অটোমোবাইল ডেস্ক
০২ জুন ২০২৬, ০৬:০২ এএম
দিনের তুলনায় রাতে মোটরসাইকেল বা বাইক চালানো অনেক বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। পর্যাপ্ত আলোর অভাব, বিপরীত দিক থেকে আসা গাড়ির তীব্র হেডলাইট এবং চালকের ক্লান্তি, সব মিলিয়ে রাতের সড়ক যেকোনো বাইকারের জন্য চ্যালেঞ্জিং হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে যারা পেশাগত প্রয়োজনে প্রতিদিন দীর্ঘ পথ বাইক চালিয়ে যাতায়াত করেন, তাদের জন্য রাতের রাইডিংয়ে বাড়তি সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। একটু অসচেতনতার কারণেই ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা। রাতে মোটরসাইকেল চালানোর সময় সুরক্ষিত থাকতে এবং নিরাপদ রাইডিং নিশ্চিত করতে রাইডারদের কিছু সুনির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলা উচিত।
নিচে রাতের বেলা নিরাপদে বাইক চালানোর কিছু গুরুত্বপূর্ণ নিয়ম ও কৌশল দেওয়া হলো-
১. লাইটিং সিস্টেম শতভাগ সচল রাখুন
রাতের রাইডিংয়ের সবচেয়ে প্রধান হাতিয়ার হলো বাইকের আলো। রাস্তায় নামার আগেই নিশ্চিত করুন আপনার বাইকের হেডলাইট, টেইললাইট এবং ইন্ডিকেটর বা টার্নিং সিগন্যালগুলো ঠিকঠাক কাজ করছে কি না। হেডলাইটের কাচ নোংরা বা ঘোলা হয়ে থাকলে তা ভালো করে পরিষ্কার করে নিন, যাতে আলো পুরোপুরি রাস্তায় পড়ে।

২. হাই-বিম ব্যবহারের নিয়ম জানুন
রাতের বেলা হাই-বিম (High-beam) বা তীব্র আলো ব্যবহারের ক্ষেত্রে সতর্ক হোন। ফাঁকা বা অন্ধকার রাস্তায় হাই-বিম ব্যবহার করলেও, সামনে থেকে কোনো গাড়ি বা বাইক আসতে দেখলে সঙ্গে সঙ্গে লো-বিম (Low-beam) বা ডিপার ব্যবহার করুন। বিপরীত দিক থেকে আসা চালকের চোখে যেন আপনার বাইকের আলো ধাঁধিয়ে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখা একজন দায়িত্বশীল রাইডারের কর্তব্য।
৩. রিফ্লেক্টিভ গিয়ার বা উজ্জ্বল পোশাক পরুন
অন্ধকারে অন্য গাড়ি চালকরা যেন আপনাকে দূর থেকেই সহজে দেখতে পান, সেজন্য রাতে রাইড করার সময় উজ্জ্বল রঙের পোশাক পরা উচিত। সবচেয়ে ভালো হয় যদি আপনি একটি রিফ্লেক্টিভ বা রেডিয়াম জ্যাকেট বা ভেস্ট ব্যবহার করেন। এ ছাড়া হেলমেট এবং বাইকের পেছনে রিফ্লেক্টিভ স্টিকার লাগিয়ে রাখলে দূর থেকেও বাইকের উপস্থিতি টের পাওয়া যায়।
৪. হেলমেটের ভিসর পরিষ্কার রাখুন
রাতে রাইড করার সময় হেলমেটে কখনো ডার্ক বা রঙিন ভিসর (গ্লাস) ব্যবহার করবেন না। রাতের জন্য সবসময় স্বচ্ছ বা ক্লিয়ার ভিসর ব্যবহার করা উচিত। ভিসরে কোনো স্ক্র্যাচ বা ময়লা থাকলে রাতের আলো সেখানে প্রতিফলিত হয়ে চোখের সামনে ঝাপসা করে দিতে পারে। তাই রাইড শুরুর আগে হেলমেটের গ্লাসটি সুতি কাপড় দিয়ে মুছে নিন।

৫. গতি নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন
রাতে রাস্তার গর্ত, স্পিডব্রেকার বা ডিভাইডারগুলো দিনের মতো স্পষ্ট দেখা যায় না। তাই দিনের স্বাভাবিক গতির চেয়ে রাতে বাইকের গতি কিছুটা কমিয়ে রাখা বুদ্ধিমানের কাজ। একই সাথে সামনের গাড়ির একদম পেছনে না গিয়ে পর্যাপ্ত নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখুন, যাতে সামনের গাড়িটি হুট করে ব্রেক করলেও আপনি বাইক থামানোর জন্য পর্যাপ্ত সময় পান।
৬. ক্লান্তি ও শারিরীক অসুস্থতায় বিরতি নিন
দিনভর কর্মব্যস্ততার পর রাতে বাইক নিয়ে ফেরার সময় শরীরে ক্লান্তি ভর করা স্বাভাবিক। রাইড করার সময় চোখে ঘুম ঘুম ভাব এলে বা ক্লান্তি লাগলে জোর করে বাইক চালাবেন না। যেকোনো নিরাপদ স্থানে বাইক থামিয়ে চোখে-মুখে পানির ঝাপটা দিন, একটু চা খেতে পারেন অথবা অন্তত ৫ মিনিটের একটি ছোট বিরতি নিন। শারিরীকভাবে সুস্থ ও সজাগ থাকাটাই নিরাপদ রাইডিংয়ের প্রথম শর্ত।
আরও পড়ুন: ১৫০ টাকা খরচে সারা মাস চলবে এই ইলেকট্রিক স্কুটার
রাতের সড়ককে নিরাপদ করতে এবং যেকোনো ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে এই সাধারণ কিন্তু অত্যন্ত কার্যকরী নিয়মগুলো মেনে চলুন। আপনার সচেতনতাই আপনাকে নিরাপদে গন্তব্যে পৌঁছে দেবে।
এজেড