images

শিল্প ও সাহিত্য

১৮ বছরের অন্ধকার জীবন নিয়ে রাহিতুল ইসলামের নতুন বই ‘বাদলের কারাবাস’

ফিচার প্রতিবেদক

০২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৪:৫৬ পিএম

স্বপ্ন ছিল সম্রাট শাহজাহানের অমর সৃষ্টি তাজমহল দেখা। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে তাজমহলের বদলে কপালে জুটেছিল দিল্লির কুখ্যাত তিহার জেলের অন্ধকার প্রকোষ্ঠ। কেবল নামের আংশিক মিলের কারণে খুনের দায় ঘাড়ে নিয়ে জীবনের শ্রেষ্ঠ ১৮টি বছর হারাল বাদল ফরাজী। তাঁর জীবনের অবিশ্বাস্য ও রোমহর্ষ সত্য কাহিনি এবার উঠে আসছে উপন্যাসের পাতায়। প্রথমা প্রকাশিত ‘বাদলের কারাবাস’ শিরোনামের বইটির প্রি-অর্ডার শুরু হয়েছে প্রথমাডটকমসহ দেশের শীর্ষস্থানীয় ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মগুলোতে।

বাংলাদেশি নাগরিক বাদল ফরাজী ২০০৮ সালে নিছক ভ্রমণের উদ্দেশে ভারত গিয়ে দিল্লি পুলিশের হাতে ধরা পড়েন। অথচ তিনি ছিলেন পুরোপুরি নিরপরাধ। ভুল বিচারের শিকার হয়ে ভারতের নিম্ন আদালতে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড পান বাদল। নানা ঘটনার ঘনঘটার পরে দীর্ঘ এক যুগের বেশি সময় সেখানকার জেলে কাটিয়ে ২০১৮ সালে বন্দি-বিনিময় চুক্তির আওতায় দেশে ফিরতে পারেন তিনি। তবু আজও পুরোপুরি মুক্তি মেলেনি তার। এখনো তিনি বাংলাদেশের জেলে জীবন কাটাচ্ছেন। এরই মধ্যে বাদলের ফেরার অপেক্ষায় দিন গুনে গুনে মারা গেছেন তাঁর বাবা।

Badoler-Karabash

এই করুণ পরিস্থিতিতেও জেলে বসে নিজের সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছেন বাদল। তাঁর সেই সংগ্রাম, অশ্রু আর আইনি লড়াইয়ের গল্প নিয়ে গড়ে উঠেছে ‘বাদলের কারাবাস’ উপন্যাসের কাহিনি।একজন সাধারণ যুবকের জীবন কীভাবে বিচারব্যবস্থার জটিলতায় পিষ্ট হতে পারে, তারই এক প্রামাণ্য দলিল এই উপন্যাস।

লেখক রাহিতুল ইসলাম বলেন, বাদল ফরাজীর জীবন কোনো সিনেমার গল্পের চেয়ে কম নয়। তাঁর গ্রেপ্তার, ভুল বিচার ও জেলখানায় অমানবিক নির্যাতনের বর্ণনা, জেলে থাকা অবস্থায় তাঁর অভাবনীয় শিক্ষা অর্জন ও লড়াই, ফরাসি তরুণী জুলি ও মানবাধিকার কর্মীদের নিঃস্বার্থ প্রচেষ্টা এবং দেশে ফেরার পরও বাদলের আইনি বেড়াজালের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা লিখতে গিয়ে বারবার শিউরে উঠেছি। এটি কেবল একজন বাদলের গল্প নয়, বরং বিচারব্যবস্থার অসংগতির বিরুদ্ধে তাঁর নীরব প্রতিবাদ।’

বইটি সংগ্রহ করতে পাঠক এখনই প্রি-অর্ডার করতে পারেন প্রথমা ডটকম, রকমারিসহ অন্যান্য অনলাইন বুকশপে। প্রি-অর্ডারে পাঠকদের জন্য বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থাও রয়েছে। বইয়ের নাম বাদলের কারাবাস, লেখক রাহিতুল ইসলাম, প্রকাশক প্রথমা প্রকাশন, দাম ২৮০ টাকা।

এজেড