অটোমোবাইল ডেস্ক
২৪ জুন ২০২৩, ১১:২২ এএম
পৃথিবীতে যত পণ্য তৈরি হয়, সেগুলোর একটা এক্সপায়ার ডেটও থাকে। ইলেকট্রোনিক্স যন্ত্রের এক্সপায়ার ডেট কম বেশি সবাই দেখে থাকবেন। এমনকি মেয়াদ উত্তীর্ণের তারিখ থাকে মোটরসাইকেলের হেলমেটেরও। যা অনেকেরই জানা নেই।
মোটরসাইকেলের হেলমেটের মেয়াদ শেষ হয় নাকি? বহু বাইকাররাই জানেন না একটা সময় পর হেলমেটেরও মেয়াদ ফুরিয়ে যায়। বেশিরভাগ নির্মাতা প্রতষ্ঠানই এই বিষয়টি গ্রাহকদের সঙ্গে লুকিয়ে রাখে। কিন্তু এ কথা সত্যি হেলমেটও এক্সপায়ার হয়।
আরও পড়ুন: হেলমেট না পরলে চালু হবে না এই বাইকের ইঞ্জিন
কোথাও এক্সপায়ারি ডেটের স্টিকার রয়েছে কিনা তা দেখার জন্য হেলমেট ঘুরিয়ে দেখেন তাহলেও লাভ হবে না। কারণ বাইকের হেলমেটের যে এক্সপায়ারি আছে তা সব প্রতিষ্ঠানই গোপন করে ফলে কোনও স্টিকার লাগানো থাকে না।
হেলমেটে এক্সপায়ার ডেট কেন লেখা থাকে না?
হেলমেটে যদি এক্সপায়ারি ডেট থাকত তাহলে সেখানেই একটি লেবেল লাগানো থাকত। উদাহরণস্বরূপ ‘Do Note Use this Helmet After XXX Date।’ কিন্তু এমন লেখা থাকে না এর কারণ এর ফলে আইনি সমস্যায় পড়তে পারে সংস্থাগুলো। তাই এই ঝুঁকি তারা নিতে চান না। হেলমেটে এক্সপায়ার ডেট না লিখে তারা গ্রাহকদের ইঙ্গিত দিতে চায় যে এমন কোনও তারিখ অস্তিত্ব রাখে না।
আরও পড়ুন: হেলমেট পরিষ্কার করার উপায়
কত দিন পর হেলমেট বদলাবেন?
হেলমেটের উৎপাদনকারীরা না লিখলেও সব যন্ত্রের মতো হেলমেটেরও এক্সপায়ারি ডেট রয়েছে। একটি প্রচলিত থাম্ব রুল রয়েছে যা হল ৫ বছর পর হেলমেট বদল করা উচিত। আপনার হেলমেটের বয়স যদি ৫ বছর হয়ে যায় তাহলে অবিলম্বে সেটি পরিবর্তন করে নিন। এই কাজ না করলে নানা সমস্যার মুখে পড়তে পারেন।
কেন বদলাতে হয়?
৫ বছর পর হেলমেট বদলানোর অন্যতম কারণ হেলমেট তৈরিতে ব্যবহৃত রেজিন, আঠা, পলিস্টাইরিন এবং অন্যান্য উপাদান এক থাকে না। সময়ের সঙ্গে উপাদানগুলোর কার্যকারীতা কমে যায়। যার ফলে হেলমেটের প্রতিরক্ষামূলক বৈশিষ্ট্য নষ্ট হয়ে যায়। আর হেলমেট যদি চালকের মাথা সুরক্ষিত রাখতে না পারে তাহলে সেটি বহন করার কোনও অর্থ দাঁড়ায় না।
মার্কেটিং কৌশল
৫ বছর পর হেলমেট পরিবর্তন করার যে থাম্ব রুল রয়েছে তা অনেক সংস্থাই বিশ্বাস করে না। কারণ তারা মনে করে হেলমেটের লাইফসাইকেল দীর্ঘস্থায়ী নয় বরং দ্রুত হেলমেট তার কার্যক্ষমতা হারিয়ে ফেলে বলে বিশ্বাস তাদের। অনেকের মতে, বিক্রি বাড়ানোর উদ্দেশ্যে এই কথা বলা হয়।
হেলমেট কী দিয়ে তৈরি?
হেলমেটের ক্ষেত্রে মূলত তিনটি বিষয় দেখা হয় যা হল - আউটার সেল কভারিং, ইনার লেয়ার এবং কাপড়/ফ্যাব্রিক লাইনার বা কমফোর্ট লাইনার। এগুলো ছাড়াও দেখা হয় ফেস শিল্ড এবং ভাইসর। এর মধ্যে আউটার সেল কভারিং সংঘর্ষের সময় আঘাতে বাঁধা দেয়। এটি শক্তপোক্ত রাখা হয় যাতে শেল ভেঙে না যায়।
আরও পড়ুন: বেশিরভাগ হেলমেটের রঙ কেন কালো হয়?
ইনার লেয়ার হল সংঘর্ষ শোষণ করতে সাহায্য করে। আঘাত কমিয়ে যে কোনও সম্ভাব্য ক্ষতি থেকে আপনার মাথা রক্ষা করে। আর ফ্যাব্রিক লাইনার আপনার মাথা এবং ত্বক-কে আরাম দিতে প্যাডিং হিসাবে কাজ করে। তাছাড়া হেলমেট এক টানা পড়তে থাকলে তার নাটবোল্ট ঢিলে হয়ে যায় এবং ধীরে ধীরে কার্যকারীতা কমে যায়।
পলিস্টাইরিন
পলিস্টাইরিন যা হেলমেটের ভিতর শক অ্যাবসর্বার হিসাবে কাজ করে সেটি নাকি দ্রুত ক্ষয়ে যায়। অনেকেই এই ধারনায় বিশ্বাস করেন। এ কথা সম্পূর্ণ ভুল। কারণটি পলিসটাইরিন অ-বায়োডিগ্রেডেবল। বহু বছর লাগে এটি ক্ষতি হতে। তাই এ ক্ষেত্রে নিশ্চিন্ত থাকতে পারেন।
এজেড