images

কৃষি ও পরিবেশ

নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারে বড় বাধা শনাক্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক

৩০ মার্চ ২০২৬, ০৮:১৩ পিএম

দেশের সুন্দরবন ও হাকালুকি হাওরের মতো জলবায়ু-সংকটাপন্ন অঞ্চলে নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ এখনো বড় চ্যালেঞ্জের মুখে। এই বাধাগুলো চিহ্নিত করতে এবং টেকসই সমাধান খুঁজতে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত হয়েছে একটি জাতীয় কর্মশালা। কেয়ার বাংলাদেশ এবং আইডিই বাংলাদেশ-এর যৌথ আয়োজনে ও যুক্তরাজ্য সরকারের অর্থায়নে পরিচালিত ‘নবপল্লব’ প্রকল্পের আওতায় এই কর্মশালাটি সম্পন্ন হয়।

কর্মশালায় হাকালুকি ও সুন্দরবন অঞ্চলের অভিজ্ঞতার আলোকে জানানো হয়, জাতীয় লক্ষ্যমাত্রা এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতার মধ্যে বড় ব্যবধান রয়েছে। উদ্বোধনী পর্বে আইডিই বাংলাদেশ-এর কান্ট্রি ডিরেক্টর সামির করিম বলেন, “জ্বালানির চাহিদা মেটাতে নবায়নযোগ্য উৎস অপরিহার্য হলেও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় নীতি বাস্তবায়ন এখনো বড় চ্যালেঞ্জ। এজন্য সরকার, বেসরকারি খাত ও স্থানীয় কমিউনিটির সমন্বয় প্রয়োজন।”

ব্রিটিশ হাইকমিশন ঢাকার ক্লাইমেট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট টিমের সদস্য ন্যাথানিয়েল স্মিথ বলেন, “বাংলাদেশের জ্বালানি রূপান্তর কেবল পরিবেশগত ইস্যু নয়, এটি দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার পথ। নবপল্লব প্রকল্পের মাধ্যমে যুক্তরাজ্য উদ্ভাবনী ও কমিউনিটি-নির্ভর সমাধানকে সহায়তা করছে।”

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপনকালে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. হোসেন জিল্লুর রহমান বলেন, “নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে রূপান্তরের পথে প্রধান বাধা প্রযুক্তিগত নয়, বরং কাঠামোগত ও রাজনৈতিক অর্থনীতির জটিলতা।” তিনি সবার জন্য সমান জ্বালানি অধিকার নিশ্চিত করতে অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থায়ন ও শক্তিশালী স্থানীয় বাজারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীরা নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রসারে প্রধান ৫টি বাধা চিহ্নিত করেন-

অর্থায়নের ঘাটতি: প্রাথমিক বিনিয়োগ ব্যয় অনেক বেশি হওয়া।

সরবরাহ শৃঙ্খল: দুর্গম এলাকায় যন্ত্রাংশ পৌঁছানো ও রক্ষণাবেক্ষণের দুর্বলতা।

নীতিগত জটিলতা: সরকারি নীতি ও মাঠপর্যায়ে প্রয়োগের মধ্যে সমন্বয়হীনতা।

বেসরকারি খাতের অনাগ্রহ: ব্যবসায়িক ঝুঁকি ও পর্যাপ্ত প্রণোদনার অভাব।

মূলধনের সমস্যা: গ্রামীণ বাজারে কার্যক্রম পরিচালনায় প্রয়োজনীয় মূলধন ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনার অভাব।

নবপল্লব প্রকল্পের চিফ অব পার্টি সেলিনা শেলি খান সমাপনী পর্বে সরকারি সংস্থা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে জোরালো সমন্বয়ের আহ্বান জানান। উল্লেখ্য, এই প্রকল্পের আওতায় বর্তমানে সৌর সেচ, বায়ো-ডাইজেস্টার এবং জীবিকাভিত্তিক সৌর প্রযুক্তি পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে, যা স্থানীয়দের আয় বাড়ানো ও জ্বালানি দারিদ্র্য কমাতে কাজ করছে।

কেয়ার বাংলাদেশ-এর নেতৃত্বাধীন এই কনসোর্টিয়ামে সিএনআরএস, কর্ডেইড, ব্র্যাক ইউনিভার্সিটি (সিথ্রিইআর), ডিএসকে, ফ্রেইন্ডশিপ, এইচআই, আইডিই বাংলাদেশ এবং প্রাকটিক্যাল অ্যাকশন একযোগে কাজ করছে।

এজেড