Dhaka Mail Logo

কৃষি ও পরিবেশ

জাতীয় মৎস্য পক্ষ শুরু রোববার, মৎস্য পদক পাচ্ছেন ১৪ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান

নিজস্ব প্রতিবেদক

১৩ আগস্ট ২০২৬, ০৪:০৭ পিএম

‘রূপালি মৎস্য, স্বনির্ভর দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’ প্রতিপাদ্য নিয়ে আগামী রোববার (১৬ আগস্ট) শুরু হচ্ছে জাতীয় মৎস্য পক্ষ-২০২৬। এ উপলক্ষ্যে ১৩টি ক্যাটাগরিতে ১৪ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জাতীয় মৎস্য পদক (স্বর্ণপদক) দেওয়া হবে।

জাতীয় মৎস্য পক্ষের কেন্দ্রীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান এবার কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার আচমিতা ইউনিয়নের জর্জ ইনস্টিটিউট মিনি স্টেডিয়াম মাঠে অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাতীয় মৎস্য পক্ষের উদ্বোধন ও স্বর্ণপদক বিতরণ করবেন।

বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সচিবালয়ে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানিয়েছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। এসময় মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, মন্ত্রণালয়ের সচিব দেলোয়ার হোসেন, মৎস্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকসহ মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় মৎস্য পক্ষ উপলক্ষে রাজধানীসহ দেশের সব জেলা ও উপজেলায় নানা কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে- বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা, আলোচনা সভা, সেমিনার, মৎস্য মেলা, সফল মৎস্যচাষিদের সম্মাননা, পোনা মাছ অবমুক্তকরণ, প্রযুক্তি প্রদর্শনী, গণসচেতনতামূলক প্রচার এবং মৎস্যসম্পদ সংরক্ষণবিষয়ক বিভিন্ন কার্যক্রম। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে নিরাপদ মাছ উৎপাদন, টেকসই মৎস্যসম্পদ ব্যবস্থাপনা, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চাষাবাদ এবং মাছের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বাড়ানো হবে।’

জাতীয় মৎস্য পদকের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘জাতীয় মৎস্য পদক দেশের মৎস্যখাতে অসামান্য অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি দেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। এ বছর গবেষণা, প্রযুক্তি উদ্ভাবন, মৎস্য উৎপাদন, সম্প্রসারণ, প্রশাসনিক দক্ষতা এবং উদ্যোক্তা উন্নয়নসহ মোট ১৩টি ক্যাটাগরিতে ১৪ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এ পদকে ভূষিত হবেন। এর মাধ্যমে মৎস্যখাতে উদ্ভাবন, বিনিয়োগ ও উৎপাদন বৃদ্ধিতে সংশ্লিষ্টদের আরও উৎসাহিত করা হবে।’

মন্ত্রী বলেন, ‘দেশের অর্থনীতি, খাদ্যনিরাপত্তা ও পুষ্টিতে মৎস্য খাতের অবদান ধারাবাহিকভাবে বাড়ছে। বর্তমানে জাতীয় জিডিপিতে এ খাতের অবদান ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ এবং কৃষিজ জিডিপিতে ২২ দশমিক ৩ শতাংশ। প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ২ কোটি ৬ লাখ মানুষ এ খাতের সঙ্গে যুক্ত।’

তিনি জানান, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশে ৫১ দশমিক ১১ লাখ মেট্রিক টন মাছ উৎপাদন হয়েছে। মাথাপিছু দৈনিক মাছের প্রাপ্যতা বেড়ে ৬৭ দশমিক ৮০ গ্রামে পৌঁছেছে, যা জাতীয় পুষ্টি চাহিদার ৬০ গ্রামের চেয়েও বেশি।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাংলাদেশের সাফল্যের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, এফএওর ‘দ্য স্টেট অব ওয়ার্ল্ড ফিশারিজ অ্যান্ড অ্যাকুয়াকালচার ২০২৬’ প্রতিবেদন অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ মুক্ত জলাশয়ে মাছ আহরণে বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয় এবং বদ্ধ জলাশয়ে চাষের মাছ উৎপাদনে পঞ্চম। এছাড়া ইলিশ উৎপাদনে প্রথম, তেলাপিয়ায় অষ্টম, ক্রাস্টেশিয়ান আহরণে ষষ্ঠ এবং উপকূলীয় ও সামুদ্রিক মৎস্য আহরণে ১৩তম অবস্থানে রয়েছে বাংলাদেশ।

মন্ত্রী আরও বলেন, দেশে বর্তমানে নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৮ লাখ ১১ হাজার ৫৫২ জন। তাদের জীবিকা সুরক্ষায় নিষিদ্ধ মৌসুমে খাদ্য ও আর্থিক সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মা ইলিশ, জাটকা, সমুদ্র ও কাপ্তাই হ্রদের নিষেধাজ্ঞাকালে জেলেদের জন্য মোট ৯৯ হাজার টনের বেশি ভিজিএফ চাল বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি দুর্ঘটনায় নিহত, নিখোঁজ ও অক্ষম জেলেদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা এবং ১ হাজার ২৯৫ জনকে বিকল্প আয়বর্ধক কর্মসূচির আওতায় সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বিএনপির নির্বাচনি ইশতেহারের অঙ্গীকার অনুযায়ী ‘জাল যার, জলা তার’ নীতিতে জলমহাল ও হাওরের ইজারা প্রথা বিলুপ্ত করে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের জন্য উন্মুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের চিংড়িকে শক্তিশালী ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা এবং রপ্তানি আয় বাড়াতে সমন্বিত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।

এএইচ/এএম