Dhaka Mail Logo

অটোমোবাইল

বৈদ্যুতিক গাড়ি কেনার পরিকল্পনা করছেন? যে ৫টি বিষয়ে নজর দিলে খরচ বাঁচবে

অটোমোবাইল ডেস্ক

১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৫১ এএম

বর্তমান সময়ে পরিবেশবান্ধব যাতায়াত এবং জ্বালানি সাশ্রয়ের কথা মাথায় রেখে বৈদ্যুতিক গাড়ি বা ইভি (EV) কেনা একটি অত্যন্ত যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। পেট্রোল বা ডিজেল চালিত গাড়ির তুলনায় ইভি চালানো যেমন লাভজনক, তেমনি এটি বিলাসবহুল ও নিঃশব্দ ড্রাইভিং অভিজ্ঞতা প্রদান করে। তবে সঠিক গাড়িটি বেছে নেওয়ার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক খতিয়ে দেখা প্রয়োজন, যা আপনার দীর্ঘমেয়াদী খরচ এবং অভিজ্ঞতাকে আনন্দদায়ক করবে।

১. ড্রাইভিং রেঞ্জ এবং যাতায়াতের দূরত্ব

ইভি কেনার আগে আপনার দৈনিক যাতায়াতের গড় দূরত্ব কত, তা নির্ধারণ করা জরুরি। যদি প্রতিদিনের যাতায়াত ৫০ থেকে ৮০ কিলোমিটারের মধ্যে হয় এবং বাড়িতে চার্জিং সুবিধা থাকে, তবে ৩৫০ থেকে ৪০০ কিলোমিটার রেঞ্জের গাড়িই আপনার জন্য যথেষ্ট। তবে মনে রাখতে হবে, রাস্তায় ট্রাফিক, এসি ব্যবহার এবং গতিভেদে গাড়ির প্রকৃত রেঞ্জ অফিশিয়াল রেঞ্জের চেয়ে ২০-৩০ শতাংশ কম হতে পারে। বাংলাদেশে বর্তমানে ৩৫০ থেকে ৭০০ কিলোমিটার রেঞ্জের বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ইভি পাওয়া যাচ্ছে।

df64c6c10f5b-content

২. চার্জিং নেটওয়ার্ক ও অবকাঠামো

গাড়ি কেনার আগে আপনার যাতায়াতের পথে বা বাড়িতে চার্জিং সুবিধা আছে কি না, তা নিশ্চিত হতে হবে। বাংলাদেশে বর্তমানে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ প্রধান শহরগুলোতে ডিসি ফাস্ট চার্জিং স্টেশন স্থাপনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে। বাড়ির গ্যারেজে একটি ৭.২ কিলোওয়াট চার্জার ইনস্টল করে নিতে পারলে আপনি সারারাত চার্জ দিয়ে নিশ্চিন্তে গাড়ি চালাতে পারবেন। এছাড়া পাবলিক চার্জিং স্টেশনগুলোতে ৩০-৪০ মিনিটের মধ্যেই প্রায় ৮০ শতাংশ চার্জ সম্পন্ন করা সম্ভব।

৩. ব্যাটারির স্থায়িত্ব ও ওয়ারেন্টি

বৈদ্যুতিক গাড়ির প্রধান অংশ হলো এর ব্যাটারি। তাই গাড়ি কেনার সময় ব্যাটারির ওয়ারেন্টি পিরিয়ড ভালোভাবে দেখে নিন। বর্তমানে বেশিরভাগ কোম্পানি ৮ বছর বা ১.৬ লাখ কিলোমিটার পর্যন্ত ব্যাটারির গ্যারান্টি প্রদান করে। আপনি যদি ব্যবহৃত বা সেকেন্ড হ্যান্ড ইভি কেনার কথা ভাবেন, তবে ব্যাটারির 'হেলথ রিপোর্ট' বা বর্তমান সক্ষমতা পরীক্ষা করা বাধ্যতামূলক। ব্যাটারি যত উন্নত হবে, গাড়ির আয়ুও তত দীর্ঘ হবে।

ev-2-edit.min_-770x403

৪. সাশ্রয়ী বাজেট ও সরকারি সুবিধা

যদিও ইভির প্রাথমিক ক্রয়মূল্য সাধারণ ফুয়েল গাড়ির চেয়ে কিছুটা বেশি হতে পারে, তবে দীর্ঘমেয়াদে এর অপারেটিং কস্ট অনেক কম। সাধারণ বিদ্যুতে চার্জ দিলে প্রতি কিলোমিটারে খরচ হয় মাত্র ১ থেকে ১.৫ টাকা, যেখানে পেট্রোল গাড়িতে এই খরচ ৮ থেকে ১২ টাকা। এছাড়া ২০২৬ সালের বাজেটে ইভি আমদানিতে বিশেষ শুল্ক ছাড় এবং ট্যাক্স হলিডে সুবিধা দেওয়ায় নিবন্ধন ও অগ্রিম আয়করের ক্ষেত্রেও ক্রেতারা বড় ধরনের সাশ্রয় পাচ্ছেন।

আরও পড়ুন: জিপিএস ট্র্যাকার: গাড়ি চুরি ঠেকাবে এই ডিজিটাল লক

৫. নিরাপত্তা ও স্মার্ট ফিচার

আধুনিক ইভিগুলোতে অ্যাডভান্সড ড্রাইভার অ্যাসিস্ট্যান্স সিস্টেম (ADAS), ক্রুজ কন্ট্রোল এবং লেন অ্যাসিস্টের মতো ফিচার থাকে যা আপনার যাতায়াতকে নিরাপদ করে। গাড়ি কেনার সময় ফাইভ-স্টার সেফটি রেটিং এবং পর্যাপ্ত বুট স্পেস আছে কি না তা যাচাই করে নিন। চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আগে অবশ্যই একটি টেস্ট ড্রাইভ নিয়ে গাড়ির নিয়ন্ত্রণ এবং ব্রেকিং সিস্টেমের ওপর স্বচ্ছ ধারণা নেওয়া উচিত।

এজেড