Dhaka Mail Logo

অটোমোবাইল

গাড়ি ১৫০ কিমি গতির, তবু স্পিডোমিটারে কেন ২২০ লেখা থাকে?

অটোমোবাইল ডেস্ক

০৯ আগস্ট ২০২৬, ০১:৫৭ পিএম

প্রায় ১৫০ কিমি/ঘণ্টা সর্বোচ্চ গতিতে চলতে সক্ষম একটি সাধারণ হ্যাচব্যাক গাড়ির স্পিডোমিটারেও কেন ২২০ বা ২৪০ কিমি/ঘণ্টা পর্যন্ত গতি দেখানো থাকে, তা কি কখনো ভেবেছেন? প্রায় সব গাড়িতেই থাকা এই ছোট্ট বিষয়টি বেশিরভাগ মানুষই খেয়াল করেন না। কেন গাড়ি নির্মাতারা এমন একটি স্পিডোমিটার দেন, যার পুরোটা ব্যবহার করার সুযোগ প্রায় কখনওই আসে না, তার পেছনে রয়েছে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ কারণ।

সবচেয়ে বড় কারণ হল স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন বা মান নির্ধারণ। একটি গাড়ির প্রতিটি ভ্যারিয়েন্টের জন্য আলাদা স্পিডোমিটার তৈরি করার বদলে, নির্মাতারা প্রায়শই একই ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টার একাধিক মডেলে ব্যবহার করেন। একই গাড়ির উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন কোনো ভ্যারিয়েন্ট হয়তো সত্যিই অনেক বেশি গতিতে চলতে পারে, তাই পুরো সিরিজে একই স্পিডোমিটার ব্যবহার করাই নির্মাতাদের কাছে বেশি সাশ্রয়ী। 

speed

এর পাশাপাশি একটি প্রযুক্তিগত কারণও রয়েছে। স্পিডোমিটার এমনভাবে ডিজাইন করা হয়, যাতে সাধারণ ব্যবহারের গতির পরিসরে তা সবচেয়ে নির্ভুল থাকে। যদি স্পিডোমিটার কম গতিতেই শেষ হয়ে যেত, তাহলে সংখ্যাগুলো খুব কাছাকাছি হয়ে যেত এবং দ্রুত গতি দেখে বোঝা কঠিন হত। কিন্তু স্কেল বাড়ানো হলে সংখ্যাগুলোর মধ্যে যথেষ্ট ফাঁক থাকে, ফলে পড়তে সুবিধা হয়।

আরও পড়ুন: বৃষ্টির দিনে গাড়ির কাচে কুয়াশা জমলে কী করবেন?

এখানে একটি মনস্তাত্ত্বিক কারণও কাজ করে। বহু বছর ধরেই গাড়ি নির্মাতারা বেশি সংখ্যাকে বেশি পারফরম্যান্সের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেন। কোনো গাড়ি বাস্তবে অত গতিতে না চললেও, স্পিডোমিটারে বড় সংখ্যা থাকলে সেটি আরও শক্তিশালী ও প্রিমিয়াম গাড়ি বলে মনে হয়। তবে স্পিডোমিটারে বেশি গতি থাকার উদ্দেশ্য চালককে দ্রুত গাড়ি চালাতে উৎসাহ দেওয়া নয়। বরং উৎপাদন খরচ কমানো, স্পিডোমিটারকে আরও কার্যকরভাবে ডিজাইন করা এবং কিছুটা বিপণন মনস্তত্ত্ব—এই তিনটির সমন্বয়েই এটি তৈরি করা হয়।

dash_board

উল্লেখ্য, বাংলাদেশে সড়ক ও মহাসড়কে গাড়ি ও মোটরসাইকেলসহ সব যানবাহনের জন্য সরকার নির্ধারিত গতিসীমা রয়েছে। এই গতিসীমা মানা বাধ্যতামূলক এবং এর ব্যত্যয় হলে আইন অনুযায়ী শাস্তির বিধানও রয়েছে। দেশের এক্সপ্রেসওয়ে এবং হাইওয়েতেও গাড়ির অনুমোদিত গতি ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৮০ কিলোমিটার। তাই স্পিডোমিটারে বেশি গতি লেখা থাকলেও দেশের আইন মেনে নির্দিষ্ট সীমার মধ্যেই গাড়ি চালানো উচিত।

এজেড