অটোমোবাইল ডেস্ক
১২ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ০৯:৩০ এএম
বর্তমানে হাইব্রিড গাড়ির জনপ্রিয়তা দ্রুত বাড়ছে। অনেকেই মনে করেন, যেহেতু হাইব্রিডে ব্যাটারি থাকে এবং ইঞ্জিন সবসময় চালু থাকে না, তাই হয়তো অয়েল পরিবর্তনের প্রয়োজনও কম পড়ে। কিন্তু বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, এই ধারণা একেবারেই সঠিক নয়।
নিয়মিত অয়েল পরিবর্তন অপরিহার্য
হাইব্রিড গাড়ির ইঞ্জিনও মূলত পেট্রোলচালিত ইঞ্জিন। ফলে তেল পরিবর্তনের নিয়মও প্রায় একই। সাধারণত প্রতি ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ মাইল পর বা বছরে দুই থেকে তিনবার অয়েল বদলানো প্রয়োজন। কিছু হাইব্রিড মডেলে যদি টার্বোচার্জড ইঞ্জিন থাকে, তবে আরও ঘন ঘন অয়েল পরিবর্তন করতে হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হাইব্রিড গাড়ির ইঞ্জিন যদিও সবসময় চালু থাকে না, তবুও বারবার ইঞ্জিন স্টার্ট–স্টপ হওয়ার কারণে নোংরা তেল ব্যবহার করলে দ্রুত ক্ষয় হতে পারে। তাই প্রতিবার অয়েল পরিবর্তনের সঙ্গে অয়েল ফিল্টার বদলানো এবং সঠিক গ্রেড (সিনথেটিক বা সেমি-সিনথেটিক) ব্যবহার করা জরুরি।
রক্ষণাবেক্ষণ কিছু ক্ষেত্রে সহজ
অয়েল পরিবর্তন প্রক্রিয়া হাইব্রিড ও সাধারণ গাড়ির ক্ষেত্রে একই। তবে হাইব্রিড গাড়ির কিছু অতিরিক্ত সুবিধা রয়েছে—
এতে থাকে রিজেনারেটিভ ব্রেকিং সিস্টেম, যা যান্ত্রিক ব্রেকের উপর চাপ কমায়। ফলে ব্রেক প্যাড ও রোটর দীর্ঘস্থায়ী হয়।
টেসলা’র মতো ইলেকট্রিক গাড়িতে ব্রেক প্যাড ১,০০,০০০ মাইল পর্যন্ত টিকে থাকার উদাহরণ পাওয়া গেছে।

হাইব্রিড গাড়িতেও থাকে একটি ১২-ভোল্ট ব্যাটারি, যা সাধারণ গাড়ির মতোই প্রতি ৩–৫ বছরে বদলাতে হয়। AGM বা লিথিয়াম-আয়ন ব্যাটারি হলে এটি ৪–৬ বছর পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।
হাই-ভোল্টেজ ব্যাটারি
হাইব্রিড গাড়ির মূল শক্তি হলো এর হাই-ভোল্টেজ ব্যাটারি। সঠিক ব্যবহার ও যত্নের মাধ্যমে এই ব্যাটারি গাড়ির লাইফটাইম পর্যন্ত চলতে পারে। উদাহরণস্বরূপ, টয়োটা হাইব্রিডে ১০ বছর বা ১,৫০,০০০ মাইল পর্যন্ত ওয়ারেন্টি দেওয়া হয়ে থাকে। যদিও এই ব্যাটারি পরিবর্তন খরচবহুল—প্রায় ১,০০০ থেকে ৬,০০০ মার্কিন ডলার পর্যন্ত।
আরও পড়ুন: মিতসুবিশির নতুন এক্সপ্যান্ডার ব্ল্যাক সিরিজ বাজারে
সুতরাং বলা যায়, হাইব্রিড গাড়ির ক্ষেত্রেও নিয়মিত অয়েল পরিবর্তন অপরিহার্য। অয়েল পরিবর্তনের সময়সীমা মূলত মডেলভেদে আলাদা হলেও এটি পেট্রোলচালিত গাড়ির সমান ঘন ঘনই প্রয়োজন হয়। তবে সামগ্রিকভাবে হাইব্রিড গাড়ির রক্ষণাবেক্ষণ তুলনামূলক কম, বিশেষত ব্রেক ও ইঞ্জিনের ক্ষেত্রে।
এজেড