বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ঢাকা

নেপালে আকস্মিক বন্যায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশিত: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:১৬ এএম

শেয়ার করুন:

নেপালে আকস্মিক বন্যায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ
নেপালের ভোটেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যার পর কেন্দ্র দুটির বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। ফলে বাংলাদেশেও বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। ছবি: এআই দিয়ে তৈরি

নেপালে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় দুটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাংলাদেশে দেশটির বিদ্যুৎ সরবরাহ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে। গত ২৬ আগস্ট নেপালের ভোটেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যার পর কেন্দ্র দুটির বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে নেপালের সংবাদমাধ্যম কাঠমান্ডু পোস্ট।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্ষা মৌসুমে নদীর পানির প্রবাহ বাড়লে নেপালের জলবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে উৎপাদন বেড়ে যায়। এতে দেশের চাহিদা মেটানোর পর অতিরিক্ত বিদ্যুৎ প্রতিবেশী দেশগুলোতে রফতানি করা হয়।

বাংলাদেশও সম্প্রতি ভারতের বিদ্যুৎ সঞ্চালন গ্রিড ব্যবহার করে নেপাল থেকে বিদ্যুৎ আমদানি শুরু করেছিল। তবে বন্যায় বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রফতানির অনুমোদন পাওয়া দুটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সেই সরবরাহ এখন পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে।

বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রফতানি অনুমোদন ছিল নেপালের ২২ দশমিক ১ মেগাওয়াট ক্ষমতার চিলমি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র এবং ২৪ মেগাওয়াট ক্ষমতার ত্রিশূলি জলবিদ্যুৎকেন্দ্রের। বন্যায় কেন্দ্র দুটি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় গত সপ্তাহ থেকে এগুলোতে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে।

নেপাল বিদ্যুৎ কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দীর্ঘায়ু কুমার শ্রেষ্ঠ কাঠমান্ডু পোস্টকে বলেন, বাংলাদেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা দুটি কেন্দ্রই ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ কারণে বিকল্প কোনো প্রকল্প থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে ভারতীয় গ্রিডের মাধ্যমে বাংলাদেশে পাঠানোর সুযোগ দেওয়ার জন্য ভারতকে অনুরোধ করা হয়েছে।

নেপাল থেকে বাংলাদেশে বিদ্যুৎ রফতানি করা হচ্ছিল ভারতের সঞ্চালন গ্রিড ব্যবহার করে এবং এর বিনিময়ে মার্কিন ডলারে মূল্য পরিশোধ করা হয়।

কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভোটেকোশি নদীর আকস্মিক বন্যার পর নেপালের বেশ কয়েকটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র বন্ধ হয়ে গেছে। এতে দেশটির বিদ্যুৎ রফতানিও উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।

শুষ্ক মৌসুমেও নেপাল গড়ে প্রায় ১ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ রফতানি করত। তবে জলবিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বর্তমানে রপ্তানির পরিমাণ কমে প্রায় ৬৫০ মেগাওয়াটে দাঁড়িয়েছে।

একসময় শীতকালে বিদ্যুতের চাহিদা বেড়ে গেলে নেপালকে বিদ্যুৎ আমদানি করতে হতো। তবে জলবিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়ানোর ফলে বর্তমানে নিজেদের চাহিদা মিটিয়ে দেশটি দক্ষিণ এশিয়ায় বিদ্যুৎ রফতানিকারক হিসেবে অবস্থান তৈরি করেছে।

সূত্র: কাঠমান্ডু পেস্ট

এমআই

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর