অটোমোবাইল ডেস্ক
২৯ মার্চ ২০২৬, ১১:৫১ এএম
ইলেকট্রিক গাড়ি বা ইভি কেনার কথা ভাবছেন? তবে ব্যাটারির চার্জ শেষ হয়ে যাওয়ার ভয় (Range Anxiety) আপনাকে দুশ্চিন্তায় ফেলতে পারে। এই সমস্যার সবচেয়ে সহজ সমাধান হলো বাড়িতে নিজস্ব চার্জিং পয়েন্ট তৈরি করা। এতে একদিকে যেমন পাবলিক চার্জিং স্টেশনের ভিড় এড়ানো যায়, অন্যদিকে খরচও কমে আসে অর্ধেকের বেশি। বাড়িতে ইভি চার্জার বসাতে মোট কত খরচ হবে এবং এর প্রক্রিয়া কী, তা নিচে আলোচনা করা হলো।
বাড়িতে কেন চার্জিং সেটআপ করবেন?
পাবলিক ফাস্ট চার্জারে (ডিসি) ৮০ কিলোওয়াট আওয়ারের (kWh) একটি ব্যাটারি চার্জ করতে যেখানে ১২০০ থেকে ২০০০ টাকা খরচ হয়, বাড়িতে সেটি মাত্র ৬০০ থেকে ৭০০ টাকায় সম্ভব। ঘরোয়া বিদ্যুতের ইউনিট প্রতি দাম কম হওয়ায় এবং রাতে গাড়ি পার্কিংয়ে রেখে চার্জ দেওয়ার সুবিধা থাকায় এটি অত্যন্ত সাশ্রয়ী ও আরামদায়ক।

চার্জারের ধরন ও ক্ষমতা
বাসা-বাড়িতে সাধারণত দুই ধরনের হোম চার্জার ব্যবহার করা হয়:
লেভেল ১ (স্লো চার্জার): সাধারণ ২৩০ ভোল্টের সকেট থেকে ৩.৩ কিলোওয়াট পর্যন্ত বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। এটি পূর্ণ চার্জ হতে ৮-১২ ঘণ্টা সময় নেয়।
লেভেল ২ (এসি ওয়াল-বক্স চার্জার): এটি ৭ থেকে ১১ কিলোওয়াট ক্ষমতার হয়ে থাকে। ৪-৬ ঘণ্টার মধ্যেই গাড়ি সম্পূর্ণ চার্জ হয়ে যায়।

খরচের বিস্তারিত হিসাব
একটি মানসম্মত লেভেল ২ চার্জার স্থাপনে ২৫,০০০ থেকে ১,০০,০০০ টাকা পর্যন্ত খরচ হতে পারে। খরচের খাতগুলো হলো-
ইউনিটের দাম: ৩.৩ থেকে ৭ কিলোওয়াট এসি চার্জারের দাম ২০,০০০ – ৬০,০০০ টাকার মধ্যে। ১১ কিলোওয়াটের থ্রি-ফেজ চার্জারের দাম পড়বে ৫৫,০০০ – ৯০,০০০ টাকা।
বৈদ্যুতিক ও সিভিল কাজ: ওয়্যারিং, এমসিবি (MCB) এবং আর্থিং বাবদ ১০,০০০ থেকে ৪০,০০০ টাকা খরচ হতে পারে।
অতিরিক্ত লোড: বাড়িতে বিদ্যমান লোড বাড়ানোর প্রয়োজন হলে (৫-১০ কিলোওয়াট) আরও ২০,০০০ থেকে ৫০,০০০ টাকা লাগতে পারে।
তবে সাধারণ সেটআপের ক্ষেত্রে খরচ ৩০,০০০ থেকে ৪০,০০০ টাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখা সম্ভব।
ইনস্টলেশন প্রক্রিয়া: ধাপে ধাপে
১. গাড়ি প্রস্তুতকারকের সঙ্গে যোগাযোগ: টাটা, এমজি বা হুন্দাই-এর মতো কোম্পানিগুলো গাড়ি কেনার সময় অনেক ক্ষেত্রে ভর্তুকিযুক্ত মূল্যে ইনস্টলেশন সুবিধা দেয়।
২. লোড অনুমোদন: আপনার বিদ্যুৎ বিতরণ কেন্দ্রের কাছে লোড বাড়ানোর জন্য আবেদন করতে হতে পারে।
৩. নিরাপত্তা পরীক্ষা: ইনস্টলেশন শেষে দক্ষ টেকনিশিয়ান দিয়ে আর্থিং ও ফিউজ সিস্টেম পরীক্ষা করে নিন।
৪. স্মার্ট মনিটরিং: স্মার্ট চার্জারের ক্ষেত্রে অ্যাপের মাধ্যমে চার্জিং অবস্থা পর্যবেক্ষণ করুন।

সুবিধা ও সাশ্রয়
প্রতিদিন ৫০-১০০ কিমি যাতায়াত করলে জ্বালানি তেলের তুলনায় মাসে হাজার হাজার টাকা সাশ্রয় হয়। এছাড়া রাতে ধীরগতিতে চার্জ দিলে ব্যাটারির আয়ু বৃদ্ধি পায় এবং গাড়ি সবসময় ব্যবহারের জন্য প্রস্তুত থাকে।
আরও পড়ুন: ইলেকট্রিক দুনিয়ায় ফিরছে সিয়েরা: টাটার বড় চমক
টিপস: ফাস্ট চার্জার দীর্ঘমেয়াদে ব্যাটারির ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে, তাই নিয়মিত ব্যবহারের জন্য বাড়ির এসি চার্জারই সেরা।
এজেড