অটোমোবাইল ডেস্ক
০১ জুন ২০২৬, ০৬:৫৭ পিএম
বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের ঊর্ধ্বমুখী দামের এই সময়ে সাধারণ মানুষের পকেটের স্বস্তি দিতে বাজারে নতুন বাইক নিয়ে এলো হিরো। প্রতিষ্ঠানটি তাদের অত্যন্ত জনপ্রিয় মডেল সুপার স্প্লেন্ডরের একদম নতুন এবং আধুনিক সংস্করণ 'সুপার স্প্লেন্ডর এক্সটেক ২.০' বাজারে ছেড়েছে।
কোম্পানির দাবি, অত্যাধুনিক প্রযুক্তির এই বাইকটি প্রতি লিটার পেট্রোলে সর্বোচ্চ ৭২ কিলোমিটার পর্যন্ত মাইলেজ দিতে সক্ষম। চমৎকার সব ফিচার এবং দুর্দান্ত মাইলেজের এই বাইকটির দামও রাখা হয়েছে মধ্যবিত্তের নাগালের মধ্যেই।
নতুন হিরো সুপার স্প্লেন্ডর এক্সটেক ২.০ বাইকটিতে ব্যবহার করা হয়েছে ১২৪.৭ সিসির অর্থাৎ ১২৪.৭ ঘন সেন্টিমিটারের একক সিলিন্ডারবিশিষ্ট শক্তিশালী ইঞ্জিন। এই ইঞ্জিনটি ৭৫০০ আরপিএম-এ ১০.৭ বিএইচপি শক্তি এবং ৬০০০ আরপিএম-এ ১০.৬ নিউটন-মিটার টর্ক উৎপাদন করতে পারে।
জ্বালানি সাশ্রয়ের জন্য বাইকটিতে হিরোর নিজস্ব 'অ্যাডভান্সড প্রোগ্রামড ফুয়েল ইনজেকশন' এবং 'আই-থ্রি-এস' স্টার্ট-স্টপ প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। এর ফলে রাস্তায় জ্যামে বা ট্র্যাফিকে পড়লে বাইকের ইঞ্জিন নিজে থেকেই বন্ধ হয়ে যায় এবং ক্লাচ চাপলেই আবার সঙ্গে সঙ্গে চালু হয়, যা জ্বালানি অপচয় অনেকখানি রোধ করে। এছাড়া এতে যুক্ত 'ইন্টিগ্রেটেড স্টার্টার জেনারেটর' প্রযুক্তির কারণে স্টার্ট নেওয়ার সময় কোনো বাড়তি শব্দই হয় না।

ডিজাইন ও প্রযুক্তির দিক থেকে এই সংস্করণে বেশ কিছু বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। বাইকটিতে রয়েছে সম্পূর্ণ ডিজিটাল ইনস্ট্রুমেন্ট কনসোল এবং ব্লুটুথ কানেক্টিভিটি, যার সাহায্যে চালক নিজেই কনসোলে বাইকের মাইলেজ পরীক্ষা করতে পারবেন। যাতায়াতের পথে ফোন চার্জ দেওয়ার জন্য এতে একটি ২-অ্যাম্পিয়ার ইউএসবি পোর্টের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। অন্যদিকে নিরাপত্তার জন্য বাইকটিতে বিল্ট-ইন হ্যাজার্ড লাইট অর্থাৎ চারটি ইন্ডিকেটর একসঙ্গে জ্বলার সুবিধা এবং সামনের চাকায় ডিস্ক ব্রেকের অপশন দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: ১৫০ টাকা খরচে সারা মাস চলবে এই ইলেকট্রিক স্কুটার
এই নতুন বাইকটি গ্লসি ব্ল্যাক, ক্যান্ডি ব্লেজিং রেড, ম্যাট অ্যাক্সিস গ্রে, ম্যাট নেক্সাস ব্লু এবং ম্যাট চেস্টনাট ব্রাউন—এই পাঁচটি আকর্ষণীয় রঙে বাজারে পাওয়া যাবে। ভারতের বাজারে নতুন হিরো সুপার স্প্লেন্ডর এক্সটেক ২.০-এর এক্স-শোরুম মূল্য শুরু হয়েছে ৮৬ হাজার ৫০০ রুপি থেকে।
ভারতীয় রুপিকে বাংলাদেশি টাকায় রূপান্তর করলে এর মূল দাম দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ২১ হাজার টাকার কাছাকাছি। তবে বাংলাদেশে আমদানি শুল্ক, ট্যাক্স এবং অন্যান্য বাণিজ্যিক খরচ যোগ হওয়ার পর বাইকটি যখন দেশের বাজারে অফিশিয়ালি বা আনুষ্ঠানিকভাবে লঞ্চ হবে, তখন এর আনুমানিক দাম ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা থেকে ১ লাখ ৭৫ হাজার টাকার মধ্যে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এজেড