নিজস্ব প্রতিবেদক
২০ মে ২০২৬, ০৪:১৫ পিএম
যত্রতত্র সড়ক ও জনসাধারণের চলাচল এলাকায় কোরবানির পশুর হাট বসানো বন্ধ এবং কোরবানির পর দ্রুত বর্জ্য অপসারণের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)। একইসঙ্গে পরিচ্ছন্ন ও পরিবেশবান্ধব নগর ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে ১০ দফা দাবি উত্থাপন করেছে সংগঠনটি।
বুধবার (২০ মে) ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নগর ভবনের সামনে আয়োজিত এক নাগরিক সমাবেশ থেকে এ দাবি জানানো হয়। সমাবেশে বাপা নেতারা বলেন, সঠিক পরিকল্পনা ও আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ছাড়া কোরবানির ঈদের সময় নগরীতে জনদুর্ভোগ কমানো সম্ভব নয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বাপার সহ-সভাপতি মহিদুল হক খান। সঞ্চালনা করেন যুগ্ম সম্পাদক হুমায়ুন কবির সুমন।
মহিদুল হক খান বলেন, বর্তমান সিটি করপোরেশনগুলোর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নাগরিক চাহিদার তুলনায় যথেষ্ট নয়। তাই আধুনিক ও সক্ষম ব্যবস্থাপনা গড়ে না তুললে পরিচ্ছন্ন নগর গঠন সম্ভব হবে না।
সাংগঠনিক সম্পাদক মিহির বিশ্বাস বলেন, বাপা দীর্ঘদিন ধরে কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে সচেতনতা তৈরি করে আসছে। সভা, সমাবেশ ও প্রচার কার্যক্রমের মাধ্যমে নাগরিকদের মধ্যে পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা চলছে।
কোষাধ্যক্ষ আমিনূর রসুল বলেন, ঢাকা শহরকে পরিচ্ছন্ন নগর হিসেবে গড়ে তুলতে হলে কোরবানির বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ গুরুত্ব দিতে হবে। কোনো ধরনের বর্জ্য যেন জনদুর্ভোগ সৃষ্টি না করে সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
যুগ্ম সম্পাদক জাভেদ জাহান বলেন, প্রতি বছরই দ্রুত বর্জ্য অপসারণের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন দেখা যায় না। তিনি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বর্জ্য অপসারণ নিশ্চিত করার দাবি জানান।
হুমায়ুন কবির সুমন বলেন, রাস্তার ওপর কিংবা ড্রেনের পাশে কোরবানি বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। একইসঙ্গে জীবাণুনাশক, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা উপকরণ এবং প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম পর্যাপ্ত পরিমাণে সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
চামড়ার ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত না হলে অনেকেই বাধ্য হয়ে বর্জ্য অযত্নে ফেলে দেন, যা পরিবেশ দূষণের বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায় বলে জানান সুমন।
সমাবেশ থেকে উত্থাপিত ১০ দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—
১. যত্রতত্র কোরবানির পশুর হাট বসানো পুরোপুরি বন্ধ এবং নির্ধারিত স্থানে পশু বেচা-কেনা নিশ্চিত করতে হবে।
২. পশুর হাটের প্রতিদিনের বর্জ্য দ্রুততম সময়ের মধ্যে সম্পূর্ণ অপসারণ করতে হবে।
৩. এলাকাভিত্তিক নির্ধারিতস্থানে কোরবানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।
৪. কোরবানির পর দ্রুততম সময়ের মধ্যে সকল বর্জ্য অপসারণ করতে হবে।
৫. দ্রুত বর্জ্য অপসারণে ও পরিবেশ দূর্গন্ধমুক্ত করণে পর্যাপ্ত প্রয়োজনীয় উপকরণ সময়মত সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে।
৬. পাড়া-মহল্লা ভিত্তিক নির্দিষ্ট স্থানে কোরবানি ও নিয়মিত পশু জবাই এর স্থায়ী কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে।
৭. খোলা জায়গা, আশেপাশের নদী, খাল, ড্রেন বা রাস্তায় বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে।
৮. জরুরি যোগাযোগ সেন্টার স্থাপন করে হটলাইন নম্বর চালু করার মাধ্যমে নাগরিকদের অভিযোগ দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে।
৯. সিটি করপোরেশনসহ জেলার অধীনস্থ পৌরসভার প্রশাসনকে মাঠপর্যায়ে তদারকি জোরদার করতে হবে।
১০. সরকার নির্ধারিত মূল্যে চামড়া বিক্রি নিশ্চিত এবং মূল্যবান এই জাতীয় সম্পদের যথাযথ সংরক্ষণ নিশ্চিত করতে হবে ।
সমাবেশ শেষে বাপার একটি প্রতিনিধি দল ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের কাছে স্মারকলিপি দেয়।
এএইচ/ক.ম