অটোমোবাইল ডেস্ক
১৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৪৮ পিএম
একটি নতুন মোটরসাইকেল কেনা প্রতিটি তরুণের কাছেই স্বপ্নের মতো। শোরুম থেকে ঝকঝকে বাইকটি বের করার পর অনেকেরই ইচ্ছে করে হাইওয়েতে গতির ঝড় তুলতে। কিন্তু মনে রাখবেন, বাইকের ইঞ্জিনের দীর্ঘস্থায়ী আয়ু এবং স্মুথ পারফরম্যান্স নির্ভর করে প্রথম ১০০০ কিলোমিটার আপনি কীভাবে চালাচ্ছেন তার ওপর। অটোমোবাইলের ভাষায় একে বলা হয় ‘ব্রেক-ইন’ (Break-in) বা ‘রান-ইন’ পিরিয়ড। এই সময়ে সামান্য অসতর্কতা আপনার শখের বাইকটির ইঞ্জিনে স্থায়ী ক্ষতি করতে পারে।
ব্রেক-ইন পিরিয়ড কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?
মোটরসাইকেলের ইঞ্জিন তৈরি হয় শত শত সূক্ষ্ম ধাতব যন্ত্রাংশের সমন্বয়ে। নতুন অবস্থায় এই যন্ত্রাংশগুলো পুরোপুরি মসৃণ থাকে না। প্রথম ১০০০ কিলোমিটার চালানোর সময় ইঞ্জিনের পিস্টন, সিলিন্ডার এবং গিয়ারগুলো একে অপরের সঙ্গে ঘর্ষণের মাধ্যমে ঘষে-মেজে সেট হয়ে যায়। এই প্রক্রিয়ায় কিছু ধাতব কণা নির্গত হয় যা ইঞ্জিন অয়েলে মিশে যায়। সঠিকভাবে ব্রেক-ইন সম্পন্ন হলে ইঞ্জিন পূর্ণ ক্ষমতা পায় এবং জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত হয়।

অতিরিক্ত গতি ও আরপিএম-এ সতর্কতা
নতুন বাইকের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় নিষিদ্ধ কাজ হলো উচ্চ গতিতে চালানো। প্রথম ১০০০ কিলোমিটারে সাধারণত বাইকের আরপিএম (RPM) ৪০০০ থেকে ৫০০০-এর মধ্যে রাখা উচিত। অতিরিক্ত আরপিএম-এ বাইক চালালে ইঞ্জিনের পিস্টন ও সিলিন্ডারের দেওয়ালে মাত্রাতিরিক্ত তাপ তৈরি হয়, যা স্থায়ী স্ক্র্যাচ বা দাগ ফেলে দিতে পারে। এতে পরবর্তীতে ইঞ্জিনের কম্প্রেশন কমে যায় এবং বাইকের শক্তি কমে আসে।
পিলিয়ন বা অতিরিক্ত ওজন বহন না করা
ব্রেক-ইন পিরিয়ডে বাইকে ডাবল বা পিলিয়ন বহন না করাই ভালো। অতিরিক্ত ওজনের কারণে ইঞ্জিনের ওপর বাড়তি চাপ পড়ে, যা নতুন যন্ত্রাংশগুলোর স্বাভাবিক সেটিং প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে। এই সময়ে যতটা সম্ভব একা রাইড করুন এবং বাইকের ওপর বাড়তি লোড দেওয়া থেকে বিরত থাকুন।
হঠাৎ ব্রেকিং এবং হার্ড থ্রটল এড়িয়ে চলুন
নতুন বাইকে হঠাৎ করে কড়া ব্রেক (Hard Braking) দেওয়া ঠিক নয়। কারণ নতুন ব্রেক প্যাডগুলো ডিস্কের সঙ্গে সেট হতে কিছুটা সময় নেয়। একইভাবে হুট করে থ্রটল বাড়িয়ে গতি বাড়ানো বা ‘জর্কিং’ করা ইঞ্জিনের কানেক্টিং রডের ওপর চাপ সৃষ্টি করে। ধীরে ধীরে গতি বাড়ানো এবং স্মুথলি ব্রেক করার অভ্যাস করুন।

ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন ও সার্ভিসিং
ব্রেক-ইন পিরিয়ডের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো সঠিক সময়ে প্রথম ইঞ্জিন অয়েল পরিবর্তন করা। সাধারণত প্রথম ৫০০ থেকে ৭০০ কিলোমিটারের মধ্যে প্রথমবার অয়েল পরিবর্তন করতে হয়। কারণ ইঞ্জিনের ভেতরের ধাতব কণাগুলো অয়েলের সাথে মিশে থাকে, যা বেশিক্ষণ রাখলে ইঞ্জিনের ক্ষতি করে। এছাড়া ম্যানুয়াল অনুযায়ী প্রথম ফ্রি সার্ভিসিংটি সময়মতো করিয়ে নেওয়া অপরিহার্য।
আরও পড়ুন: মোটরসাইকেল কতদিন না চালালে ইঞ্জিন নষ্ট হয়?
একটানা দীর্ঘ পথ যাত্রা নয়
নতুন বাইক নিয়ে শুরুতেই কয়েকশ কিলোমিটারের লম্বা ট্যুরে যাওয়া ঠিক নয়। ইঞ্জিন যাতে অতিরিক্ত গরম না হয়, সেজন্য প্রতি ২০-৩০ কিলোমিটার পর পর বিরতি দিন। এতে ইঞ্জিন ঠান্ডা হওয়ার সুযোগ পায় এবং যন্ত্রাংশগুলো সুন্দরভাবে সেট হয়।
এজেড