ফ্রেন্ডশিপের ফুটবল আয়োজনে আনন্দে মাতল কক্সবাজারের শিশুরা

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক
প্রকাশিত: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:১৫ পিএম
ফ্রেন্ডশিপের ফুটবল আয়োজনে আনন্দে মাতল কক্সবাজারের শিশুরা

খেলাধুলায় উপযুক্ত প্রশিক্ষণে জেলা পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন প্রত্যন্ত এলাকার শিক্ষার্থীরা। এমন সফলতা দেখিয়েছে কক্সবাজার উখিয়ার ভালুকিয়া পালং উচ্চ বিদ্যালয় ছাত্রছাত্রীরা। জাতীয় আন্তঃস্কুল গ্রীষ্মকালীন গেমস ২০২২-এ ফুটবলে চ্যাম্পিয়ন হয় এই বিদ্যালয়ের নারী ফুটবল টিম। এ উপলক্ষে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এসে বিজয়ীদের সংবর্ধনা দিয়েছে প্রশিক্ষণ দাতা সংস্থাগুলো।

সোমবারের (২৬ সেপ্টেম্বর) এই আয়োজনে রোহিঙ্গা ও স্থানীয় শিশুরা দিনভর আনন্দে কাটিয়েছে।

প্রশিক্ষণের আয়োজক সংস্থা ফ্রেন্ডশিপের সহকারী পরিচালক আহমেদ তৌফিকুর রহমান জানান, রোহিঙ্গাদের আগমনে স্থানীয়দের লেখাপড়া এবং প্রতিভার বিকাশ অনেকটা চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে। এমন সমস্যা সমাধানে প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে উখিয়ার শরণার্থী এলাকার রোহিঙ্গা এবং স্থানীয় শিশুদের দেওয়া হয় খেলাধুলায় প্রশিক্ষণ। কক্সবাজার উখিয়া উপজেলার সোনাপাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়, মরিচ্যা পালং মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ভালুকিয়া পালং মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পালং আইডিয়াল আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, উখিয়া সরকারি বহুমুখী মাধ্যমিক বিদ্যালয়, পালংখালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়সহ মোট সাতটি বিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রীদের দেওয়া এমন প্রশিক্ষণে সুফল বয়ে আনে তারা।

ভ্রাম্যমাণ স্পোর্টস লাইব্রেরি এবং ক্লাব সেন্টারের মাধ্যমে ভালুকিয়া পালং উচ্চ বিদ্যালয়সহ কক্সবাজারে উখিয়ার শরণার্থী এলাকার ছয়টি স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। বিশ্বখ্যাত ফ্রেঞ্চ ফুটবল ক্লাব প্যারিস সেন্ট জার্মেইন- পিএসজি এবং শরণার্থী ক্যাম্পে খেলাধুলায় সহায়তাকারী স্পোর্টিং ক্লাব প্রতিষ্ঠাতা ডাচ সংস্থা- ক্লাব।

ভালুকিয়া পালং উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত সংবর্ধনায় যোগ দেন ক্লাব-নেদারল্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক জান ভন হভেল, ফ্রান্সের প্যারিস সেন্ট জার্মেইনের পরিচালক নিকোলাস সেরেস।

child2

তারা জানান, স্থানীয় স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য এবং রোহিঙ্গা শিশু-কিশোরদের জন্য ফ্রেন্ডশিপ বাস্তবায়ন করছে ব্যতিক্রমী এক প্রকল্প। শুরু থেকেই এ ধরনের মহৎ উদ্যোগকে সহযোগিতা করে আসছে জাতিসংঘ শরাণার্থী বিষয়ক হাইকমিশন ইউএনএইচসিআর অফিস।

যেখানে জীবন-জীবিকা হুমকিতে, সেসব প্রান্তিক এলাকার জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করা এবং স্থানীয় জনগণের ক্ষমতায়ন নিয়ে কাজ করছে উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা ‘ফ্রেন্ডশিপ’।

২০০২ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে এ পর্যন্ত প্রতি বছর লাখ লাখ মানুষকে সহযোগিতা করে আসছে সংস্থাটি। দুর্গম প্রত্যন্ত এলাকার পাশাপাশি যেখানকার বাসিন্দারা জলবায়ু পরিবর্তনের শিকার এমন জনগোষ্ঠীকে স্বাবলম্বী করতে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে সংস্থাটি।

এক্ষেত্রে সফলতার মডেল হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে ফ্রেন্ডশিপ। সংস্থার আছে তিন হাজারের বেশি কর্মচারী, যাদের ৫০ ভাগ স্থানীয় বাসিন্দা। ফ্রেন্ডশিপের আছে আন্তর্জাতিক শক্তিশালী নেটওয়ার্ক ও দৃষ্টিভঙ্গি, যেখানে মানুষের আশা ও মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকার সমান সুযোগ থাকে।

বিইউ/জেবি