে জেনে নেওয়া দরকার।

EV

পাহাড়ের রাস্তায় ইভি ব্যবহারের ইতিবাচক দিক

ইনস্ট্যান্ট টর্ক: পেট্রোল স্কুটার বা বাইকের চড়াই রাস্তায় গতি তুলতে যেখানে কিছুটা সময় লাগে, সেখানে ইভি অ্যাক্সিলারেটর ঘোরানোর সাথেই পুরো শক্তি দিয়ে থ্রটল করতে পারে। এর ফলে খাঁড়া চড়াই বা পাহাড়ি রাস্তায় কোনও ল্যাগ ছাড়াই গাড়ি সহজে ওপরে উঠে যায়।

মাইলেজের চিন্তা নেই: পাহাড়ি রাস্তায় পেট্রোল চালিত গাড়ির মাইলেজ অনেকটাই কমে যায়, কিন্তু ইলেকট্রিক গাড়ির ক্ষেত্রে জ্বালানির সেই বাড়তি খরচ বা মাইলেজ হ্রাসের দুশ্চিন্তা থাকে না।

রিজেনারেটিভ ব্রেকিং: পাহাড় থেকে নিচের দিকে নামার সময় রিজেনারেটিভ ব্রেকিং (Regenerative Braking) সিস্টেম ব্রেকের ঘর্ষণ ও গাড়ির গতি থেকে ব্যাটারিকে নিজে থেকেই কিছুটা চার্জ করে নেয়। ফলে ব্রেকের ওপর চাপ কমে এবং শক্তিও সাশ্রয় হয়।

পাহাড়ের রাস্তায় প্রধান চ্যালেঞ্জ ও সতর্কতা

রেঞ্জ কমে যাওয়া: সমতল রাস্তায় ব্যাটারির ওপর যে স্বাভাবিক চাপ পড়ে, পাহাড়ি খাঁড়া রাস্তায় মোটরকে মাধ্যাকর্ষণ বলের বিরুদ্ধে তার চেয়ে দ্বিগুণ শক্তি প্রয়োগ করতে হয়। এই কারণে সমতলে ১০০ কিলোমিটার চলা স্কুটার বা বাইক পাহাড়ে মাত্র ৬০ থেকে ৭০ কিলোমিটারের রেঞ্জ দিতে পারে।

ডাবল রাইডিং: আপনি যদি পাহাড়ে দুজনে মিলে রাইড করেন, তবে রেঞ্জ আরও দ্রুত কমতে থাকে। তাই পাহাড়ি যাতায়াতের সময় সবসময় কোম্পানির দাবি করা রেঞ্জ থেকে অন্তত ৩০ থেকে ৪০ শতাংশ কম ধরে নিয়ে ভ্রমণের পরিকল্পনা করা উচিত।

EV2

পাহাড়ি রাস্তার জন্য কোন ধরনের ইভি বাছবেন?

পাহাড়ের জন্য যখনই ইলেকট্রিক স্কুটার বা বাইক কিনবেন, তখন কখনওই বেসিক বা কম ক্ষমতার এন্ট্রি-লেভেল মডেল কিনবেন না। কেনার আগে কয়েকটি বিশেষ ফিচারের দিকে নজর দেওয়া আবশ্যক-

মিড-ড্রাইভ বা PMSM মোটর: স্কুটার বা বাইকে সাধারণ হাব মোটরের বদলে মিড-ড্রাইভ (Mid-Drive) বা PMSM মোটর থাকা অত্যন্ত জরুরি, যা কম আরপিএমে (RPM) বেশি টর্ক তৈরি করতে পারে।

আরও পড়ুন: ইয়ামাহার এই হাইব্রিড স্কুটারের মাইলেজ শুনলে চোখ কপালে উঠবে!

হিল হোল্ড অ্যাসিস্ট (Hill Hold Assist): এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি ফিচার। চড়াই রাস্তায় যানজটে গাড়ি থামাতে হলে এই ফিচারটি গাড়িকে পেছনের দিকে গড়িয়ে পড়া থেকে আটকায়, ফলে দুর্ঘটনার ঝুঁকি থাকে না।

শক্তিশালী ব্যাটারি ও ব্রেক: কমপক্ষে ৩ kWh বা তার চেয়ে বড় ব্যাটারি এবং শক্তিশালী কম্বি-ব্রেকিং (Combi-braking) বা ডিস্ক ব্রেক (Disc brake) সেটআপ থাকা বাধ্যতামূলক।

এজেড