অটোমোবাইল ডেস্ক
২৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০১:২৯ পিএম
আধুনিক নগরায়নে যানজটমুক্ত যাতায়াতের জন্য মেট্রো এবং মনোরেল— উভয়ই জনপ্রিয় মাধ্যম। বিশেষ করে মেগাসিটিগুলোতে এই দুই যানেরই ব্যবহার দেখা যায়। বাংলাদেশে ইতিমধ্যে চলছে মেট্রোরেল। অন্যদিকে মনোরোল চালুর উদ্যোগ শুরু হয়েছে। বাইরে থেকে দেখতে অনেকটা একই রকম মনে হলেও প্রযুক্তি, সক্ষমতা এবং কার্যকারিতার দিক থেকে মনোরেল ও মেট্রোরেলের মধ্যে রয়েছে বিস্তর ফারাক। এদের মূল পার্থক্যগুলো নিচে তুলে ধরা হলো-
১. ট্র্যাক বা রেললাইনের গঠন
মনোরেল: নামের মধ্যেই এর পরিচয় (মনো অর্থ একক)। এটি মাত্র একটি বিম বা পিলারের ওপর ভর করে চলে। সাধারণত কংক্রিটের তৈরি ৫০-৬০ সেমি চওড়া একটি লাইনের ওপর রাবার টায়ারের সাহায্যে এটি চলাচল করে।

মেট্রোরেল: এটি প্রচলিত ট্রেনের মতোই দুটি সমান্তরাল স্টিল ট্র্যাক বা পাতের ওপর দিয়ে চলে। তবে এর প্রযুক্তি সাধারণ ট্রেনের চেয়ে অনেক বেশি আধুনিক ও দ্রুতগতির।
২. যাত্রী ধারণক্ষমতা
মনোরেল: এটি তুলনামূলক ছোট এবং কম যাত্রী বহনে সক্ষম। ৪টি বগির একটি মনোরেলে সর্বোচ্চ ১০০০ জন যাত্রী যাতায়াত করতে পারে। এটি মূলত শহরের স্বল্প দূরত্বের ফিডার সার্ভিস হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

মেট্রোরেল: এটি বিশাল জনপদ সামাল দেওয়ার জন্য তৈরি। ৮টি বগির একটি মেট্রো রেক সহজেই ২৫০০ থেকে ৩০০০ যাত্রী বহন করতে পারে। বড় শহরের মূল গণপরিবহন হিসেবে এটিই সেরা।
৩. বিদ্যুৎ সরবরাহ ও নির্ভরযোগ্যতা
মনোরেল: এটি সাধারণত পিলারের পাশে থাকা মেটাল বার বা 'বাস-বার' থেকে বিদ্যুৎ নেয়। কোনো কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে পুরো লাইনটি স্থবির হয়ে পড়ে এবং ট্রেন চলাচলের বিকল্প সুযোগ থাকে না।
মেট্রোরেল: মেট্রো সাধারণত ওভারহেড ক্যাবল বা থার্ড রেইল থেকে বিদ্যুৎ নেয়। এর ব্যাকআপ সিস্টেম অত্যন্ত শক্তিশালী। লাইনের এক অংশে ত্রুটি থাকলেও অন্য অংশ থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল রাখা যায়।

৪. রক্ষণাবেক্ষণ ও খরচ
মনোরেল: রাবারের টায়ারে চলায় এটি দ্রুত ক্ষয়ে যায়, ফলে রক্ষণাবেক্ষণ খরচ অনেক বেশি। এছাড়া কারিগরি জটিলতা দেখা দিলে এটি মেরামত করাও বেশ ব্যয়সাপেক্ষ।
মেট্রোরেল: স্টিল ট্র্যাকে চলায় এর রক্ষণাবেক্ষণ সহজ এবং দীর্ঘস্থায়ী। খরচও মোনোরেলের তুলনায় অনেক সাশ্রয়ী।
৫. জরুরি অবস্থায় উদ্ধার কাজ
মনোরেল: কোনো মনোরেল মাঝপথে বিকল হয়ে পড়লে সেটিকে সামনে বা পেছনে নেওয়ার সুযোগ কম থাকে। ফলে পুরো নেটওয়ার্ক জ্যাম হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।

মেট্রোরেল: এতে সাইড ট্র্যাক বা টার্নআউট থাকে। ফলে কোনো ট্রেন নষ্ট হলে সেটিকে সরিয়ে অন্য লাইন সচল রাখা এবং যাত্রীদের দ্রুত উদ্ধার করা সহজ।
আরও পড়ুন: ট্রেনের শেষ বগিতে 'X' চিহ্ন থাকে কেন?
সারসংক্ষেপে বলা যায়, মেট্রো রেল হলো মেগাসিটির মূল লাইফলাইন যা অনেক বেশি নির্ভরযোগ্য ও শক্তিশালী। অন্যদিকে, মনোরেল হলো শহরের সরু রাস্তা বা নির্দিষ্ট ছোট এলাকায় যাতায়াতের জন্য একটি বিশেষায়িত মাধ্যম।
তথ্যসূত্র: ইন্টারনেট
এজেড