নিজস্ব প্রতিবেদক
১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৭ পিএম
দেশের কৃষি খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে স্বীকৃতি দিতে শুরু হয়েছে ১১তম স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড–চ্যানেল আই কৃষি অ্যাওয়ার্ডের মনোনয়ন কার্যক্রম। যৌথভাবে এ আয়োজন করছে স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশ এবং চ্যানেল আই।
রোববার (১৯ এপ্রিল) থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ১১তম স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড–চ্যানেল আই কৃষি অ্যাওয়ার্ডের মনোনয়ন শুরু হয়েছে।
আয়োজকরা জানায়, ২০১৪ সালে যাত্রা শুরু করা এই কৃষি অ্যাওয়ার্ড ইতোমধ্যে দেশের অন্যতম স্বীকৃত প্ল্যাটফর্মে পরিণত হয়েছে। তৃণমূল পর্যায়ের কৃষক ও উদ্ভাবক থেকে শুরু করে টেকসই কৃষি উন্নয়ন এবং জলবায়ু সহনশীল উদ্যোগে অবদান রাখা ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে নিয়মিতভাবে সম্মান জানিয়ে আসছে এই আয়োজন। গত দশ বছরে কৃষিক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের জন্য ৮৮ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান এ পুরস্কারে ভূষিত হয়েছেন।
আয়োজকরা জানান, কৃষি এখনও বাংলাদেশের অর্থনীতি ও খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম প্রধান ভিত্তি। ১১তম আসরের লক্ষ্য হচ্ছে উদ্ভাবন, নেতৃত্ব ও অনুকরণীয় উদ্যোগের এমন গল্পগুলো সামনে তুলে আনা, যা কৃষি খাতের উন্নয়ন এবং মানুষের জীবনমান উন্নয়নে কার্যকর ভূমিকা রাখবে। এবারের আয়োজনে আজীবন সম্মাননাসহ বর্ষসেরা কৃষক (নারী ও পুরুষ), বর্ষসেরা মেধাবী সংগ্রামী (নারী ও পুরুষ), পরিবর্তনের নায়ক, সেরা কৃষি সাংবাদিকসহ মোট ১২টি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হবে।
স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী নাসির ইজাজ বিজয় বলেন, কৃষি অ্যাওয়ার্ডের ১১ বছরের পথচলা প্রমাণ করে সম্মিলিত উদ্যোগ দেশের উন্নয়নে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, এই প্ল্যাটফর্ম দেশের উদ্ভাবনী কৃষি উদ্যোগ ও খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে কাজ করা মানুষদের সামনে তুলে ধরছে এবং ভবিষ্যতের জন্য অনুপ্রেরণা তৈরি করছে।
চ্যানেল আইয়ের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফরিদুর রেজা সাগর বলেন, কৃষির উন্নয়ন ছাড়া উন্নত বাংলাদেশের স্বপ্ন পূরণ সম্ভব নয়। স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের সঙ্গে যৌথভাবে এই উদ্যোগ দেশের কৃষি খাতের প্রতি তাদের দায়বদ্ধতার প্রতিফলন বলে উল্লেখ করেন তিনি।
চ্যানেল আইয়ের পরিচালক ও বার্তা প্রধান শাইখ সিরাজ বলেন, দেশের কৃষকরাই অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি এবং খাদ্য নিরাপত্তার প্রকৃত যোদ্ধা। নানা বৈশ্বিক ও স্থানীয় চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করেও তারা প্রযুক্তিনির্ভর ও উদ্ভাবনী কৃষিতে যে অগ্রগতি সাধন করছেন, এই অ্যাওয়ার্ড সেই সাফল্যের গল্পগুলোই সামনে তুলে ধরছে এবং নতুন প্রজন্মকে কৃষিতে আগ্রহী করে তুলছে।
এদিকে ১১তম কৃষি অ্যাওয়ার্ডের জন্য আবেদন গ্রহণ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে, যা চলবে ৩০ জুন ২০২৬ পর্যন্ত। স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞ, শিক্ষাবিদ এবং সংশ্লিষ্ট খাতের অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের সমন্বয়ে গঠিত জুরি প্যানেল আবেদনগুলো মূল্যায়ন করবে। বছরের শেষের দিকে এক গালা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করা হবে।
আয়োজকদের আশা, এই উদ্যোগ দেশের কৃষি ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে দীর্ঘমেয়াদে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। আরও তথ্য ও মনোনয়নের জন্য ভিজিট করা যাবে: www.agrowaward.com।
এমআর/এএস