অটোমোবাইল ডেস্ক
০৯ মার্চ ২০২৬, ০৮:৪১ এএম
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর বাংলাদেশেও এর পরোক্ষ প্রভাব পড়েছে। সম্প্রতি ইরানে যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ও মূল্য নিয়ে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই বৈশ্বিক সংকটের ছোঁয়া লেগেছে দেশের জ্বালানি বাজারেও। পেট্রোল পাম্পগুলোতে অকটেন ও পেট্রোলের সরবরাহ সীমিত হওয়ায় অনেক চালক বাধ্য হয়ে খোলা বাজার বা খুচরা বিক্রেতাদের কাছ থেকে চড়া দামে জ্বালানি সংগ্রহ করছেন। তবে সাময়িক স্বস্তি মিললেও এই অনিরাপদ উৎস থেকে কেনা তেল আপনার শখের মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনের জন্য বয়ে আনতে পারে স্থায়ী ক্ষতি।
খোলা বাজারের তেলের গুণগত মান ও ঝুঁকি
সাধারণত পেট্রোল পাম্পগুলোতে জ্বালানি সংরক্ষণের নির্দিষ্ট মানদণ্ড বজায় রাখা হয়। কিন্তু খোলা বাজারে ড্রাম বা বোতলে রাখা তেলের মান নিয়ন্ত্রণ করার কোনো ব্যবস্থা থাকে না। এতে মূলত দুই ধরনের সমস্যা দেখা দেয়-
ভেজাল ও অপদ্রব্য: খোলা বাজারে বিক্রি হওয়া তেলের সঙ্গে কেরোসিন বা নিম্নমানের রাসায়নিক মেশানোর অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এছাড়া খোলা পাত্রে তেল রাখলে তাতে ধুলাবালি ও জলীয় বাষ্প মিশে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে।

অকটেন রেটিং হ্রাস: পেট্রোল বা অকটেন অত্যন্ত উদ্বায়ী। প্লাস্টিকের বোতল বা খোলা পাত্রে দীর্ঘক্ষণ রাখলে এর দাহ্য ক্ষমতা বা 'অকটেন নাম্বার' কমে যায়, যা ইঞ্জিনের কম্বাশন প্রক্রিয়ায় বিঘ্ন ঘটায়।
ইঞ্জিনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব
খোলা বাজারের অনিরাপদ জ্বালানি ব্যবহারে মোটরসাইকেলের ইঞ্জিনে বেশ কিছু জটিল সমস্যা দেখা দিতে পারে:
ইঞ্জিন নকিং: জ্বালানির মান খারাপ হলে সিলিন্ডারের ভেতর সঠিক সময়ে বিস্ফোরণ ঘটে না, যাকে মেকানিক্যাল ভাষায় 'নকিং' বলা হয়। এটি ইঞ্জিনের পিস্টন ও কানেক্টিং রডের মারাত্মক ক্ষতি করে।
ফুয়েল ইনজেক্টর ও কার্বুরেটর জ্যাম: ভেজাল তেলের কারণে ফুয়েল ফিল্টার দ্রুত নষ্ট হয়ে যায়। বিশেষ করে আধুনিক এফআই (FI) ইঞ্জিনের সেন্সর ও ইনজেক্টরগুলো খুবই সংবেদনশীল হওয়ায় ময়লা যুক্ত তেল এগুলোকে স্থায়ীভাবে অকেজো করে দিতে পারে।
আরও পড়ুন: পেট্রোল-অকটেন বোতলে ভরে রাখলে ঘটতে পারে বিস্ফোরণ
মাইলেজ হ্রাস ও পাওয়ার লস: নিম্নমানের জ্বালানি পুরোপুরি পুড়তে পারে না, ফলে বাইকের টান বা এক্সিলারেশন কমে যায় এবং মাইলেজ উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।

স্পার্ক প্লাগ ড্যামেজ: তেলের সাথে মিশে থাকা অপদ্রব্য স্পার্ক প্লাগের মাথায় কার্বন জমিয়ে দেয়, যার ফলে বাইক স্টার্ট নিতে সমস্যা করে এবং মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
জ্বালানি সংকট থাকলেও ইঞ্জিনের দীর্ঘস্থায়ী সুস্থতার জন্য বিশ্বস্ত ও অনুমোদিত পেট্রোল পাম্প ছাড়া অন্য কোথাও থেকে তেল না নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ। যদি একান্তই জরুরি প্রয়োজনে খোলা বাজার থেকে তেল নিতে হয়, তবে অবশ্যই ভালো মানের ছাঁকনি বা ফিল্টার ব্যবহার করে তেল ঢালুন এবং দ্রুততম সময়ে ভালো মানের ফুয়েল এডিটিভ ব্যবহার করার চেষ্টা করুন।
এজেড