images

কৃষি ও পরিবেশ

কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে অচলাবস্থা: এগ্রিকালচারিস্টস ফোরামের ১৩ দাবি

ঢাকা মেইল ডেস্ক

১৩ মে ২০২৬, ০৪:২৫ পিএম

অবিলম্বে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটসহ বিভিন্ন কৃষি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে বিরাজমান অস্থিরতা ও অচলাবস্থা নিরসনে ১৩ দাবি জানিয়েছে এগ্রিকালচারিস্টস ফোরাম অব বাংলাদেশ (এএফবি)।  

আজ বুধবার (১৩ মে) সকাল সাড়ে ১১টায় ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে সংবাদ সম্মেলন করে এসব দাবি জানানো হয়। ফোরামের মহাসচিব কৃষিবিদ শেখ মুহাম্মদ মাসউদ ১৩ দফা দাবি তুলে ধরেন। 

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে— 
১। পেশাদার ও দক্ষ নেতৃত্ব নিশ্চিতকরণ: অনতিবিলম্বে ব্রীর মহাপরিচালক পদ থেকে অকৃষিবিদ আমলাকে সরিয়ে দক্ষ, নিরপেক্ষ ও প্রশাসনিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন একজন জ্যেষ্ঠ কৃষিবিজ্ঞানীকে পূর্ণকালীন দায়িত্ব দিতে হবে। একইসঙ্গে প্রতিষ্ঠান হিসেবে বিএআরসিকে আরও সমৃদ্ধ করতে হবে।

২। স্বচ্ছ জ্যেষ্ঠতা নীতিমালা প্রণয়ন: পদোন্নতি ও পদায়নের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা গোষ্ঠীগত হস্তক্ষেপ বন্ধে এবং অভ্যন্তরীণ গ্রুপিং নিরসনে একটি সুনির্দিষ্ট ও সর্বজনীন জ্যেষ্ঠতা নির্ধারণ নীতিমালা দ্রুত প্রণয়ন ও কার্যকর করা।

৩। আমলাতান্ত্রিকীকরণ বন্ধ: গবেষণা প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ পদে আমলা নিয়োগের নজিরবিহীন ও ক্ষতিকর সংস্কৃতি থেকে সরকারকে সরে আসতে হবে। গবেষণার ক্ষেত্রে অর্থছাড়ে দীর্ঘসূত্রিতা বন্ধ করা। 

৪। আভ্যন্তরীণ শৃঙ্খলা ও তদন্ত: সম্প্রতি ঘটে যাওয়া হামলা ও বিশৃঙ্খলার নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ী ব্যক্তিদের চিহ্নিত করতে হবে এবং প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা বিধির যথাযথ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে।

৫। ইন-সিটু পদোন্নতি: বিজ্ঞানীদের দীর্ঘদিনের পদবঞ্চনা দূর করতে এবং সুস্থ কর্মপরিবেশ ফিরিয়ে আনতে ইন-সিটু পদোন্নতির ব্যবস্থা কার্যকর করা। 

৬। মহাপরিচালক/পরিচালক পদে নিয়মিত পদায়ন: বছরের পর বছর রুটিন বা চলতি দায়িত্ব দিয়ে রাখার প্রথা পরিহার করতে হবে। নিয়োগ ও পদোন্নতির ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাব বিলুপ্ত করতে হবে।

৭। চাকরির বয়সসীমা বৃদ্ধি: শিক্ষক ও বিচারপতিদের ন্যায় অভিজ্ঞ বিজ্ঞানীদের অবসরের বয়সসীমা বৃদ্ধি করে তাঁদের মেধা কাজে লাগানোর সুযোগ দিতে হবে। 

৮। পেনশন বৈষম্য নিরসন: নার্সভুক্ত সব গবেষণা প্রতিষ্ঠানের জন্য অভিন্ন ও যুগোপযোগী পেনশন সুবিধা দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।

৯। স্বায়ত্তশাসন রক্ষা: কৃষি মন্ত্রণালয়ের অযাচিত প্রশাসনিক খবরদারি বন্ধ করে প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজস্ব আইন ও বিধি অনুযায়ী পরিচালনার পূর্ণ ক্ষমতা দিতে হবে।

১০। নিয়োগ কমিটিতে বিশেষজ্ঞ প্রাধান্য: নিয়োগ ও পদোন্নতি কমিটিতে আমলাদের আধিপত্য কমিয়ে কৃষি বিজ্ঞানীদের মতামত ও কারিগরি মূল্যায়নকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

১১। উচ্চশিক্ষা ও সক্ষমতা বৃদ্ধি: পিএইচডি ও পোস্ট-ডক গবেষণার বিষয় ও প্রার্থী নির্বাচনে ব্যক্তিগত প্রভাবমুক্ত থেকে যোগ্যতাকে প্রাধান্য দিতে হবে।

১২। উদ্ভাবক রয়্যালটি ও সম্মাননা: নতুন প্রযুক্তি ও জাত উদ্ভাবক বিজ্ঞানীদের জন্য আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী আকর্ষণীয় সম্মানী ও রয়্যালটি নিশ্চিত করতে হবে।

১৩। বিদেশ প্রশিক্ষণ ও কর্মশালায় বিজ্ঞানীদের অগ্রাধিকার: বিজ্ঞানীদের বৈদেশিক প্রশিক্ষণ, ওয়ার্কশপ ও কনফারেন্সে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে অযৌক্তিক আমলাতান্ত্রিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করতে হবে এবং প্রকৃত গবেষকদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও ছিলেন ড. মো. মোসাররফ হোসেন, সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ব্রি, ড. মো. আবু বকর, বারির সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, ড. মো. রাইসুল হায়দার, সাবেক মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা, বিনা, কৃষিবিদ গোলাম রাবয়ানী, এএফবির সাবেক মহাসচিব কৃষিবিদ আশরাফদ্দিন আহমেদ, সহ-সভাপতি কৃষিবিদ মো. হাসান আলী, সহ-সভাপতি ড. মো. শফিউদ্দিন, সাবেক পরিচালক, ডিএই, কৃষিবিদ মো. আব্দুল হক, সাবেক পরিচালক, বাংলাদেশ বেতার, কৃষিবিদ ডা. মো. শহিদুল্লাহ শরীফ, যুগ্ম সম্পাদক কৃষিবিদ আবু তাহের উজ্বল, সাংগঠনিক সম্পাদক কৃষিবিদ মো. মুজাহিদ, প্রচার সম্পাদক কৃষিবিদ ডা. মো. শাহ নেওয়াজ, প্রমুখ।
 
ক.ম/