অটোমোবাইল ডেস্ক
০৭ আগস্ট ২০২৬, ১০:১১ এএম
একসঙ্গে পুরো টাকা দেওয়ার মতো বাজেট না থাকলেও চিন্তার কোনো কারণ নেই। সহজ ফিনান্স প্ল্যানের মাধ্যমেই এখন নিজের বাড়ি নিয়ে আসা সম্ভব মারুতি ডিজায়ার। মাত্র ৫০ হাজার ডাউন পেমেন্ট দিয়ে বাকি টাকা মাসিক কিস্তিতে পরিশোধ করার সুযোগ মিলছে। এই অফার দেওয়া হচ্ছে ভারতে।
আপনি যদি পরিবারের জন্য এমন একটি গাড়ি কিনতে চান, যা যেমন সাশ্রয়ী, তেমনই দারুণ মাইলেজ দেয় এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচও কম, তাহলে মারুতি ডিজায়ার আপনার জন্য একটি দুর্দান্ত বিকল্প হতে পারে। ভারতীয় বাজারে এই সেডান বহু বছর ধরেই সবচেয়ে বেশি বিক্রি হওয়া গাড়িগুলোর মধ্যে অন্যতম। মাত্র ৫০ হাজার রুপি ডাউন পেমেন্ট দিয়ে বাকি টাকা মাসিক কিস্তিতে শোধ করা যাবে।
মারুতি ডিজায়ার-এর প্রাথমিক এক্স-শোরুম দাম ভারতে প্রায় ৬.২৬ লাখ রুপি থেকে শুরু। কলকাতাতে এর বেস ভ্যারিয়েন্টের অন-রোড দাম প্রায় ৬.৯৭ লাখ রুপি। এই অন-রোড দামের মধ্যে এক্স-শোরুম মূল্য ছাড়াও আরটিও ফি, বিমা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় চার্জ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। আপনি যদি গাড়ি কেনার সময় ৫০ হাজার রুপি ডাউন পেমেন্ট করেন, তাহলে বাকি টাকা ব্যাংক বা ফিন্যান্স কোম্পানির কাছ থেকে লোন নিয়ে পরিশোধ করতে পারবেন।
যদি গাড়ির অন-রোড দাম প্রায় ৬.৯৭ লাখ রুপি হয় এবং আপনি ৫০ হাজার রুপি ডাউন পেমেন্ট করেন, তাহলে প্রায় ৬.৪৬ লাখ রুপি গাড়ির লোন নিতে হবে। এরপর কিস্তি নির্ভর করবে আপনি কত বছরের জন্য লোন নিচ্ছেন এবং ব্যাংক কত সুদ নিচ্ছে তার ওপর। যদি ব্যাংক বার্ষিক ৯.৮ শতাংশ সুদের হারে লোন দেয়, তাহলে ঋণের মেয়াদ অনুযায়ী কিস্তির পরিমাণ আলাদা হবে।
আপনি যদি ৪ বছরের বা ৪৮ মাসের জন্য লোন নেন, তাহলে প্রতি মাসে প্রায় ১৬,৩৩৪ রুপি কিস্তি দিতে হতে পারে। এই ক্ষেত্রে মোট সুদের পরিমাণ কম হবে, তবে মাসিক কিস্তি কিছুটা বেশি থাকবে। অন্যদিকে, যদি কিস্তির চাপ কম রাখতে চান এবং ৫ বছরের বা ৬০ মাসের লোন নেন, তাহলে প্রতি মাসে প্রায় ১৩,৬৭২ রুপি কিস্তি দিতে হতে পারে। তবে দীর্ঘ মেয়াদের কারণে মোট সুদের পরিমাণ কিছুটা বেশি হবে।
মারুতি ডিজায়ার গাড়ির ইঞ্জিন ও ফিচার
মারুতি ডিজায়ারের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো এর দুর্দান্ত মাইলেজ এবং কম রক্ষণাবেক্ষণ খরচ। এই কারণেই ব্যক্তিগত ক্রেতাদের পাশাপাশি ট্যাক্সি অপারেটরদের কাছেও এটি অত্যন্ত জনপ্রিয়। এছাড়া নতুন ডিজায়ারের ডিজাইন আগের তুলনায় আরও প্রিমিয়াম ও আকর্ষণীয় হয়েছে। কেবিনও আগের তুলনায় অনেক বেশি আধুনিক।

এই গাড়িতে রয়েছে ১.২ লিটারের জেড-সিরিজ, ৩-সিলিন্ডার পেট্রোল ইঞ্জিন, যা উন্নত জ্বালানি সাশ্রয় এবং মসৃণ ড্রাইভিংয়ের জন্য তৈরি। ইঞ্জিনটি ম্যানুয়াল এবং অটোমেটিক—দুই ধরনের গিয়ারবঙের সঙ্গেই পাওয়া যায়। যারা কম জ্বালানি খরচ চান, তাদের জন্য কোম্পানি সিএনজি ভ্যারিয়েন্টও অফার করে। কম রানিং কস্টের কারণে সিএনজি মডেলটি বেশ জনপ্রিয়।
আগের তুলনায় মারুতি ডিজায়ারে অনেক বেশি প্রিমিয়াম ফিচার দেওয়া হয়েছে। একাধিক আধুনিক সুবিধার কারণে এই সেডান এখন আরও উন্নত ও প্রযুক্তি সমৃদ্ধ। নিরাপত্তার জন্য এতে রয়েছে ৬টি এয়ারব্যাগ, এবিএস-এর সঙ্গে ইবিডি, ইলেকট্রনিক স্টেবিলিটি প্রোগ্রাম, হিল হোল্ড অ্যাসিস্ট, রিয়ার পার্কিং সেন্সর, রিয়ার পার্কিং ক্যামেরা, আইসোফিক্স চাইল্ড সিট মাউন্ট এবং ৩-পয়েন্ট সিট বেল্ট। এই আধুনিক সেফটি ফিচারগুলোর কারণে শহর ও হাইওয়ে—দুই ক্ষেত্রেই নিরাপদ ড্রাইভিংয়ের অভিজ্ঞতা পাওয়া যায়।
আরও পড়ুন: কিয়া কম দামের মধ্যে হাইব্রিড গাড়ি আনছে
আপনার বাজেট যদি ৭ থেকে ১০ লাখ রুপির মধ্যে হয় এবং এমন একটি গাড়ি চান, যা কম খরচে চলবে, দারুণ মাইলেজ দেবে, আধুনিক ফিচারে ভরপুর হবে এবং যার রিসেল ভ্যালুও ভালো, তাহলে মারুতি সুজুকি ডিজায়ার একটি অসাধারণ বিকল্প হতে পারে। মাত্র ৫০ হাজার রুপি ডাউন পেমেন্ট দিয়ে এই গাড়ি বাড়িতে নিয়ে আসা যায় এবং বাকি টাকা সহজ কিস্তিতে পরিশোধ করা সম্ভব। এই কারণেই আজও মারুতি সুজুকি ডিজায়ার ভারতীয় ক্রেতাদের কাছে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ও জনপ্রিয় সেডানগুলোর মধ্যে অন্যতম।
এজেড