বুধবার, ১৭ জুন, ২০২৬, ঢাকা

বিজ্ঞানীদের মৌলিক গবেষণায় আত্মনিয়োগ করতে হবে: কৃষিমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ১৭ জুন ২০২৬, ১২:৫৪ পিএম

শেয়ার করুন:

আমিন উর রশিদ
কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ

দেশকে এগিয়ে নিতে বিজ্ঞানীদের সত্যিকার অর্থে মৌলিক গবেষণায় আত্মনিয়োগ করতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ এবং কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।

তিনি বলেন, গবেষণা শুধু প্রকাশনার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, বরং তা হতে হবে নতুনত্বপূর্ণ, বৈশ্বিক গবেষণা থেকে স্বতন্ত্র এবং বাস্তব সমস্যার কার্যকর সমাধান দিতে সক্ষম। একই সঙ্গে মৎস্যখাতের উন্নয়ন, দেশীয় মাছের প্রজাতি সংরক্ষণ এবং মাছের রোগ প্রতিরোধে গবেষণার ওপর জোর দিতে হবে।


বিজ্ঞাপন


বুধবার (১৭ জুন) রাজধানীর মৃত্তিকা সম্পদ উন্নয়ন ইনস্টিটিউটের অডিটরিয়ামে বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিএফআরআই) ‘মিঠাপানির মাছের মড়ক প্রতিরোধে ভ্যাকসিন উদ্ভাবন’ প্রকল্পের ইনসেপশন ওয়ার্কশপে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশের মৎস্যখাতে বিপুল সম্ভাবনা ও সুযোগ রয়েছে। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে গবেষণা ও উদ্ভাবনের কোনো বিকল্প নেই। গবেষণার মাধ্যমে যারা উল্লেখযোগ্য অবদান রাখবেন, সরকার ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান হিসেবে তাদের বিশেষভাবে সম্মানিত করবে। সরকার গুণীজন, বিজ্ঞানী ও গবেষকদের যথাযথ মর্যাদা দিতে চায় এবং নতুন নতুন উদ্ভাবন ও প্রযুক্তি বিকাশে তাদের ভূমিকার দিকে প্রত্যাশার দৃষ্টি নিয়ে তাকিয়ে আছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে বহু গবেষণা প্রতিষ্ঠান থাকলেও এখনো গবেষণার একটি সুস্পষ্ট ও স্বতন্ত্র ধারা গড়ে ওঠেনি। দেশে যখন গবেষণা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে, তখন তার দৃশ্যমান ফলাফল থাকতে হবে এবং নিজস্ব গবেষণা-ধারা প্রতিষ্ঠা করতে হবে। গবেষকদের এমন গবেষণা করতে হবে, যা দেশের বাস্তব সমস্যার সমাধানে সরাসরি ভূমিকা রাখবে।

মন্ত্রী আরও বলেন, পানির গুণগত মান মাছ চাষের অন্যতম প্রধান নিয়ামক। পানিকে মাছের উপযোগী করে তুলতে পারলে মাছের রোগবালাই অনেকাংশে নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। এজন্য বিজ্ঞানী, গবেষক এবং মৎস্য কর্মকর্তাদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।


বিজ্ঞাপন


তিনি আরও বলেন, দেশের প্রাকৃতিক মাছের অনেক প্রজাতি এখন বিলুপ্তির ঝুঁকিতে রয়েছে। কৃষিতে অতিরিক্ত কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার, জলাশয়ের দূষণ এবং অন্যান্য পরিবেশগত কারণে প্রাকৃতিক জলাশয়ের জীববৈচিত্র্য ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে দেশীয় মাছের প্রজাতি সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধারে গবেষণা, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ জরুরি।

বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. অনুরাধা ভদ্রের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন। আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনক এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. শাহজামান খান। 

ওয়ার্কশপে প্রকল্পের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ড. মো. সিরাজুম মনির। এছাড়া মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিজ্ঞানী, গবেষক, মৎস্য বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট অংশীজনরা উপস্থিত ছিলেন। 

এএইচ/এএস
           

আপডেট পেতে ফলো করুন

Google NewsWhatsAppMessenger
সর্বশেষ
জনপ্রিয়

সব খবর