‘ন্যাপ বাস্তবায়িত হলে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা সহজ হবে’

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২২, ০৫:৫৮ পিএম
‘ন্যাপ বাস্তবায়িত হলে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা সহজ হবে’

বাংলাদেশে জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা (ন্যাপ) বাস্তবায়িত হলে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা সহজ হবে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন।

রোববার (১৮ সেপ্টেম্বর) বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী এ কথা জানান।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় প্রণীত জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনার চূড়ান্ত খসড়া নিয়ে ওই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।

এই পরিকল্পনা কেবল একটি জাতীয় প্রতিবেদন নয় উল্লেখ করে পরিবেশমন্ত্রী বলেন, এই পরিকল্পনা জলবায়ু অভিযোজনের ক্ষেত্রে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরবে।

মন্ত্রী জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় অবকাঠামোগত উন্নয়নের পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষের মাঝে অভিযোজনমূলক সক্ষমতা বৃদ্ধির ওপর আরও জোর দিতে হবে। বাংলাদেশে জলবায়ু সহিষ্ণু উন্নয়ন নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে সম্মিলিত প্রয়াসের মাধ্যমে জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনায় চিহ্নিত অভিযোজনমূলক কার্যক্রমসমূহ গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করা হবে।

কর্মশালায় সভাপতির বক্তব্যে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ বলেন, জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে প্রায় ১ দশমিক ১ মিলিয়ন হেক্টর ফসলি জমি ঝড়-বৃষ্টি, বন্যা-প্লাবন, জলোচ্ছ্বাস, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি এবং লবণাক্ততা থেকে সুরক্ষা পাবে। পাশাপাশি বার্ষিক ১০ দশমিক ৩ মিলিয়ন টন চাল অতিরিক্ত উৎপাদন হবে।

এছাড়াও গবাদি পশু ও মৎস্যসম্পদ থেকে মাথাপিছু পুষ্টি গ্রহণ বাড়বে জানিয়ে তিনি বলেন, ঘন ঘন জলবায়ুজনিত বিপর্যয় থেকে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোগুলোর সুরক্ষা নিশ্চিত হবে, ড্রেনেজ ব্যবস্থাপনা এবং তাপপ্রবাহের সমস্যার উন্নতির মাধ্যমে নগর এলাকার প্রায় তিন কোটি জনগণ উপকৃত হবে, পরিবহন খরচ ১০ শতাংশ হ্রাস পাবে, মশা ও জলবাহিত রোগ প্রতিরোধে চিকিৎসা বায় ১৫ শতাংশ হ্রাস পাবে এবং শহরের প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর আয় ৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পাবে।

এসবের পাশাপাশি প্রায় দেড় কোটি জলবায়ু উদ্বাস্তুর বিপন্নতা হ্রাস পাবে। সেই সঙ্গে বৃক্ষের আচ্ছাদন কমপক্ষে পাঁচ শতাংশ বৃদ্ধি হবে যাতে বাস্তুতন্ত্র ও জীববৈচিত্র্য সমৃদ্ধ হবে এবং মানুষের স্বাস্থ্য উন্নত হবে। পাশাপাশি সুনীল অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে এবং সার্বিকভাবে কার্বন নিঃসরণ কমবে।

আরও পড়ুন: ঢাবিতে জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক জাতীয় সেমিনার

কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সচিব শরিফা খান, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব ও ন্যাপ প্রণয়ন প্রকল্পের জাতীয় প্রকল্প পরিচালক মো. মিজানুল হক চৌধুরী এবং ইউএনডিপি বাংলাদেশ আবাসিক প্রতিনিধি স্টিফান লিইলার।

এছাড়া কর্মশালায় মুক্ত আলোচনা পরিচালনা করেন ন্যাপ প্রণয়ন প্রকল্প কনসর্টিয়ামের টিম লিডার প্রফেসর ডক্টর আইনুন নিশাত। পাশাপাশি এতে ন্যাপ উপস্থাপন করেন সিইজিআইএসের নির্বাহী পরিচালক মালিক ফিদা এ খান।

টিএ/আইএইচ