নিজস্ব প্রতিবেদক
২৪ জুলাই ২০২৬, ০৬:১৪ পিএম
পরিবেশ সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা এবং দেশব্যাপী সবুজায়ন কার্যক্রমে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘মিশন গ্রিন বাংলাদেশ’-এর ৬৪ জেলার সমন্বিত বৃক্ষরোপণ অভিযান আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন করেছে।
জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইউনাইটেড নেশনস এনভায়রনমেন্ট প্রোগ্রাম (ইউএনইপি) বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে পরিচালিত এই দেশব্যাপী কর্মসূচিকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিশ্ব পরিবেশ দিবসের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। আয়োজকরা বলছেন, এই অর্জন শুধু একটি সংগঠনের নয়, বরং বাংলাদেশের পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু কার্যক্রমে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানায় মিশন গ্রিন বাংলাদেশ।
সংগঠনটি জানিয়েছে, দেশের ৬৪টি জেলায় একযোগে বৃক্ষরোপণ, পরিবেশ সংরক্ষণে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি মোকাবিলায় নাগরিক অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে পরিচালিত এই কর্মসূচি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসিত হয়েছে। পরিবেশবান্ধব ও স্থানীয় প্রজাতির গাছ রোপণ, সেগুলোর পরিচর্যা নিশ্চিত করা এবং সবুজায়নকে একটি দীর্ঘমেয়াদি সামাজিক আন্দোলনে রূপ দেওয়ার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হয়।
সংগঠনের মতে, এই স্বীকৃতি প্রমাণ করে যে, স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিকদের সম্পৃক্ত করে পরিচালিত পরিবেশগত উদ্যোগও আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে সক্ষম। একই সঙ্গে এটি ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে কাজ করার অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।
মিশন গ্রিন বাংলাদেশের এই কর্মসূচি বাস্তবায়নে দেশের বিভিন্ন পরিবেশবাদী, গবেষণা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সহযোগী হিসেবে যুক্ত ছিল। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা), সেন্টার ফর ক্লাইমেট চেঞ্জ অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ (সিথ্রিইআর), ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়, ওয়াটারকিপার্স বাংলাদেশ, বায়ুমণ্ডলীয় দূষণ অধ্যয়ন কেন্দ্র (ক্যাপস), সোসাইটি ফর এশিয়ান সার্কুলার ইনোভেশন নেটওয়ার্ক, স্বপ্নপুরী কল্যাণ সংস্থা, প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইনস্টিটিউট (পিএমআই) এবং সাসটেইনেবল রিসার্চ অ্যান্ড কনসালটেন্সি লিমিটেড (এসআরসিএল)।
সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক আহসান রনি বলেন, জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির এই স্বীকৃতি আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। দেশের পরিবেশগত সংকট মোকাবিলা এবং টেকসই সবুজ বাংলাদেশ গড়ে তুলতে এই কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
তিনি আরও বলেন, দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা হাজারো স্বেচ্ছাসেবক, সাধারণ মানুষ এবং সহযোগী প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত প্রচেষ্টার ফলেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে। এটি দেশের সব পরিবেশপ্রেমী মানুষের অর্জন।
সংগঠনটি জানায়, বিশ্ব পরিবেশ দিবস উপলক্ষে গত ৫ জুন দেশের ৬৪টি জেলায় একযোগে কর্মসূচি পালন করা হয়। এতে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ে শতাধিক পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রায় চার হাজার স্বেচ্ছাসেবক অংশ নেন। দিনব্যাপী কর্মসূচির আওতায় বৃক্ষরোপণ, পরিবেশ সংরক্ষণের দাবিতে মানববন্ধন, সচেতনতামূলক প্রচারণা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে পরিবেশ রক্ষার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া হয়।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে দেশের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, বসতবাড়ি এবং দীর্ঘমেয়াদে পরিচর্যার উপযোগী স্থানে ফলজ, বনজ ও ঔষধি গাছের চারা রোপণ করা হয়। পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব উপহার হিসেবে সুবিধাবঞ্চিত ও দরিদ্র পরিবারের মধ্যে বিনামূল্যে ফলজ ও বনজ গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
এ ছাড়া বায়ুদূষণ, জলবায়ু পরিবর্তন, বন সংরক্ষণ এবং জীববৈচিত্র্য রক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে দেশের বিভিন্ন জেলা শহরে মানববন্ধন, লিফলেট বিতরণ এবং সরাসরি জনসচেতনতামূলক প্রচারণা পরিচালিত হয়। সংগঠনটি বলছে, এই উদ্যোগকে কেবল একটি দিবসকেন্দ্রিক কর্মসূচির মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখা হয়নি। বরং রোপণ করা চারাগুলোর সংরক্ষণ, পরিচর্যা এবং নতুন প্রজন্মের মধ্যে পরিবেশ সচেতনতা গড়ে তুলতে বছরব্যাপী কার্যক্রম অব্যাহত রাখা হচ্ছে।
মিশন গ্রিন বাংলাদেশ জানিয়েছে, ভবিষ্যতেও দেশের তরুণ সমাজকে আরও ব্যাপকভাবে সম্পৃক্ত করে পরিবেশ সংরক্ষণ, বনায়ন, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং দেশের বাস্তুতন্ত্র রক্ষায় বৃহত্তর পরিসরে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে।
এএইচ/এফএ