নিজস্ব প্রতিবেদক
৩০ মার্চ ২০২৬, ০৮:০৮ পিএম
জলবায়ু পরিবর্তন, অনিয়ন্ত্রিত নদী-খাল ভরাট এবং অতিরিক্ত ভূগর্ভস্থ পানির ব্যবহারের কারণে মানিকগঞ্জে পানির স্তর আশঙ্কাজনক হারে নিচে নেমে যাচ্ছে। এতে করে কৃষিকাজ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে সুপেয় পানির সংকট তৈরি হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ঘিওর ও সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকার কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আগের তুলনায় এখন সেচের জন্য অনেক বেশি গভীর থেকে পানি তুলতে হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে গভীর নলকূপেও পর্যাপ্ত পানি পাওয়া যাচ্ছে না। এতে সেচ ব্যয় বাড়ছে এবং ফসল উৎপাদন অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে।
ঘিওরের এক কৃষক বলেন, “আগে যেখানে অল্প গভীর নলকূপেই পানি পাওয়া যেত, এখন সেখানে অনেক নিচে গিয়েও পানি মিলছে না। এতে খরচ বাড়ছে, লাভ কমছে।”
স্থানীয় আরেক কৃষক বলেন, “এভাবে চলতে থাকলে কয়েক বছরের মধ্যে কৃষিকাজ করা কঠিন হয়ে যাবে। পানির জন্য বড় ধরনের সংকটে পড়তে হবে।”
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রাকৃতিক জলাধার ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় ভূগর্ভস্থ পানির স্বাভাবিক পুনর্ভরণ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। অনিয়মিত বৃষ্টিপাত ও দীর্ঘস্থায়ী খরার প্রভাবও পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
পরিবেশকর্মীরা মনে করেন, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং নদী-খাল, বিল ও পুকুর পুনরুদ্ধারের মাধ্যমে উপরিভাগের পানির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি। একই সঙ্গে পানি ব্যবহারে সচেতনতা বাড়ানোও প্রয়োজন।
একজন স্থানীয় পরিবেশকর্মী বলেন, প্রাকৃতিক জলাশয়গুলো দ্রুত দখলমুক্ত করে সংস্কার না করলে ভবিষ্যতে পানির সংকট মারাত্মক আকার নেবে।
গবেষকদের মতে, ঐতিহ্যবাহী গভীর পানির ‘বোনা আমন’ ধান চাষ ইতোমধ্যে ঝুঁকির মুখে পড়েছে। পানির স্তর আরও নিচে নামলে এই ধরনের ফসল চাষ প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়বে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এখনই কার্যকর উদ্যোগ না নিলে মানিকগঞ্জের মতো কৃষিনির্ভর এলাকায় পানি সংকট সামাজিক ও অর্থনৈতিক উভয় ক্ষেত্রেই বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে। এজন্য টেকসই পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার তাগিদ দেওয়া হচ্ছে।
এজেড