নিজস্ব প্রতিবেদক
২৫ আগস্ট ২০২৬, ১০:১৭ পিএম
খরা সহনশীলতা জোরদারে আঞ্চলিক সহযোগিতা, ন্যায্য পানি বণ্টন, টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা ও উন্নত প্রযুক্তি হস্তান্তরের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।
মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) মঙ্গোলিয়ার উলানবাটরে জাতিসংঘের মরুকরণ প্রতিরোধ কনভেনশনের (ইউএবসিসিডি) ১৭তম কনফারেন্স অব দ্য পার্টিজের (কপ১৭) ‘অ্যাকসেলারেটিং ড্রাউট রেজিলিয়েন্স’ শীর্ষক মন্ত্রী পর্যায়ের সংলাপে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এমন অভিমত জানান।
পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশে খরা ও ভূমি অবক্ষয় পরস্পরের সঙ্গে সম্পর্কিত। দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে নিয়মিত খরা দেখা দেওয়ার পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির স্তরও কমে যাচ্ছে। অন্যদিকে উপকূলীয় এলাকায় লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ কৃষিজমি ও মিঠাপানির উৎসকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। এর সঙ্গে বন্যা ও নদীভাঙনের প্রভাব যুক্ত হয়ে পরিস্থিতি আরও জটিল করছে।’
তিনি বলেন, ‘দেশের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে প্রায় ৫ দশমিক ৪৬ মিলিয়ন হেক্টর জমি খরাপ্রবণ। এসব এলাকায় প্রায় ১৬ হাজার গভীর নলকূপ দিয়ে ভূগর্ভস্থ পানি উত্তোলনের ফলে অনেক স্থানে পানির স্তর দ্রুত নিচে নেমে যাচ্ছে। এ কারণে এসব এলাকায় নতুন সেচ কার্যক্রম সীমিত করা হয়েছে।’
খরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও কৃষকদের পরামর্শ দেওয়ার উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশ অ্যাগ্রো-মেটিওরোলজিক্যাল ইনফরমেশন সিস্টেমসের (বিএএমআইএস) মাধ্যমে খরার সূচক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। এর ভিত্তিতে কৃষকদের ফসলভিত্তিক পরামর্শ এসএমএস, ভয়েস কল ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে দেওয়া হচ্ছে।’
খরা মোকাবিলায় প্রকৃতিনির্ভর উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘ন্যাশনাল গ্রিন মিশনের আওতায় সারাদেশে ২৫ কোটি গাছের চারা রোপণের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি আগামী পাঁচ বছরে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল, নদী ও জলাশয় খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এতে ভূপৃষ্ঠের পানির প্রাপ্যতা বাড়ার পাশাপাশি ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমবে।’
উপকূলীয় অঞ্চলের পরিস্থিতি তুলে ধরে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, ‘সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং শুষ্ক মৌসুমে নদীর প্রবাহ কমে যাওয়ার কারণে লবণাক্ত পানি কৃষিজমি ও খাবার পানির উৎসে প্রবেশ করছে। এতে লাখো মানুষের জীবিকা হুমকির মুখে পড়ছে। এ সংকট মোকাবিলায় ন্যাশনাল গ্রিন মিশনের আওতায় উপকূলীয় ম্যানগ্রোভ বন সম্প্রসারণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে।’
গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র-মেঘনা অববাহিকায় পানি ব্যবস্থাপনা ও প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ‘শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানিপ্রবাহ নিশ্চিত করা ভূমি অবক্ষয় মোকাবিলারও গুরুত্বপূর্ণ উপায়। তাই খরা সহনশীলতা গড়ে তুলতে অববাহিকাভিত্তিক সহযোগিতা ও ন্যায্য পানি বণ্টনকে মূল স্তম্ভ হিসেবে বিবেচনা করা প্রয়োজন।’
মন্ত্রী বলেন, ‘বাংলাদেশের জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনায় ২০৫০ সাল পর্যন্ত খরা মোকাবিলার অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হয়েছে। ’তিনি ‘ইন্টারন্যাশনাল ড্রট রেজিলিয়েন্স অবজর্ভেটরি’ চালুর উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং বাংলাদেশের বিএএমআইএস-এর তথ্য এ ব্যবস্থার সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রস্তাব দেন। একই সঙ্গে খরা ও লবণাক্ততা সহনশীল ফসলের জাত উন্নয়ন ও সম্প্রসারণে প্রযুক্তি হস্তান্তর আরও জোরদারের আহ্বান জানান তিনি।
আবদুল আউয়াল মিন্টু বলেন, বাংলাদেশ খরা ও ভূমি অবক্ষয়ের তীব্র ঝুঁকির মুখোমুখি। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতিমূলক ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত অর্থায়ন এবং কার্যকর আঞ্চলিক সহযোগিতাভিত্তিক একটি আন্তর্জাতিক খরা সহনশীলতা কাঠামো গড়ে তুলতে ইউএনসিসিডির সদস্য রাষ্ট্রগুলোর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
সংলাপে বাংলাদেশ ছাড়াও বিভিন্ন দেশের মন্ত্রী, উপমন্ত্রী ও প্রতিনিধি দলের প্রধানরা অংশ নেন। এছাড়া এফএও, ইএসসিএপি, আইওএম, ইউনিসেফ, ইউএনডিআরআর, এইএফএডি, এআইআইবি ও আফ্রিকান ইউনিয়নসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক সংস্থার প্রতিনিধিরা পর্যবেক্ষক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
এমএইচ/এএম