নিজস্ব প্রতিবেদক
২১ মার্চ ২০২২, ০৪:১৬ পিএম
বর্তমান সময়ে নানা কারণে বন রক্ষা করা দুরূহ ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন।
সোমবার (২১ মার্চ) আন্তর্জাতিক বন দিবস ২০২২ উদযাপন উপলক্ষে আগারগাঁও বন ভবনে এক আলোচনা সভায় তিনি এই কথা বলেন।
মাঠ পর্যায়ে জনবলের অভাব পূরণের নির্দেশ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘জনবল কম থাকলে দায়িত্ব পালন করা কঠিন। এর জন্য সবগুলো শূন্য পদ পূরণ করতে হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে জটিলতা থাকলে, প্রয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় আমরা এই পদ পূরণ করবো। এছাড়াও যেসব নতুন পদ তৈরি করা হয়েছে সেগুলো পূরণ করতে হবে।’
মাঝেমধ্যে বন রক্ষা করতে গিয়ে কর্মীদের আহত এবং নিহত হওয়ার প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী বলেন, ‘এর জন্য প্রয়োজন সাধারণ মানুষকে সম্পৃক্ত করা। আমাদের ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা, জেলা পর্যায়কে সম্পৃক্ত করতে হবে। একই সাথে আমাদের বন কর্মকর্তাদের সম্পৃক্ত করা হবে। তাহলেই জেলা প্রশাসকসহ সবার সহযোগিতা পাওয়া যাবে। যা একটি সামাজিক আন্দোলনে রূপ নেবে।’
বনে বসবাস করা আদিবাসীদের ইঙ্গিত করে মন্ত্রী বলেন, ‘যারা বনে বসবাস করেন তাদের বন রক্ষা করতে হবে৷ বনের যেসব স্থানে গাছ খালি হয়ে গেছে সেখানে গাছ লাগাতে হবে। আদিবাসীরা যদি বন ধ্বংস করেন, তাহলে তাদের বসবাসের স্থানও থাকবে না।’
বনে আধুনিক বাংলো এবং দালান তৈরি হয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘এসব স্থাপনা হলে তো বনই থাকবে না। বর্তমান ঢাকা শহরের মতোই ভবন তৈরি হচ্ছে বনে। এর জন্য যারা বনে থাকছেন আদিবাসী হিসেবে, আপনারা আদিবাসী হিসেবেই থাকেন। ভবিষ্যত প্রজন্মকে যেন ক্ষতির মধ্যে না ফেলেন, বন যেন আপনাদের মাধ্যমে ধ্বংস না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।’
সামাজিক বনায়নের ক্ষেত্রে কিন্তু সমস্যা রয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘আমার কাছে প্রায়ই অনেকে বসেন। এই আইন আমরা সহজ করে দেব। গাছ লাগানোর ২০ বছর পরেও গাছ কাটার অনুমতি পায় না। যদিও তা ১০ বছর হওয়ার কথা। এরজন্য উপকার ভোগীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
এছাড়াও বনাঞ্চলে যে সামাজিক বনায়ন করা হয়েছে, সেখানে তাদের মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়া হবে, গাছগুলো কেটে না ফেলে। ফলে বনে গাছ কাটার প্রয়োজন হবে না।’
ডিএইচডি/জেবি