images

শিল্প ও সাহিত্য

আজ চৈত্র সংক্রান্তি: জীর্ণ পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে নতুন ভোরের অপেক্ষা

ফিচার প্রতিবেদক

১৩ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৮ এএম

ঋতুচক্রের অনিবার্য আবর্তনে জীর্ণ-পুরাতনকে বিদায় জানিয়ে মহাকালের গর্ভে বিলীন হতে চলেছে আরেকটি বাংলা বছর। আজ ৩০ চৈত্র, ১৪৩২ বঙ্গাব্দের অন্তিম দিন— চৈত্র সংক্রান্তি। চৈত্রের দহনদগ্ধ প্রখর দুপুরে শুকনো পাতার নূপুরধ্বনি আজ যেন বিদায়ের বিষণ্ণ সুরের পাশাপাশি নতুনের আহ্বানে নবজাগরণের নীরব প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে।

বাঙালির চিরায়ত ঐতিহ্যে চৈত্র সংক্রান্তি কেবল একটি পঞ্জিকার সমাপ্তি নয়, বরং এটি এক বছরের ক্লান্তি, জীর্ণতা ও গ্লানিকে মুছে ফেলার প্রতীকী মুহূর্ত। একসময় প্রতিটি ঋতুর সংক্রান্তি পালিত হলেও কালের বিবর্তনে চৈত্র ও পৌষ সংক্রান্তি আজ বাঙালির হৃদয়ে অম্লান হয়ে আছে। মনে করা হয়, চৈত্র সংক্রান্তিকে অনুসরণ করেই পহেলা বৈশাখ উদযাপনের এত জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজন, যা একে বাঙালির অন্যতম বড় অসাম্প্রদায়িক উৎসবে পরিণত করেছে।

ঐতিহ্য ও লোকাচার

চৈত্র সংক্রান্তিকে ঘিরে গ্রামগঞ্জ থেকে শহর— সর্বত্রই বিরাজ করছে উৎসবের আমেজ। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা শাস্ত্র মেনে স্নান, দান, ব্রত ও উপবাসের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করছেন। গ্রামীণ জনপদে বৃষ্টির আশায় কৃষকদের আয়োজনে চলছে গাজন উৎসব। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থানে মেলা, হালখাতা, লাঠিখেলা, সংযাত্রা ও রায়বেশে নৃত্যের মতো বৈচিত্র্যময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। এই দিনের বিশেষ আকর্ষণ হলো চড়ক উৎসব।

sonkranti

খাদ্য সংস্কৃতি

চৈত্র সংক্রান্তির খাদ্য সংস্কৃতিতেও রয়েছে স্বাতন্ত্র্য। এদিন আমিষ বর্জন করে নিরামিষ আহারের রীতি আজও বহমান। বিশেষ করে ১৪ প্রকার শাক দিয়ে ‘শাকান্ন’ রান্না এবং কোথাও কোথাও ছাতু খাওয়ার প্রচলন রয়েছে। চৈত্র মাসে রোগবালাই থেকে মুক্তি পেতে তেতো ও শাকসবজি খাওয়ার এই প্রাচীন জীবনবোধ আজও বাঙালির স্বাস্থ্য ও সংস্কৃতিকে একসূত্রে গেঁথে রেখেছে।

বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক আয়োজন

এ বছর চৈত্র সংক্রান্তি উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে আজ বিকেল ৩টায় শুরু হচ্ছে লোকশিল্প প্রদর্শনী। ৫০ জন যন্ত্রশিল্পীর সম্মিলিত অর্কেস্ট্রা ‘তোরা সব জয়ধ্বনি কর’ এবং ৩০ জন নৃত্যশিল্পীর পরিবেশনায় ধামাইল নৃত্য উৎসবের স্পন্দন বাড়িয়ে দেবে। এছাড়াও লোকসংগীত, জারিগান, পটগান, পুঁথিপাঠ ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবেশনা থাকছে এই আয়োজনে। বিশেষ আকর্ষণ হিসেবে মঞ্চস্থ হবে কালজয়ী যাত্রাপালা ‘রহিম বাদশা রূপবান কন্যা’।

ব্যবসায়িক জীবনে পুরনো হিসাব-নিকাশ চুকিয়ে নতুন করে ‘হালখাতা’ খোলার প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। আজ সূর্যাস্তের মধ্য দিয়ে ১৪৩২ বঙ্গাব্দকে বিদায় জানিয়ে আগামীকাল রবিবার বাঙালি মিলিত হবে পহেলা বৈশাখের সর্বজনীন উৎসবে। জরাজীর্ণতা ও সব অন্ধকার মুছে ফেলে আলোর পথে এগিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার নিয়ে নতুন বছরে পদার্পণ করবে গোটা জাতি।

এজেড