অটোমোবাইল ডেস্ক
০৯ মার্চ ২০২৬, ০৮:২৪ এএম
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির জেরে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার পর বাংলাদেশেও এর পরোক্ষ প্রভাব পড়েছে। সম্প্রতি ইরানে যুক্তরাজ্য ও ইসরায়েলের হামলার পর আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ও মূল্য নিয়ে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির সুযোগে দেশের বাজারে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় সাধারণ মানুষের মধ্যে তেল মজুত করার এক বিপজ্জনক প্রবণতা দেখা দিয়েছে, যা বড় ধরনের দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।

বর্তমানে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়লেও বাংলাদেশে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে দাম বাড়ানো হয়নি। তবে বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এবং সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় সরকার রেশনিং পদ্ধতিতে তেল বিক্রির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পাম্পগুলোতে নির্দিষ্ট পরিমাণের বেশি তেল বিক্রি না করায় অনেক গ্রাহক ব্যক্তিগত উদ্যোগে ড্রাম, কন্টেইনার কিংবা প্লাস্টিকের বোতলে পেট্রোল ও অকটেন সংগ্রহ করে বাড়িতে মজুত করছেন।

আরও পড়ুন: জ্বালানি সংকটে দুই চাকার যান 'সাইকেল'ই কি তবে সেরা সমাধান?
বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে দিয়ে বলছেন, প্লাস্টিকের বোতল বা অনিরাপদ পাত্রে এই দাহ্য পদার্থ রাখা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। পেট্রোল ও অকটেন অত্যন্ত উদ্বায়ী তরল, যা সাধারণ তাপমাত্রায় দ্রুত গ্যাসে রূপান্তরিত হয়। আবদ্ধ বোতলে এই গ্যাস জমতে থাকলে ভেতরে উচ্চচাপের সৃষ্টি হয়। সামান্য ঘর্ষণ, তাপ বা আগুনের সংস্পর্শ ছাড়াই এই চাপের কারণে বোতল ফেটে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।
বিশেষ করে আবাসিক এলাকায় এভাবে তেল মজুত করা কেবল নিজের পরিবারের জন্য নয়, বরং পুরো প্রতিবেশের জন্য অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি করে। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে অনুরোধ জানানো হয়েছে, যেন তারা আতঙ্কে প্রলুব্ধ হয়ে বাড়িতে তেল মজুত না করেন। যেকোনো ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে অনুমোদিত ফুয়েল ট্যাংকের বাইরে পেট্রোলিয়াম জাতীয় পদার্থ রাখা থেকে বিরত থাকাই শ্রেয়।
এজেড