রোববার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

বাংলাদেশ-নেপাল পরিবেশ ও জলবায়ু সহযোগিতা জোরদারের তাগিদ

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:২২ পিএম

শেয়ার করুন:

বাংলাদেশ-নেপাল পরিবেশ ও জলবায়ু সহযোগিতা জোরদারের তাগিদ
পরিবেশমন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু ও নেপালের রাষ্ট্রদূত হে. মি. ঘনশ্যাম ভান্ডারি

বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যে পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ সচিবালয়ে মন্ত্রীর কার্যালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত নেপালের রাষ্ট্রদূত হে. মি. ঘনশ্যাম ভান্ডারির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে এ কথা বলেন তিনি।

বৈঠকে বাংলাদেশ ও নেপালের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। বিশেষ করে পরিবেশ সুরক্ষা, জলবায়ু পরিবর্তন, জীববৈচিত্র্য, বন ও প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবস্থাপনা এবং আঞ্চলিক পরিবেশগত সহযোগিতা নিয়ে মতবিনিময় করেন মন্ত্রী ও রাষ্ট্রদূত।

মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ও নেপাল জলবায়ু পরিবর্তনের ভিন্ন ধরনের ঝুঁকির মুখে থাকলেও দুই দেশের পরিবেশ ও প্রতিবেশব্যবস্থা পরস্পরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।

হিমালয়ের বরফ ও হিমবাহের পরিবর্তন, নদী অববাহিকার পরিবেশগত ভারসাম্য, অতিবৃষ্টি, বন্যা ও অন্যান্য জলবায়ুজনিত দুর্যোগ শুধু দুই দেশ নয়, পুরো দক্ষিণ এশিয়ার পরিবেশ এবং মানুষের জীবন-জীবিকায় প্রভাব ফেলে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আসন্ন কপ-৩১ সম্মেলনকে সামনে রেখে এসব অভিন্ন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় আঞ্চলিক সহযোগিতা, জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং যৌথ উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন পরিবেশমন্ত্রী।

বৈঠকে নেপালে সাম্প্রতিক ভয়াবহ দুর্ঘটনায় প্রাণহানিতে গভীর শোক প্রকাশ করেন আবদুল আউয়াল মিন্টু। নিহতদের পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

মন্ত্রী বলেন, এই শোকাবহ সময়ে বাংলাদেশ সরকার ও জনগণ নেপালের সরকার ও জনগণের পাশে রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী মানবিক সহায়তা ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখতে বাংলাদেশ প্রস্তুত বলেও জানান তিনি।

রাষ্ট্রদূত ঘনশ্যাম ভান্ডারি বাংলাদেশ ও নেপালের ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কথা তুলে ধরে পরিবেশ সুরক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের আগ্রহ প্রকাশ করেন।

দুই দেশের সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মধ্যে অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিনিময়, সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন উদ্যোগে পারস্পরিক সহযোগিতার সম্ভাবনাও তুলে ধরেন তিনি।

নেপালের দুর্ঘটনার পর দেশটির জনগণের প্রতি সংহতি প্রকাশ এবং সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেওয়ায় বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান রাষ্ট্রদূত।

তিনি বলেন, সংকটের সময়ে বাংলাদেশের এই সহমর্মিতা দুই দেশের জনগণের গভীর বন্ধুত্ব ও পারস্পরিক আস্থার প্রতিফলন। নেপালের সরকার ও জনগণ এ সহযোগিতা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করবে।

বৈঠকে পরিবেশ ও জলবায়ু সহযোগিতার পাশাপাশি বাণিজ্য, যোগাযোগ, পর্যটন, শিক্ষা এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে দুই দেশের ক্রমবর্ধমান সহযোগিতা নিয়েও আলোচনা হয়।

দুই পক্ষ মনে করে, আঞ্চলিক যোগাযোগ ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী হলে উভয় দেশের জনগণের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হবে।

এ ছাড়া পরিচ্ছন্ন ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে ভবিষ্যতে সহযোগিতা বাড়ানো দক্ষিণ এশিয়ায় সবুজ ও টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও মত দেন তারা।

বৈঠকে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ড. ফাহমিদা খানম উপস্থিত ছিলেন।

এমএইচ/এএম

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর