অটোমোবাইল ডেস্ক
২৭ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৭ পিএম
আপনি যদি কম বাজেটে এমন একটি বাইক কিনতে চান, যা দুর্দান্ত মাইলেজ দেবে এবং রক্ষণাবেক্ষণের খরচও কম হবে, তাহলে বাজাজের কাছে একাধিক দারুণ বিকল্প রয়েছে। ৬৮ হাজার ৯৮৯ রুপি থেকে শুরু হওয়া প্ল্যাটিনা ১০০ থেকে বিশ্বের প্রথম সিএনজি বাইক ফ্রিডম ১২৫ এবং স্পোর্টি পালসার ১২৫—প্রতিটি প্রয়োজন ও বাজেটের জন্যই রয়েছে একটি উপযুক্ত মডেল। নিচে এই ৫টি বাইকের দাম, ফিচার এবং বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো।
বাজাজ প্ল্যাটিনা ১০০
এটি কোম্পানির সবচেয়ে সাশ্রয়ী এবং জনপ্রিয় কমিউটার বাইক। দিল্লিতে এর এক্স-শোরুম দাম প্রায় ৬৮,৯৮৯ রুপি থেকে শুরু। ডিজাইনের দিক থেকে বাইকটি খুবই সাধারণ এবং ব্যবহারিক। এতে রয়েছে আরামদায়ক লম্বা সিট এবং আকর্ষণীয় ডুয়াল-টোন রঙের বিকল্প। ফিচারের মধ্যে রয়েছে হ্যালোজেন হেডলাইটের সঙ্গে এলইডি ডিআরএল এবং একটি বেসিক অ্যানালগ ইনস্ট্রুমেন্ট কনসোল। এই বাইকে রয়েছে ১০২ সিসির সিঙ্গল-সিলিন্ডার, এয়ার-কুলড ইঞ্জিন, যা ৭.৯ পিএস শক্তি এবং ৮.৩ এনএম টর্ক উৎপন্ন করে। নিরাপত্তার জন্য সামনে ও পেছনে ড্রাম ব্রেকের সঙ্গে কম্বাইন্ড ব্রেকিং সিস্টেম বা সিবিএস দেওয়া হয়েছে। এর সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হল মাইলেজ। এটি সহজেই প্রতি লিটারে প্রায় ৭০ থেকে ৭৫ কিলোমিটার মাইলেজ দেয়, ফলে দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য এটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী।
বাজাজ সিটি ১১০এক্স
গ্রামীণ এলাকা এবং খারাপ রাস্তার কথা মাথায় রেখে এই বাইকটি শক্তপোক্ত লুক দিয়ে তৈরি করা হয়েছে। এর এক্স-শোরুম দাম প্রায় ৭০,৯৭৭ রুপি। রাফ-অ্যান্ড-টাফ লুক দেওয়ার জন্য এতে রয়েছে রাউন্ড হেডলাইট ক্র্যাশ গার্ড, রাবার ট্যাঙ্ক প্যাড এবং রিয়ার লাগেজ ক্যারিয়ার। ফিচারের মধ্যে রয়েছে বেসিক অ্যানালগ কনসোল, শক্তপোক্ত সাসপেনশন এবং আরামদায়ক লম্বা সিট। ইঞ্জিনের কথা বললে, এতে রয়েছে ১১৫.৪৫ সিসির ইঞ্জিন, যা ৮.৪৮ বিএইচপি শক্তি এবং ৯.৮১ এনএম টর্ক উৎপন্ন করে। নিরাপত্তার জন্য এতে সিবিএস-সহ অ্যান্টি-স্কিড ড্রাম ব্রেক দেওয়া হয়েছে, যা খারাপ রাস্তাতেও ভালো গ্রিপ দেয়। ১১ লিটারের ফুয়েল ট্যাঙ্কসহ এই মোটরসাইকেল প্রতি লিটারে প্রায় ৭০ কিলোমিটার মাইলেজ দেয়।
আরও পড়ুন: ১০০ সিসির সেরা ৫ মোটরসাইকেল
বাজাজ সিটি ১২৫এক্স
যারা একটু বেশি শক্তিশালী বাইক চান, তাদের জন্য এটি একটি দারুণ বাইক। এর প্রাথমিক এক্স-শোরুম দাম ৭০,৩৮১ রুপি। ডিজাইন অনেকটাই সিটি ১১০এক্স-এর মতো রাফ-অ্যান্ড-টাফ হলেও এটি দেখতে আরও বেশি মাসকুলার। ফিচারের মধ্যে রয়েছে মোবাইল চার্জিং পোর্ট, ভাইজারের উপর এলইডি স্ট্রিপ এবং শক্তপোক্ত বেলি প্যান। এই মোটরসাইকেলে রয়েছে ১২৪.৪ সিসির ডিটিএস-আই ইঞ্জিন, যা ১০.৭ বিএইচপি শক্তি এবং ১১ এনএম টর্ক উৎপন্ন করে। নিরাপত্তার জন্য এতে ফ্রন্ট ডিস্ক ব্রেকের বিকল্পও রয়েছে, যা কম্বাইন্ড ব্রেকিং সিস্টেম বা সিবিএস-এর সঙ্গে কাজ করে। বেশি শক্তিশালী ইঞ্জিন থাকা সত্ত্বেও এটি প্রতি লিটারে প্রায় ৬০ কিলোমিটার মাইলেজ দিতে সক্ষম।
বাজাজ ফ্রিডম ১২৫ সিএনজি
এটি বিশ্বের প্রথম সিএনজি বাইক। এর এক্স-শোরুম দাম ৯১,৫৬৬ রুপি থেকে শুরু। ডিজাইন অত্যন্ত আধুনিক এবং রোবোটিক লুকের, সঙ্গে রয়েছে সবচেয়ে লম্বা সিট। ফিচারের মধ্যে রয়েছে ব্লুটুথ কানেক্টিভিটি-সহ ডিজিটাল কনসোল, এলইডি হেডলাইট এবং সিএনজি ও পেট্রোলের মধ্যে পরিবর্তনের জন্য বিশেষ সুইচ। এতে রয়েছে ১২৫ সিসির ইঞ্জিন, যা ৯.৫ পিএস শক্তি উৎপন্ন করে। নিরাপত্তার জন্য রয়েছে ২ কেজির সুরক্ষিত সিএনজি ট্যাঙ্ক এবং ২ লিটারের পেট্রোল ট্যাঙ্ক, যা কঠোর নিরাপত্তা পরীক্ষায় উত্তীর্ণ। এছাড়াও রয়েছে ফ্রন্ট ডিস্ক ব্রেক এবং সিবিএস। মাইলেজের ক্ষেত্রে সিএনজিতে প্রতি কেজিতে ১০২ কিলোমিটার এবং পেট্রোলে প্রতি লিটারে ৬৫ কিলোমিটার পর্যন্ত চলতে পারে।
বাজাজ পালসার ১২৫
তরুণদের পছন্দের পালসার সিরিজের সবচেয়ে সাশ্রয়ী এবং স্পোর্টি বাইক এটি। দিল্লিতে এর এক্স-শোরুম দাম ৯২,১১১ রুপি থেকে শুরু। এর ডিজাইন অত্যন্ত মাসকুলার এবং আগ্রাসী, যেখানে পালসারের সিগনেচার ফুয়েল ট্যাঙ্ক, ক্লিপ-অন হ্যান্ডেলবার এবং স্প্লিট সিটের বিকল্প রয়েছে। ফিচারের মধ্যে রয়েছে নতুন ডিজিটাল-অ্যানালগ ইনস্ট্রুমেন্ট ক্লাস্টার এবং সিগনেচার টুইন এলইডি টেল ল্যাম্প। এই স্পোর্টি কমিউটার বাইকে রয়েছে ১২৪.৪ সিসির শক্তিশালী ইঞ্জিন, যা ১১.৬৪ বিএইচপি শক্তি এবং ১০.৮ এনএম টর্ক উৎপন্ন করে। নিরাপত্তার জন্য সামনে ২৪০ মিমি ডিস্ক ব্রেক, পিছনে ড্রাম ব্রেক এবং সিবিএস দেওয়া হয়েছে। স্পোর্টি পারফরম্যান্সের পাশাপাশি এই বাইক প্রতি লিটারে প্রায় ৫০ থেকে ৫৫ কিলোমিটার মাইলেজ দেয়।
এজেড